ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার বাহারি বেণীর রহস্য

ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার বাহারি বেণীর রহস্য

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৩ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৩:০৭ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঋতুপর্ণা চাকমা, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মাঠে তার পায়ের জাদু খেলার নৈপুণ্য ফুটিয়ে তোলে। আরেকটি দিকও আছে, যা দর্শকদের নজর এড়ায় না। ঋতুপর্ণার লম্বা বাহারি চুল। ছয়টি বেণী করে মাঠে নামেন এই ফুটবল তারকা।

খেলা তার ধ্যান-জ্ঞান। সৌন্দর্য নয় বরং খেলার জন্য সুবিধা পেতেই ছয়টি বেণী করেন তিনি। মাঠে নামার আগে অবশ্য এজন্য খানিকটা সময় বেশি ব্যয় করতে হয় তাকে। কেন এভাবে চুল বাধেন, ম্যাচের আগে চুল বাধতে ঋতুকে সাহায্যই বা কে করেন? 

খেলার সময় একটু সমস্যা তৈরি হয় সেজন্যই এভাবে চুল বাধেন তিনিঋতু জানিয়েছেন,  তার চুল লম্বা। খেলার সময় একটু সমস্যা তৈরি হয় সেজন্যই এভাবে চুল বাধেন তিনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, কাউকে অনুকরণ করে নয়, চুলের এই বাহারি নকশার আইডিয়া ঋতুরই।  সৌন্দর্য এর মূল কথা নয়, সুবিধাকে প্রাধান্য দিতেই এভাবে ছয়টি বেণী করে মাঠে নামেন এই ফুটবল কন্যা।

দলের একজন আরেকজনের বন্ধু। সুখ-দুঃখের সঙ্গী। ক্যাম্পই তাদের দ্বিতীয় বাড়ি। কখনো তারই সতীর্থ ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার আবার কখনো অন্য সতীর্থ সুরমা আক্তার তাকে এভাবে চুল বেধে দেন।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি নিয়ে দেশে এসেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বুধবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন ফুটবল কন্যারা। সেখান থেকে ছাদ খোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ করে বাফুফে কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছেন মেয়েরা। কিন্তু বাসে ওঠার পর আহত হন ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা।

রাস্তার পাশে থাকা বিলবোর্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাত পান ঋতুপর্ণা। তার মাথার একপাশ কেটে গেছে। এরপর টিম বাস থেকে নামিয়ে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হয়। মাথায় দুটি সেলাই লেগেছে ঋতুপর্ণার। হাসপাতাল থেকে ফিরে বর্তমানে বাফুফে ভবনে আছেন তিনি। ঋতুর জন্য শুভকামনা।

 ঋতুর জন্য শুভকামনা।তৃতীয় শেণিতে থাকা অবস্থায় সমবয়সীদের সঙ্গে পুতুল খেলার কথা!  ঘাড়ের উপর যদি বড়দের নেয়া শট উড়ে আসে! এই উদাহরণের নাম ঋতুপর্ণা। ইতিহাস গড়েছেন তিনি। ঐ বয়সেই মাঠ কাঁপিয়েছেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে। রাঙামাটি থেকে উঠে আসতে গিয়ে পাহাড়ের মতো চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে তাকে। সেখান থেকে তিনি এখন অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ফুটবল দলের সোনালি ইতিহাসের অংশীদার। 

বাবা কৃষক। অনেক সময় প্র্যাকটিসে যাওয়ার টাকা থাকত না। বাবা ধার করে এনে দিতেন। বাবা বলতেন, ভালো করে খেল। জাতীয় দলে খেলতে হবে। বাবার কথা রেখেছেন ঋতুপর্ণা, কিন্তু  ঋতুপর্ণার এত বড় সাফল্য দেখে যেতে পারেননি তার বাবা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস