আজ বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবস

আজ বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবস

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১৭ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২  

বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবস আজ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবস আজ। ছবি: সংগৃহীত

প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সব দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সব দিবস গুলোর মধ্যে একটি হলো বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবস।

২২ সেপ্টেম্বর, আজ বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে দিবসটি। এ উপলক্ষে দেশের ৬০টি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিবছর দিবসকে কেন্দ্র করে নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হয়। বিশেষ করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সামনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এ বছর দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে ভিন্নভাবে সাজানো হয়েছে। 

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দিবসকে কেন্দ্রকে জনসচেতনতার লক্ষ্যে পোস্টার, লিফলেট এবং বিভিন্ন সড়ক দ্বীপে ফেস্টুন স্থাপন করা হবে। 

দিবসটির উৎপত্তি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত সাংবাদিক ও লেখক ইয়ান জ্যাকবস তার দি ডেথ অ্যান্ড লাইফ অব গ্রেট আমেরিকান সিটিস বইয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রথম ধারণা দেন। এটি নগর পরিকল্পনায় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৬২ সাল থেকে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে শুধুমাত্র পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তারা এই ধারা অব্যাহত রেখেছে। এরপর ইউরোপে এই ধারণাটির প্রসার ঘটতে শুরু করে।

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরো ব্যাপকতা লাভ করে ৭০ দশকে জ্বালানি সংকটের সময়। ১৯৭৪ সালে সুইজারল্যান্ডে গাড়িমুক্ত দিবস পালন করা হয়। নব্বই এর দশকে এই উদ্যোগের আরো প্রসার ঘটে। যেমন বিশ্বব্যাপী কারফ্রি সিটি নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। এরপর ১৯৯৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সে জাতীয়ভাবে ৩৪টি শহরে গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়।

যান্ত্রিক বাহনকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যে বায়ু দূষণরোধ করা সম্ভব, তা এ সময় প্রতিয়মান হয়েছে। এজন্যই সারাবিশ্বে এখন পরিবেশবান্ধব নগর যাতায়াতকে প্রধান্য দিয়ে হাঁটা ও সাইকেলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহরে স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভূমির মিশ্র ব্যবহার হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এই মিশ্র এলাকাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে শৃঙ্খলা ও বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ঢাকা শহরে ভূমির এই মিশ্র ব্যবহার স্বল্প দূরত্বে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করছে। বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ যাতায়াত ৫ কিমি এর মধ্যে, যার অর্ধেক যাতায়াত আবার ২ কি.মি. এর মধ্যে হয়ে থাকে। এই স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য সাইকেলে ও হেঁটে নিরাপদে চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা এবং অধিক দূরত্বের জন্য গণপরিবহন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

এখনও ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়ি করে ১০ শতাংশের নিচে ট্রিপ সংঘটিত হয়ে থাকে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে যানজট আরো বাড়বে। বর্তমানে যানজটের কারণে প্রতিদিন অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। জ্বালানির অপচয় হচ্ছে, বাড়ছে দূষণ। এজন্য বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকে। বর্তমানে ঢাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ৪০টি নতুন ব্যক্তিগত গাড়ি। এছাড়া মোটরসাইকেলের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটিও দুর্ঘটনা ও দূষণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তাই উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার বিকল্প নাই।

আমাদের রিভাইজড স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান ২০১৫ থেকে ২০৩৫ এর পথচারীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। সাইকেলে চলাচলের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজ, প্রয়োজনীয় সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং মানসম্মত ফুটপাত তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো সম্পন্ন হলে ব্যক্তিগত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ