যেভাবে চেনা যায় পুরুষ চড়ুই এবং নারী চড়ুই

যেভাবে চেনা যায় পুরুষ চড়ুই এবং নারী চড়ুই

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:০৯ ১৩ আগস্ট ২০২২  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে খুব পরিচিত পাখির নাম চড়ুই। ছোট্ট এই পাখির শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার।একটি চড়ুইয়ের ওজন প্রায় ২০ গ্রাম। সাধারণত নারী-পুরুষ চড়ুই দেখতে একই রকম মনে হয়। এদের আলাদা ভাবে চেনার সহজ উপায় হলো মাথা ও মুকুটের পার্থক্য খুঁজে বের করা। 

নারী চড়ুই পাখির রঙ ওপরের দিকে ধূসর বাদামি, তার ওপরে কালচে বা পিঙ্গল দাগ, পেট সাদাটে। পুরুষ পাখিটি দেখতে বেশি সুন্দর এবং সে বেশি গান গায়। মাঝে মধ্যে পুরুষ বা স্ত্রী পাতি চড়ুইদের দুঃখভরা ভাব নিয়ে নিঃসঙ্গ বসে থাকতে দেখা যায়।

পুরুষ-স্ত্রী চড়ুই দেখতে আলাদা। পুরুষের মাথা ধূসর ও নীল মেশানো, ঘাড় পিঠ ও পাখনা খয়েরি লাল বা পিঙ্গল। চোখের পেছন থেকে ঘাড় অবধি মোটা গাঢ় লালচে বাদামি বর্ণের। লেজ ও লেজের গোড়া ধূসর।

নারী চড়ুই পাখি তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে। ছানা ফুটতে সময় লাগে প্রায় ১৩ দিন। ছানা ফুটলে দুইজনেই তাদের লালন-পালন করে। ছানারা উড়তে শিখলে বড়দের সঙ্গে মাঠে খাবার খেতে যায়। প্রজনন মৌসুমে পাতি চড়ুই খড়কুটো, কাঠি, শুকনো ঘাস, পালক দিয়ে মানুষের ঘরে বাসা বানায়। বাসা তৈরি হলে পুরুষটি সুরেলা কণ্ঠে গান গায়। 

গ্রাম কিংবা শহর সব জায়গাতে চড়ুই পাখি দেখতে পাওয়া যায়। ছোট-সুন্দর এই পাখিরা শহরের দালানগুলোতে একটু ফাঁকফোকর পেলে সেখানেই থাকার জায়গা করে নেয়।কিন্তু আধুনিক দালানগুলোতে ওদের থাকার মতো সুবিধাজনক ফাঁকফোকর রাখা হচ্ছে না। তারপরেও বিশ্বের কোথাও বিশ্বের কোথাও চড়ুইদের অবস্থা আশংকাজনক নয়। পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে তারা সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। এদের আদি নিবাস ছিল মূলত ইউরেশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ। পরে এই পাখি নিজেদের আবাস গড়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল,  জাপান, কোরিয়া, ইরান, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারে। এরা উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এরা জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে তাই এদের ইংরাজি নাম হাউস স্প্যারো অর্থাৎ ‘গৃহস্থালির চড়াই’ এই পাখি বাড়ই,পিয়াইজ্জা ইত্যাদি নামে পরিচিত। খড়কুটো, শুকনো ঘাস পাতা দিয়ে এরা কড়িকাঠে, কার্নিশে বাসা বাঁধে। সমস্ত দিন এরা লাফিয়ে বেড়িয়ে মাটি থেকে পোকামাকড় শস্য খুঁটে খায়। পৃথিবীতে মোট ৪৮ প্রজাতির চড়ুই দেখতে পাওয়া যায়। জীববিজ্ঞান অনুযায়ী এদের পরিবার ১১টি ‘গণে’ বিভক্ত। গৃহস্থালির চড়ুই এদের মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত। ঘাসের মধ্যেও পোকামাকড় খুঁজে বেড়ায় জোড়া পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে। গ্রামের মাঠের কাছে, ঝোপ-জঙ্গলে, নদীর ধারে, শহরের চালের গুদামের কাছে দল বেঁধে থাকে। ঝোপালো গাছে, পুরনো বিল্ডিংয়ের ভেন্টিলেটরে বাসা করে মার্চ থেকে আগস্ট মাসে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস