অলৌকিক শক্তিতেই তুলসীগঙ্গার পাড়ে নগর গড়েছিল নিমাই পির!

অলৌকিক শক্তিতেই তুলসীগঙ্গার পাড়ে নগর গড়েছিল নিমাই পির!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ১৫ মে ২০২২  

পাথরঘাটার সভ্যতা কুষাণ যুগের, অর্থাৎ খ্রিস্টীয় প্রথম-দ্বিতীয় শতকের।

পাথরঘাটার সভ্যতা কুষাণ যুগের, অর্থাৎ খ্রিস্টীয় প্রথম-দ্বিতীয় শতকের।

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদী ‘তুলসীগঙ্গা’। দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া এবং নওগাঁ জেলার ওপর দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে এগিয়েছে নদীটি। কতো ইতিহাস, কতো ভুলে যাওয়া ঘটনার সাক্ষী এই নদী। তারই দুপাড় জুড়ে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন এক শহরের ধ্বংসাবশেষ। প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে তার বিভিন্ন নিদর্শন। 

জায়গাটার অবস্থান জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলায়। দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল এটি। স্থানীয় লোকেরা জায়গাটিকে পাথরঘাটা বলে ডেকে থাকে। কাছাকাছিই রয়েছে নিমাই পিরের মাজার। এই মাজারটি গড়ে উঠেছিল সুলতানি যুগে।

পাথরঘাটার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা যায় অনেকগুলো ঢিবি। বিচিত্র তাদের নাম। কাশিয়া বাড়ি ঢিবি, মিশন ঢিবি, উচাই ঢিবি, বহারামপুর ঢিবি, বদের ধাপ, সাঁওতাল পাড়া ঢিবি, কুসুম্বা, গঙ্গরিয়া ও ব্রিধিগ্রামের বেশ কয়েকটা ঢিবি। আর প্রাচীন মাটির পাত্রের টুকরো, ইটের টুকরো, পোড়ামাটির ফলক, কাচের টুকরো, লোহার টুকরো, চুড়ি, পাথরের মূর্তি, নিত্য প্রয়োজনীয় নানা জিনিস এবং আরো অনেক কিছু চারদিকে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে আছে।

তুলসীগঙ্গা নদী। ছবি: সংগৃহীত

 

এখনকার ক্যাথলিক মিশনের বাড়ি তৈরির সময়ে যে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছিল, তখন বেশ কিছু প্রত্নবস্তু মিলেছিল। সেই জিনিসগুলো এখন জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। গবেষকরা আশেপাশের এলাকায় খননকার্য চালাতেই প্রাচীন নগরের সন্ধান পাওয়া যায়। এখন জায়গাটিতে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তুরের অধীনে খননকার্য চলছে। 

গবেষকরা অনুমান করেন যে, তুলসীগঙ্গার গতিপথ পাল্টে যাওয়ায় বেশ কিছু ইমারত নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। প্রাচীনকালে এই নদীর ওপরে একটা পাথরের সেতু ছিল। নদীর তীরে যে ইট-পাথরে গাঁথুনি দেখা যায়, তাকে পণ্ডিতরা সেই সেতুরই ধ্বংসাবশেষ মনে করেন। ওই সেতু ঠিক কতো পুরোনো, তা নিয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌছনো যায়নি। তবে সেটি প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন তো বটেই। 

ঠিক কোন সময়ে এখানে নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, তা নিয়ে এখনও সঠিক কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। এখানে উত্তর ভারতের কালো মসৃন মাটির পাত্র এবং কুষাণ যুগের দেবদেবীর মূর্তি পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের তক্ষশিলাতেও এই ধরনের মাটির বাসনপত্র খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। 

 ইট-পাথরে গাঁথুনি সেতুরই ধ্বংসাবশেষ। ছবি: সংগৃহীত

প্রত্নবিদদের কেউ কেউ অনুমান করেন, পাথরঘাটার সভ্যতা কুষাণ যুগের, অর্থাৎ খ্রিস্টীয় প্রথম-দ্বিতীয় শতকের। সেই অনুযায়ী এই সভ্যতা মোটামুটি দুই হাজার বছরের পুরোনো। এছাড়া পাল ও সেন আমলের জিনিসপত্রও উদ্ধার করেছেন প্রত্নবিদরা। পাথরঘাটাকে কেউ কেউ মহীপুর নামেও ডেকে থাকেন। লোকমুখে প্রচলিত আছে, পাল রাজা প্রথম মহীপালের নাম থেকে জায়গাটার এমন নামকরণ। 

সুলতানি যুগের মাজারের কথা তো আগেও বলেছি। যার নামে সেই মাজার, সেই নিমাই পিরের অলৌকিক শক্তি ছিল বলে এখনও সেই অঞ্চলের লোকেরা বিশ্বাস করেন। পাথরঘাটায় বিক্ষিপ্তভাবে অনেক পাথর দেখা যায়। স্থানীয় লোকেদের কেউ কেউ বলেন, নিমাই পির অলৌকিক উপায়ে পাথরগুলোকে নদী পার করিয়ে এখানে রেখেছিলেন। 

তথ্যঋণ – জাকারিয়া তুষার, এস.এস মোস্তাফিজুর রহমান। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি