কবে মিলবে পরিচ্ছন্ন সৈকত?

কবে মিলবে পরিচ্ছন্ন সৈকত?

এস এম আলমাস ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৫ ১৮ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৫:১২ ১৮ এপ্রিল ২০২২

কুয়াকাটা সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে ভাবছেন পরিবেশবিদরা। ছবি: লেখক

কুয়াকাটা সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে ভাবছেন পরিবেশবিদরা। ছবি: লেখক

সাগরকন্যা কুয়াকাটা। দেশের সমুদ্র উপকূলীয় একটি সৌন্দর্যের লীলাভূমি। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলারা এই পর্যটন কেন্দ্রটিতে দেশ- বিদেশ থেকে প্রতিবছর ভ্রমণে আসে লাখো পর্যটক। সূর্য উদয় ও অস্ত এক জায়গায় দাড়িয়ে দেখা যায় বলে, কুয়াকাটা সৈকতের খ্যাতি রয়েছে। কিন্তু সব সৌন্দর্য, প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্যের জীবনযাত্রা, সমুদ্রের প্রকৃতি আজ হুমকির মুখে। এর অন্যতম কারণ, প্লাস্টিক বর্জ্য। 

কুয়াকাটা সৈকতে সহসাই চোখে পড়ে, মিনারেল ওয়াটার, জুস, কোমল পানীয় বোতল, প্লাস্টিকের পলিব্যাগসহ নানা কিছু। সৈকতে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এমনকি বিধি-নিষেধ জারি করেও থামছে না পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ। প্লাস্টিক দূষণ এখন শহরের গণ্ডি পেড়িয়ে সমুদ্র সৈকতে পৌঁছেছে। এসব বর্জ্য ঢেউয়ের সঙ্গে যাচ্ছে সমুদ্রের পানিতে। ফলে সমুদ্র উপকূলের জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন শিল্প মারাত্মক হুমকির মুখে পরতে পারে বলে ভাবছেন পরিবেশবিদরা।

যত্রতত্র এসব বর্জ্য ছড়িয়ে থাকছে পুরো সৈকত জুরে। ছবি: লেখক

কুয়াকাটা সৈকতের বিশালতা মানুষকে যেমন মুগ্ধ করেছে,  তেমনি অনেকেই সেখানে প্রশান্তি খোঁজেন। তবে প্রকৃতিতে এমন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য বিড়ম্বনা অপার সম্ভাবনাময় স্থানটির সুনাম নষ্ট করছে। পর্যটকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের বোতল, চিপস কিংবা বিস্কুটের খালি প্যাকেট, পলিথিন, অনটাইম প্লাস্টিক পণ্য এবং জুসের বোতলে ভরে যায় সৈকত। যত্রতত্র এসব বর্জ্য ছড়িয়ে থাকছে পুরো সৈকত জুরে।

এসব বর্জ্য সমুদ্র এলাকার জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ও কচ্ছপের বংশ বিস্তার এবং প্রজনন কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী, পৌরসভা ও টুরিস্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সৈকত পরিষ্কার ও প্লাস্টিক বজ্র অপসারণের নানা উদ্যোগ হাতে নিলেও তা কাজে আসছে না। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে তা কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না।

কুয়াকাটা সৈকতে সহসাই চোখে পড়ে, মিনারেল ওয়াটার, জুস, কোমল পানীয় বোতল, প্লাস্টিকের পলিব্যাগসহ নানা কিছু।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংস্থা বা লোকবল নেই। ফলে কিছু মাঝে মধ্যে কিছু সংগঠনের ফটোশেসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সৈকত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

এ বিষয় ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অফ কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘কুয়াকাটা সৈকত হলো দেশের অন্যতম পর্যটন সম্পদ। তাই এই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য।’

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘সমুদ্র সৈকতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মূলত কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও কাজ করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে এ পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। এর পরেও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকেই সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য এবং পরিবেশ ঠিক রাখতে সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি