হাজারো প্রেমের সাক্ষী যেসব ‘বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর’

হাজারো প্রেমের সাক্ষী যেসব ‘বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর’

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৮ ১৮ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৪:৪৬ ১৮ এপ্রিল ২০২২

সেখানে শিক্ষার্থীদের নিরিবিলি সময় কাটে, আবেগের গল্প জমে, প্রেমের সূচনা হয়। 

সেখানে শিক্ষার্থীদের নিরিবিলি সময় কাটে, আবেগের গল্প জমে, প্রেমের সূচনা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে ছাত্রজীবনের ইতি ঘটে। যেখানে উচ্চশিক্ষিত হিসেবে সনদ মেলে। যেখানে মেলে শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবিক জ্ঞান। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেলে জীবন সংশ্লিষ্ট কতো কিছুই। বন্ধু কিংবা জীবনসঙ্গীর দেখা মেলে শেষ বিদ্যাপীঠ থেকে। এ যে কোনো পাপ নয়। এ যে স্বর্গীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ। 

দেশের একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ একেক রকম। গাছের ছায়াঘেরা পরিবেশ, নীরবতা ও সৌন্দর্য বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়তা পায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু স্থান। সেখানে শিক্ষার্থীদের নিরিবিলি সময় কাটে, আবেগের গল্প জমে, প্রেমের সূচনা হয়। 

বাংলাদেশের কিছু বিদ্যাপীঠের এমন কিছু যায়গা রয়েছে, যেখানে মিশে আছে অসংখ্য প্রেমিক যুগলের সুখ- দুঃখের স্মৃতি। সেসব যায়গা যেন এক জীবন্ত প্রেমের সাক্ষী, হাজারো প্রেম–বিরহের গল্প। সেই স্থানটি হয়েছে অগণিত প্রতিষ্ঠিত প্রেমের সাক্ষী। ডেইলি বাংলাদেশের ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানাচ্ছি তেমনি কিছু স্থানের কথা।  

গোপালগঞ্জের নিষিদ্ধ চত্বর

নিষিদ্ধ চত্বর- নাম শুনলেই যেন মনে প্রশ্ন জাগে- এটা আবার কী? এই নামে কি আবার কোনো চত্বর হতে পারে? হ্যাঁ, শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক কোনে রয়েছে আজব এই নিষিদ্ধ চত্বর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রেমিক-প্রেমিকারা রোমান্টিক গল্পে মেতে উঠে এই নিষিদ্ধ চত্বরে। যেখানে সূচনা হয় শত প্রেম। আবার নিভে যায় কপোত-কপোতীর গল্পে জমে উঠা কতো শত প্রেমের প্রদীপ। 

গোপালগঞ্জের নিষিদ্ধ চত্বর

এখানে রাস্তার দুপাশে সুউচ্চ শিরীষ ও শিশু গাছগুলো মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বছরের পর বছর। আর সেসব গাছে অহর্নিশ লেগে থাকে হরেক রকম পাখির কুঞ্জণ। একটু সামনে তাকালেই দেখা যায় দিগন্ত বিস্তৃত ধান খেত। এর মধ্যে সবসময় বয়ে যাওয়া মৃদু বাতাস মনকে দেয় আরো প্রশান্তি। চারদিকে সারি সারি ইউক্যালিপটাস গাছ জায়গাটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। প্রকৃতির অপরূপ মায়াবী দৃশ্য জমে আছে চত্বরটির চারপাশে। মন খারাপের সময় পাখির কোলাহল আর প্রকৃতির সৌন্দর্য হৃদয় ছুঁয়ে মন ভালো করে দিবে অজস্র ভালোবাসায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রেমিক-প্রেমিকারা রোমান্টিক গল্পে মেতে উঠে এই চত্বরে। মন চাইলে প্রিয়জনকে বা প্রিয়জনদের নিয়ে চত্বরটির লেক পাড়ে পার করা যায় মধুর ভালোবাসার সময়। আবার কৃত্রিম পাহাড়ের সরুপথ ধরে হেঁটে যাওয়া যায় কাল থেকে মহাকালের পথে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড

দুইপাশের গাছগুলো একে অপরকে আলিঙ্গন করতে মরিয়া। গাছের সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো আছড়ে পড়ছে রাস্তার ওপর। যেন আলো-ছায়ার খেলায় প্রতিমা হয়ে জেগে উঠেছে রাস্তাটি। বলছিলাম, সৌন্দর্যমণ্ডিত প্যারিস রোডের কথা। 

প্যারিস রোড! নামটা শুনেই হয়তো কল্পনায় ভাবছেন এটা ফ্রান্সের কোনো এক রাস্তা। কিন্তু না! ফ্রান্সের নয়, এটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্যারিস রোড’।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড

ভালোবাসা-বন্ধুত্ব, রক্ত-সংগ্রাম, জীবন-মৃত্যু, হাসি-কান্না, একাকীত্ব সময় কিংবা প্রেমিক যুগলের হাতের উষ্ণ ছোঁয়া যুগের পর যুগ ধরে এমন বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে আছে এই রাস্তাটি। এই রাস্তাটি অনেক জুটির প্রেমময় স্মৃতি বহন করছে। অনেকের প্রেম নিবেদনের মুহূর্তের স্মৃতিগুলোকে বহন করছে, অনেকের হয়তো বা প্রেমে বিরহের স্মৃতি বহন করছে। আবার সে প্রেম বিরহ কাটিয়ে নতুন করে প্রেমে পড়ার স্মৃতিকে সংরক্ষণ করে রেখেছে এই প্যারিস রোড। বর্ষার কোনো এক বিকেলে প্রিয়তমার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে অল্প বৃষ্টিতে সূর্যাস্তের অপেক্ষা করতে করতে অনেকের সময় কেটেছে এখানেই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কাটা পাহাড় রাস্তা’

কাটা পাহাড় রাস্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর থেকে শুরু হয়ে বুদ্ধিজীবী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়েছে রাস্তাটি। রাস্তায় পা ফেলতেই লাগে অদ্ভুত শিহরণ। প্রেম-বিরহ, বন্ধুত্ব, আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রেমিক যুগলের হাতের উষ্ণ ছোঁয়া, কয়েক যুগ ধরে এমন বিচিত্র সব ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কাটা পাহাড় রাস্তা’। 

কখনো মিছিলের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে তার বুক, কখনো ভালোবাসায় শীতল হয়েছে, আবার কখনো বা প্রেমিক যুগলের সঙ্গে মিশেছে কাটা পাহাড় রাস্তার চোখের জল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কাটা পাহাড় রাস্তা’

কাটা পাহাড় রাস্তা একেক সময় সাজে একেক রূপে। দিনের আলো ফোটতেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হতে থাকে রাস্তাটি। বিকাল হতে না হতেই আনাগোনা শুরু হয় শিক্ষক- শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের। সন্ধ্যায় প্রেমিকযুগল হাতে হাত রেখে গল্প করে অথবা অভিমানের ঝাঁপি খুলে দেয় এই সড়কের ধারে বসেই। 

কাটা পাহাড় সড়ক যেন অসংখ্য যুগলের সম্পর্ক জোড়া লাগা ও ভেঙ্গে যাওয়ার নীরব সাক্ষী। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসলে এই সড়কে দাঁড়িয়ে মুহূর্তটাকে ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি না করলে যেন তাদের ক্যাম্পাসে ছুটে আসাটা সার্থক হয় না।

ঢাবির টিএসসি- কার্জন হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আড্ডার একটি বড় জায়গা ‘টিএসসি’। চায়ের চুমুকে বিনিময় হয় নানা স্মৃতিকথা। প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্যও টিএসসি এক নান্দনিক জায়গা। ভেতরের মাঠে বা টিএসসির বারান্দায় বসে জমানো সব কথা এসে মুক্তি পায় এখানে। 

ঢাবির টিএসসির সেই ভাইরাল ভালোবাসা। ফাইল ছবি

প্রেমিক-প্রেমিকাদের সময় কাটানোর আরেক সুন্দর জায়গা কার্জন হল প্রাঙ্গণ। কার্জনের সবুজ ঘাসে কিংবা শহিদুল্লাহ হলের পুকুর পাড়ে বসে দুজন একান্ত সময় পাড় করে। সারাদিনের আনন্দ আর দুঃখের ঘটনা ভাগাভাগি করে নেন। তাছাড়া দিনের ব্যস্ততা শেষ করে সন্ধ্যা নামার পর পর প্রেমিক-প্রেমিকাদের মিলিত হওয়ার সুন্দর জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোড। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে রাস্তার পাশে বসে খুনসুটি করে সময় কাটান তারা।

নোবিপ্রবির কাপল রোড

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রেমিক-প্রেমিকাদের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাপল রোড। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শুরুর দিক থেকেই রোডটি প্রেমিক যুগলদের ভালোলাগার জায়গা। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত কিংবা বসন্তে এ রোড সবসময় মুখরিত থাকে কাপলদের কোলাহলে। এই সড়কে গেলেই কোনো না কোনো প্রেমিক যুগলের দেখা পাওয়া যায়। কেউ হাতে হাত ধরে হাঁটছে, কেউবা ছবি তুলে স্মৃতিতে রাখছে  ক্যাম্পাস জীবনের প্রেম।

নোবিপ্রবির কাপল রোড

সড়কের ঠিক পাশেই মনোসরণী মাচাং। তার একটু এদিকে কয়েকটি টং দোকান। মনোসরণী মাচাং কিংবা টং দোকানেও বিচরণ কাপলদের। দিনের অনেকসময় চোখে পড়ে মাচাংয়ে বসে প্রেমিকা তুলে দিচ্ছে প্রেমিকের মুখে খাবার। কখনো দেখা যায় টং দোকানে বসে চায়ের আড্ডায় জীবনের গল্প করছে।

জাবির ছায়ামঞ্চ

পাশেই টিএসসি, এখানে বসেই দেখা যায় মুক্তমঞ্চের উল্লাস। কান পাতলেই ভেসে আসে সুরেলা কণ্ঠের গান আর গিটারের টুংটাং আওয়াজ। মাথার উপরের বটগাছটা শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বসন্তে ছাঁদের মতো ছায়া দেবে। চোখের আয়ত্তে সেন্ট্রাল ফিল্ড কিংবা জহির রায়হান মিলনায়তন মায়া ছড়াবে। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ছায়ামঞ্চ আপনাকে দেবে ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা। এককথায় ষোলকলা পূর্ণ হতে এই একটি সপ্তম ছায়ামঞ্চই যথেষ্ট। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, গানের আসর, জন্মদিনের উদযাপন কিংবা প্রিয়জনের অভিমান ভাঙানোর উপলক্ষ- কেতো কিছুরই না সাক্ষী হয়েছে এই মঞ্চটি। 

ভালোবাসা। ছবি : সংগৃহীত

প্রেমিক-প্রেমিকারা ক্যাম্পাসের পিচঢালা ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যখন এই মঞ্চের সামনে দাঁড়ায়, তখন সহসা থমকে যেতে হয়। এখানে বসে আড্ডা না দিলে যেন চলেই না। বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান পয়েন্ট, চৌরঙ্গী মোড় আর মহুয়া চত্বর প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো বা আড্ডা দেয়ার অন্যতম জায়গা। এর বাইরে ছাত্রীদের হলের সামনে তো ছাত্রদের যাতায়াত আছেই।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

Bulletপ্রথম আট ঘণ্টায় ১৫ হাজার ২০০ গাড়ি চলাচল, টোল আদায় ৮২ লাখের বেশি Bulletপদ্মাসেতুতে হাঁটা-ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি Bulletবিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে হচ্ছে ডোপ টেস্ট আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Bulletকমলো সয়াবিন তেলের দাম Bulletদেশে করোনায় আরো দুইজনের মৃত্যু, শনাক্তের হার ১৫.৬৬ Bulletপদ্মাসেতুতে যানবাহন থামানো, হাঁটাহাঁটি ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি Bulletদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে তৈরি হও: নতুন প্রজন্মের প্রতি প্রধানমন্ত্রী Bulletদুই-একদিনের মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম কমবে: বাণিজ্যসচিব Bulletপদ্মাসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র: জড়িতদের খুঁজতে রুল শুনবেন হাইকোর্ট Bulletপদ্মাসেতুতে যান চলাচল শুরু Bullet‘বয়ফ্রেন্ড লুপহোল’ বন্ধ রেখে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ বিলে সই বাইডেনের Bulletদেশে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১২৮০ Bulletহজ পালনে সৌদিতে ৩৮৮৮৯ বাংলাদেশি