নিঃশ্বাস ছাড়াই ওরা বাঁচতে পারে ৪০ মিনিট

নিঃশ্বাস ছাড়াই ওরা বাঁচতে পারে ৪০ মিনিট

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৩ ১৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৭:০৮ ১৭ জানুয়ারি ২০২২

স্লথ নামক এক স্তন্যপায়ী প্রাণী। ছবি : সংগৃহীত

স্লথ নামক এক স্তন্যপায়ী প্রাণী। ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীতে আছে নানা জাতের আজব ও অদ্ভুত সব প্রাণী। সেই আজবের তালিকায় পরে ওরাও। কখনও থাকবে গাছে গাছে। কখনও আবার পানিতে। ডুব দিলে যেন ওঠার আর নাম নেই। কিন্তু পানিতে শ্বাসকার্য চালানোর মতো শারীরিক গঠন ওদের না। তাহলে বাচেঁ কিভাবে? স্লথ নামক এক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের কথা জানাচ্ছি।

স্লথ হলো এক প্রকার স্তন্যপায়ী বৃক্ষচারি জীব। এদের সচরাচর মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে দেখা যায়। ইংরেজি sloth কথাটি এসেছে slouthe থেকে যার অর্থ অলস বা ধীর। এই স্লথরা অনেক ধীরে নড়াচড়া ও চলাফেরা করে তাই এদের নাম দেওয়া হয়েছে স্লথ বা অলস।

বৈচিত্র্যে ভরা তাদের আচরণ। সারাদিন স্লথরা যেভাবে গাছে গাছে শুয়ে কাটায়, তাতে অনেকেই তাদের অলস বলে। কিন্তু জলে নামলে এই স্লথদের আচরণ হয়ে যায় চমকে দেওয়ার মতো। জলের মধ্যে তারা অনেকক্ষণ দম বন্ধ করে বেঁচে থাকতে পারে।

স্তন্যপায়ী প্রাণী স্লথ। ছবি : সংগৃহীত

জলে অন্তত ৪০ মিনিট পর্যন্ত দম বন্ধ করে থাকতে পারে স্লথ। নিঃশ্বাস নেয় না। শুধু তাই নয়, সেই সময় তাদের হৃদস্পন্দন কমতে কমতে প্রায় তলানিতে এসে ঠেকে। স্বাভাবিকের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ কমে যায় স্লথের হৃদস্পন্দনের গতি।

ডাঙার তুলনায় জলে চলতে কিন্তু এই স্লথরা ওস্তাদ। জলে খুব তাড়াতাড়ি সাঁতার কাটতে পারে তারা। ডাঙার তুলনায় জলে তাদের গতি তিন গুণ দ্রুত হয়।

স্লথদের পূর্বপুরুষরা ছিল প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী যার আকার একটি প্রমাণ আকারের হাতির চেয়েও বড় ছিল । ছয় প্রকার শ্লথকে দুটো শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। দুই আঙুল বিশিষ্ট শ্লথ এবং তিন আঙুল বিশিষ্ট শ্লথ । তবে বেশিরভাগ শ্লথের পায়ে তিনটি করে আঙুল দেখা যায়।

স্তন্যপায়ী প্রাণী স্লথ। ছবি : সংগৃহীত

এদের বিপাক ক্রিয়া খুব ধীরগতিতে হয় এবং বাজ জাতীয় শিকারি পাখির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে ও নড়াচড়া করেনা বললেই চলে । তাই এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। এদের ঘন লম্বা লোম পরজীবি প্রানীর জন্য আদর্শ আবাসস্থল। এদের শরীরে একপ্রকার পরজীবী সবুজ শ্যাওলা জন্মায় যা থেকে শ্লথেরা পুষ্টি আহরণ করে।এদের দেহ ঘন লোমে আবৃত থাকে এই কারণে ক্রান্তীয় বর্ষাবনের ভেজা আবহাওয়ার ফলে এদের শরীরে মথ, গুবরে পোকা, কৃমি, ফাংগি এবং উকুন বাসা বেধে থাকে।

স্লথরা সচরাচর তৃণভোজী হয়ে থাকে এবং গাছের কচি পাতা, কুড়ি, কচি ডাল এবং ফল খেয়ে বেঁচে থাকে তবে কিছু কিছু প্রজাতির স্লথ ছোট ছোট পোকামাকড় এবং ছোট আকারের সরীসৃপ খেয়ে থাকে।

স্তন্যপায়ী প্রাণী স্লথ। ছবি : সংগৃহীত

স্লথদের শারীরবৃত্তিয় কার্যকলাপ অত্যন্ত ধীরে চলে এবং বিশ্রামের সময় শক্তির অপচয় রোধের করতে এরা শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমিয়ে রাখতে সক্ষম। যদিও দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় বনভূমির বাহিরে এরা বেঁচে থাকতে পারে না তার পরেও অভিযোজনের দিক দিয়ে এদের অনেক সফল প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এদের ছয়টি প্রজাতীর মধ্যে কোনটিই খুব শিঘ্রই বিলুপ্ত হয়ে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি