স্বাদে অপরিচিত, রঙে গোলাপি: কাশ্মীরের এই চা বানাতে লাগে ৪ ঘণ্টা

স্বাদে অপরিচিত, রঙে গোলাপি: কাশ্মীরের এই চা বানাতে লাগে ৪ ঘণ্টা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩১ ১৩ জানুয়ারি ২০২২  

কাশ্মীরের গোলাপি চা। ছবি: সংগৃহীত

কাশ্মীরের গোলাপি চা। ছবি: সংগৃহীত

চা খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। অনেকেই আবার প্রয়োজনে চা পান করে থাকেন। চা পানে মন ও শরীর চাঙা হয়। এতে কাজ করতেও কোনো সমস্যা হয় না। একেক জন একেক রকম চা পানে অভ্যস্ত। কেউ রং চা, কেউ দুধ চা, অনেকে আবার মশলা চা খেতে পছন্দ করেন।

তবে আমাদের আজকের আয়োজনের আলচনায় থাকছে একটি ভিন্ন স্বাদ ও রঙের চা। যা স্বাদে-গন্ধে চেনা চায়ের মতো নয়। বরং বেশ আলাদা। তবে লাহৌরের বনেদি ক্যাফে হোক বা ম্যানহাটনের ঝাঁ-চকচকে টি-শপে তুফান তুলছে কাশ্মীরের গোলাপি চা। কাশ্মীরের উপত্যকা ছাড়িয়ে তা পাড়ি দিয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান, চিন-সহ দক্ষিণ এশিয়ার নানা দেশে। এমনকি, সুদূর আমেরিকার মাটিতেও গোলাপি চায়ে চুমুক দিচ্ছেন অনেকে। কীভাবে তৈরি হয় এই চা? কালো বা দুধসাদার বদলে এটি গোলাপি রংধারীই বা হলো কীভাবে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই।

কাশ্মীরের গোলাপি চাগোলাপি চায়ের সঙ্গে মুচমুচে কুলচা, টোল পড়া গিরদা খেতে বেশ পছন্দ করেন কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে আবার বেগেলের মতো দেখতে পোস্ত ও তিলের বীজ ছড়ানো গোলাকার গর্তওয়ালা পাউরুটির সঙ্গেও বার বার এ চায়ে চুমুক দেন। তবে হিমালয়ের কোল ছাড়িয়ে গোলাপি চায়ের স্বাদ নিচ্ছেন ভিনদেশিরাও।

হিমালয়ের উপত্যকা ছেড়ে দক্ষিণ এশিয়ার বহু রান্নাঘরেই পা রেখেছে গোলাপি চা। অনেকের কাছে তা ‘লবণ-চা’। কেউ বা আবার একে চেনেন ‘গুলাবি চায়’ বলে। কাশ্মীরের স্থানীয়দের মতে, গোলাপি চা-পানে বেশ উপকারিতাও রয়েছে। এতে মূল উপকরণ বলতে গ্রিন টি, লবণ এবং বেকিং সোডা। চায়ে লবণ থাকার ফলে তা পান করলে পাহাড়ি এলাকায় ডিহাইড্রেশন কম হয়।

গোলাপি চায়ে লবণ এবং বেকিং সো়ডা ছাড়াও আর কী কী উপকরণ রয়েছে?

অনেকেই এই চায়ের কাপে ছড়িয়ে দেন স্টার আনিস। অনেকে আবার এতে আধভাঙা বাদাম ছড়িয়ে দেন। যারা এখনো গোলাপি চায়ে চুমুক দিতে পারেননি, তাদের জন্য এর স্বাদ বর্ণনা করা যাক! খানিকটা তেতো হলেও তাতে রয়েছে নোনতা ভাব। ফলে লিকার টি বা দুধ-চিনি দিয়ে চায়ে চুমুক দিতে অভ্যস্তদের কাছে এটি অবশ্যই অন্য স্বাদের মনে হবে।

কাশ্মীরের গোলাপি চা তৈরি হয় যেভাবেগোলাপি চা তৈরি পদ্ধতি

গোলাপি চায়ের স্বাদ যেমন অপরিচিত, তা তৈরির পদ্ধতিও আলাদা মনে হতে পারে অনেকের। প্রথমে একটি পাত্রে পরিমাণমতো পানি, গ্রিন টি এবং এক চিমটি বেকিং সোডা দিয়ে বেশ অনেকক্ষণ ধরে ফোটাতে হবে। বেকিং সোডার জেরেই চায়ের রং গোলাপিতে পরিণত হয়। তবে সঙ্গে সঙ্গে তা হয় না। গ্রিন টি-তে বেকিং সোডা দিয়ে পানি ফোটালে তা রং বদলে প্রথমে পীতাভ বাদামি রঙের হয়ে যায়। এরপর চায়ে গাঢ় মেরুন রং ধরতে থাকে।

গোলাপি চা তৈরি করতে যেমন পাকা হাতের প্রয়োজন, তেমন এর পেছনে বিজ্ঞানও রয়েছে। বৈজ্ঞানিকেরা জানিয়েছেন, হালকা অ্যাসিডিক এই চায়ে অম্লরোধে সাহায্য করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (বেকিং সোডা)। সেই সঙ্গে এর কষাটে ট্যানিনের ঝাঁঝও কমিয়ে দেয়।

কাশ্মীরের গোলাপি চাগোলাপি চায়ের রং কী করে পরিবর্তিত হয়?

একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় দাবি, 'কাশ্মীরি চায়ে পলিফেনল অনেকটা ফেনোলসালফথালেইন-এর মতো কাজ করে। যেটি ফেনল রেড বলেও পরিচিত।' চায়ের রং বদলে বার্গন্ডি হওয়ামাত্র সেই রং ধরে রাখতে পাত্রে বরফ বা ঠান্ডা পানি ঢালা হয়। এরপর তাতে দুধ মেশালে গোলাপি রং দেখা যায়।

চায়ের রং বদল হওয়ামাত্রই সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবেশন করা হয় না। এর পরেও চা তৈরি বাকি। এবার একটি হাতায় এই পানীয় ভরে তা চায়ের পাত্র থেকে অন্য পাত্রে বার বার উঁচু-নিচু করে ঢালা হয়। বার বার একই পদ্ধতিতে চা ঢালার ফলে তাতে বাতাস ঢুকে বেশ ফেনা ফেনা হয়ে ওঠে। অনেকটা কফি মেশিনে তৈরি কফির মতো।

কাশ্মীরের গোলাপি চাগোলাপি চা তৈরি করতে কতটা সময় লাগে?

লন্ডনের এক চা-বিক্রেতার দাবি, পানীয় তৈরির পর তা হাতায় ভরে উঁচু-নিচু করে চার ঘণ্টা ধরে বার বার ঢালা না হলে এর আসল স্বাদই পাওয়া যাবে না!

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ