বিয়ে না করেও একসঙ্গে থাকছেন দেশের যে তরুণ-তরুণীরা

বিয়ে না করেও একসঙ্গে থাকছেন দেশের যে তরুণ-তরুণীরা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৪ ৩০ নভেম্বর ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন পূজা ও আদিব। ক্যাম্পাসেই তাদের পরিচয়। তারপর আড্ডা, ঘোরাঘুরি, একজন আরেকজন সম্পর্কে জানা। অতঃপর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রেমে গড়ালো। যখনই বিয়ের ব্যাপারে একটা চিন্তাভাবনা হচ্ছে নিজেদের ভেতরে, তখন তারা পরস্পরের জন্য ঠিক কি-না সেটা বোঝার জন্যই একসঙ্গে থাকা শুরু করেন।

উপরের ঘটনা ও সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তবে এমন চিত্র রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য শহরগুলোতে দেখা যাচ্ছে। একে লিভ টুগেদার বলা হয়। পশ্চিমা দেশগুলোতে লিভ টুগেদার সামাজিকভাবে স্বীকৃত হলেও, কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণশীল সমাজে তা ভালো চোখে দেখা হয় না।

বাংলাদেশে এখনো এ ধরনের সম্পর্ক খুবই সীমিত পরিসরে এবং গোপনে রয়েছে। তবে বিশ্বায়ন ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সম্পর্কের সংখ্যা ধীরে হলেও বাড়ছে বলে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন।

ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দম্পতি। ভাড়া নেয়ার সময় তারা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে থাকবেন বলে পরিচয় দিতে হয়েছে।

ওই দম্পতি জানায়, দুই পরিবারই তুলনামূলক রক্ষণশীল হওয়ায় তখন এতটা অন্তরঙ্গতা মেনে নিতেন না। তাই আমরা পরিবার এ সংক্রান্ত কিছুই জানতে দেইনি। পরস্পরের বোঝাপড়া দারুণ ছিল তাই পারিবারিক স্বীকৃতির কথা না ভেবেও আমরা একসঙ্গে থাকা শুরু করেছিলাম।

তরুণী বলছিলেন, 'আমাদের দুজনকেই ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হতো। তখন ভাবলাম, তাহলে একসাথেই কেন থাকি না। দুজনের খরচ যেমন কমনে, পাশাপাশি দম্পতি হিসাবে আমরা কেমন হবো, বোঝাপড়া কেমন হবে, সেটাও পরিষ্কার হবে। এসব ভেবেই একসঙ্গে বাসা ভাড়া করে থাকতে শুরু করি।

লিভ টুগেদারে বাংলাদেশের যুগলরা কতটা আগ্রহী হয়ে উঠেছে, এ নিয়ে বাংলাদেশে এখনো কোন গবেষণা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যখন যুগলদের মধ্যে নানা সমস্যা দেখা দেয়, তখন তাদের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কোন আইনগত বা সামাজিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে এভাবে একত্রে বসবাসের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

বেসরকারি সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নীনা গোস্বামী বলছেন, আমাদের কাছে এমন অনেক অভিযোগ আসে, যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একত্রে বসবাস করেছেন। কিন্তু এখন বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। তারা সরাসরি লিভ টুগেদার করার কথা বলে না। কিন্তু এ ধরণের অভিযোগের সংখ্যা একেবারে কম নয়। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতারণা বা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

বাংলাদেশের আইনে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের লিভ টুগেদার করার পক্ষে বা বিপক্ষে কোন পরিষ্কার আইন নেই বলে বলছেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোনো নারী-পুরুষ যদি একসঙ্গে বসবাস করতে যায়, তাহলে তাকে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিবাহিত হতে হয়। যেমন মুসলিম আইন অনুযায়ী তাকে রেজিস্ট্রেশনও করতে হবে। কিন্তু কেউ রেজিস্ট্রেশন না করেও ধর্মীয় বিধান মেনে সাক্ষীর উপস্থিতিতে যদি বিয়ে করে, সেটাও গ্রহণ করা হয়।

ব্যারিস্টার সানজানা বলছেন, বিবাহিত ব্যক্তি যদি কোনো বিবাহিত বা অবিবাহিত ব্যক্তির সঙ্গে লিভ টুগেদার করে, সেটা নানারকম আইনের মধ্যে পড়ে, নানা শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে যদি একত্রে বসবাস করে, সেক্ষেত্রে আইনে সরাসরি বা পরিষ্কারভাবে কিছু বলা নেই। সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে