নজরকাড়া পানকৌড়ি দেখাই এখন বিরল

নজরকাড়া পানকৌড়ি দেখাই এখন বিরল

ফিচার প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০১ ২৫ নভেম্বর ২০২১  

পানকৌড়ি। ছবি: সংগৃহীত

পানকৌড়ি। ছবি: সংগৃহীত

দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ। পাশেই নয়নাভিরাম বিল। সেখানে বসতি গেড়েছে একদল পানকৌড়ি। ভরদুপুর কিংবা সন্ধ্যায় তাদের কিচিরমিচির কলকাকলি নজর কাড়ে পথিকের। এমন দৃশ্য হয়তো কখনো আপনারও চোখে পড়েছে। কারণ, পানকৌড়ির দুরন্তপনা যে নজর কাড়ার মতোই বিষয়।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব পরিচিত একটি পাখি পানকৌড়ি। বিশেষ করে বিল অঞ্চলে। পানকৌড়ি ইংরেজিতে কর্মোরেন্ট ও শ্যাগ নামে পরিচিত। এরা ফ্যালাক্রোকোরাসিডি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত একটি জলচর পাখি। পানকৌড়ির মজার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এরা বেশিরভাগ সময়ে ডানা মেলে বসে থাকে। আমাদের দেশে দুই ধরনের পানকৌড়ি দেখা যায়। সাধারণভাবে এদের বলা হয় ছোট পানকৌড়ি আর বড় পানকৌড়ি। দুটি প্রজাতির মধ্যে বড় পানকৌড়ি অপেক্ষাকৃত বিরল।

পানকৌড়িকে বলা হয় জলবন্ধু। কারণ, সব পানকৌড়িই খুব ভালো সাঁতারু। সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, হ্রদ ও নদীনালায় বসবাস ‍ওরা বসবাস করে। ডালপালা, সামুদ্রিক আগাছা দিয়ে ঝোপঝাড়, গাছ কিংবা সমুদ্রতীরের পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে এরা বাসা বাঁধে। সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪০ প্রজাতির পানকৌড়ি রয়েছে। খাদ্যের খোঁজে এরা পানির খুব গভীরে ডুব দিতে সক্ষম। এদের প্রধান খাদ্য মাছ।

পানকৌড়ির দেহে কালো রঙের পালকের প্রাধান্য রয়েছে। সারা শরীর, বুক কুচকুচে কালো, তাতে সামান্য চকচকে আভা। গলায় সাদা দাগ, পাখার নিচের পালক ধূসর রঙের। লেজের গড়ন নৌকার বৈঠার মতো। ঠোঁট সরু, কিছুটা গোল, ঠোঁটের আগা বড়শির মতো বাঁকানো। এদের নতুন ডিমের বর্ণ নীলচে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চকচকে সাদা বর্ণ ধারণ করে। তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। তিন বছর বয়সে এরা বয়োপ্রাপ্ত হয়। 

জল আর মাছ যেখানে, ওরা ছিল সেখানেই। গ্রামগঞ্জে ছোট-বড় বিল, ঝিল, জলাশয়, ধানক্ষেত, পুকুর, দীঘি, হাওর, বাঁওড়, ডোবা-নালা ও মজা নদীসহ সব জায়গাতেই ছিল ওদের অবাধ বিচরণ। জল আর মাছ যেখানে, ওরা ছিল সেখানে।

বর্তমানে কেবল বিল-বাঁওড় বা গ্রাম বাংলার পথেপ্রান্তরে কিছু পানকৌড়ির দেখা মেলে। গত দুই দশকের বিবেচনায় এ দেশে অনেকটা কমেছে এই পাখি। কারণ, ফসলের মাঠে বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জলজ পোকামাকড়, ব্যাঙ, মাছ ও মেটেসাপ কমে গেছে। খাদ্যাভাবে হ্রাস পাচ্ছে পানকৌড়ির বিচরণ। এ ছাড়া ক্রমাগত জলাশয় ভরাটের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে পানকৌড়িরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে