রাস্তা হারিয়ে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইন চলে গেল নিউজিল্যান্ড

রাস্তা হারিয়ে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইন চলে গেল নিউজিল্যান্ড

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪০ ১৩ নভেম্বর ২০২১  

রাস্তা হারিয়ে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইন চলে গেল নিউজিল্যান্ড। ছবি সংগৃহীত

রাস্তা হারিয়ে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইন চলে গেল নিউজিল্যান্ড। ছবি সংগৃহীত

অ্যান্টার্কটিকার এক অ্যাডেলি পেঙ্গুইনের দেখা মিলেছে নিউজিল্যান্ড উপকূলে। প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরের এই পাখিটিকে যখন দেখা যায়, তখন সেটিকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল।

পরে হ্যারি সিং নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা সেটিকে প্রথমবার দেখেন। প্রথম দেখে তার মনে হয়েছিল এটি হয়তো কোনো খেলনা। কাছে গেলে তার ভুল ভাঙে। বুঝতে পারেন এটি জীবন্ত একটি পেঙ্গুইন। নিউজিল্যান্ডের উপকূলে অ্যাডেলি পেঙ্গুইন পাওয়ার তৃতীয় ঘটনা এটি।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেন, হ্যারি সিং সেখানে পরিবার নিয়ে থাকি। সেদিন হ্যারি সিং এবং তার স্ত্রী সমুদ্র সৈকতে দিনের কাজ শেষে হাঁটতে বেরিয়ে প্রথম পেঙ্গুইনটির দেখতে পান। সমুদ্রের তীর ঘেঁষে তুলতুলে কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে। তিনি একটু কাছে যেতেই সেটি মাথা নাড়ায়। তখন বুঝতে পারি এটি জীবন্ত একটি পেঙ্গুইন।

হ্যারি সিং বলেন, এক ঘণ্টার মতো পেঙ্গুইনটি নড়াচড়া করছিল না। শুধু তাকিয়ে ছিলো। মনে হচ্ছিল সে দলছুট, বড্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। ফেসবুকে হ্যারি পেঙ্গুইনটির কিছু ভিডিও পোস্ট করেন। যোগাযোগ করেন উদ্ধারকারীদের সঙ্গে। আর সেই সময়টা হ্যারি দম্পতি পেঙ্গুইনটিকে নজরে রাখছিলেন, যেন সে অন্য কোনো প্রাণীর শিকারে পরিণত না হয়। নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে পেঙ্গুইনদের পুনর্বাসন নিয়ে ১০ বছর ধরে কাজ করছেন টমাস স্ট্র্যাক। তিনিই প্রথম এটিকে বিরল অ্যাডেলি প্রজাতির পেঙ্গুইন বলে চিহ্নিত করেন। জানান, কেবল অ্যান্টার্কটিকাতেই এ প্রজাতির দেখা মেলে।

উদ্ধারকারীরা পেঙ্গুইনটির রক্ত পরীক্ষা করেন। দেখেন স্বাভাবিকের চেয়ে ওজন বেশ কম, পানিশূন্যতায় ভুগছিল এটি।  তারপর থেকে তাকে তরল খাবার ও একটি ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাওয়ানো হয়েছে। শিগগিরই এটিকে ব্যাঙ্কস উপদ্বীপের সৈকতে ছেড়ে দেয়া হতে পারে। নিউজিল্যান্ড উপকূলে এই প্রজাতির পেঙ্গুইনের দেখা এর আগে দুবার মিলেছিল। ১৯৬২ সালের পর ১৯৯৩ সালে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল অ্যাডেলি প্রজাতির আরেকটি পেঙ্গুইনকে। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এ ঘটনাকে হুমকি হিসেবে দেখছেন। 

তারা বলছেন, সমুদ্রে বড় ধরনের কিছু পরিবর্তন হচ্ছে, যা আমাদের বোঝা উচিত। ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপ সিডন দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, পেঙ্গুইন নিয়ে আমাদের আরো গবেষণা দরকার। তারা কোথায় যায়, কী করে, কী ধরনের পরিবেশ পছন্দ করে এসব জানা প্রয়োজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ