শতভাগ ধনীর দেশ লুক্সেমবার্গের যত অবাক করা বিষয়

শতভাগ ধনীর দেশ লুক্সেমবার্গের যত অবাক করা বিষয়

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪১ ২৫ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৩:১২ ২৫ জুলাই ২০২১

শতভাগ ধনীর দেশ লুক্সেমবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

শতভাগ ধনীর দেশ লুক্সেমবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ মহাদেশের ছোট্ট একটি দেশ লুক্সেমবার্গ৷ দেশের নামেই রাজধানীর নাম৷ দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত৷ লুক্সেমবার্গ অনেক ধনী রাষ্ট্র। লুক্সেমবার্গের প্রতিবেশী দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম৷ আয়তন আড়াই হাজার বর্গ কিলোমিটারের কিছু বেশি৷ জনসংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার৷ গড় আয়ু ৮২ বছরের কিছু বেশি৷ পাঁচ বছরের কমে শিশুমৃত্যুর ঘটনা দেশটিতে সবচেয়ে কম৷ 

ইউরোপের শহরগুলোর মতো লুক্সেমবার্গও ছবির মতোই সাজানো গোছানো৷ নতুন এবং পুরনো স্থাপত্যে মিলেমিশে এ শহর৷ শহরটি প্যারিস থেকে ৩৭২ কিলোমিটার, ব্রাসেলস থেকে ২১৩ কিলোমিটার এবং জার্মানির কোলন শহর থেকে ২০৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ 

লুক্সেমবার্গ শহরটি ছবির মতো সাজানোগ্লোবাল ফাইন্যান্স ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, বিশ্বের তৃতীয় ধনী দেশ হলো লুক্সেমবার্গ। বেকার তেমন একটা নেই বললেই চলে। সামাজিক সুরক্ষা অভাবনীয়। মাত্র আড়াই হাজার বর্গ কিলোমিটার এই ছোট দেশে ১৪৪টিরও বেশি ব্যাংক রয়েছে। এজন্য বলতে পারেন ইউরোপের অর্থনৈতিক রাজধানী এই দেশ। লুক্সেমবার্গের প্রায় সব মানুষই ধনী। কারোই কোনো অভাব নেই। যেখানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় মাত্র ২০০০ মার্কিন ডলার, সেখানে লুক্সেমবার্গের বার্ষিক আয় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। 

তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ কেমন হতে পারে, ভাবতে পারেন কি? আর তাদের পারিবারিক সম্পত্তির পরিমাণ নিশ্চয়ই আরো অনেক বেশি।  যা আমাদের দেশের কোটিপতিদের চেয়েও কম নয়। লুক্সেমবার্গে এমন সিস্টেম চালু করা হচ্ছে যে আপনাকে গণপরিবহনে উঠতে আর টাকা গুণতে হবে না। সেই টাকা সরকারই বহন করবে। কারণ তারা মনে করে, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য রাস্তায় জ্যাম সৃষ্টি হতে পারে। তাই এমন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যাতে জ্যামের কারণে সময় নষ্ট না হয়। 

লুক্সেমবার্গে গণপরিবহনে উঠতে টাকা গুণতে হয় নাকারণ প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার এই দেশে কাজের সময় জ্যামে বসে থাকাটা ভালো কথা নয়। তারা কাজের দিকে বেশি ফোকাস দেয়। অথচ বাংলাদেশে জ্যামে বসে যে কত ঘন্টা আমাদের নষ্ট হয়েছে তার হিসেব বোধহয় কেউই দিতে পারবে না। হয়তো যেই সময় আমরা জ্যামে বসে থাকি, সেই সময়টা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করলে সময়টা অন্তত নষ্ট হতো না। 

লুক্সেমবার্গের সব মানুষ তাদের কাজের দিকে বেশি ফোকাস দেয়লুক্সেমবার্গ তাদের মানুষের জন্য যেভাবে চিন্তা ভাবনা করে, আমাদের দেশও কি আমাদের জন্য তেমন চিন্তা ভাবনাই করে? এই দেশকে করের স্বর্গ বলা হয়। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই ব্যবসা করলে আপনাকে অনেক টাকা ট্যাক্স বা কর দিতে হয়। তবে লুক্সেমবার্গে ঠিক তার উল্টো। এই জন্যই অনেক কোম্পানির সদর দপ্তর এই দেশেই অবস্থিত। এছাড়া আপনি চাইলে কোনো অসাধারণ আইডিয়া নিয়ে এখানে কাজও করতে পারেন। 

সরকার সেই ক্ষেত্রে আপনাকে ট্যাক্স নিয়ে কোনো ঝামেলাই ফেলবে না। এজন্যই লুক্সেমবার্গে তেমন কোনো বিকার নেই বললেই চলে। যারা ছোটখাটো কাজ করে, তারাও থাকে রাজার মতো। কারণ তাদের কোনো অভাব নেই। যতদিন তারা কোনো কাজ না পাবে, ততদিন তাদেরকে সরকার দেখবে। এমনকি তাদের মা-বাবাকেও ভাবতে হবে না।

লুক্সেমবার্গে তেমন কোনো বেকার লোক নেইতবে আমাদের দেশে বেকার মানে এক ভয়াবহ অভিশাপ। বেকারদের সরকার তো দেখেই না, নিজেদের পরিবারও দেখতে চায় না। সর্বত্রই তাদের অবহেলা সহ্য করতে হয়। আর যতদিন কাজ না পায়, ততদিন তাদেরকে মনে করা হয় তারা নরকে আছে। সেকারণেই অনেক বেকার নিজের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। অনেকে চলে অন্য পথে। যে পথ থেকে ফিরে আসা আর কখনোই সম্ভব হয় না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ