কাঁধে শতাধিক গরম নুডলসের বাটি নিয়ে সাইকেলে চ্যালেঞ্জিং যাত্রা

কাঁধে শতাধিক গরম নুডলসের বাটি নিয়ে সাইকেলে চ্যালেঞ্জিং যাত্রা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:২৬ ২৪ জুলাই ২০২১   আপডেট: ২১:৩৩ ২৪ জুলাই ২০২১

কাঁধে শতাধিক গরম নুডলসের বাটি নিয়ে সাইকেলে চ্যালেঞ্জিং যাত্রা। ছবি; অ্যামিউজিংপ্ল্যানেট

কাঁধে শতাধিক গরম নুডলসের বাটি নিয়ে সাইকেলে চ্যালেঞ্জিং যাত্রা। ছবি; অ্যামিউজিংপ্ল্যানেট

বর্তমানে অনলাইনে অর্ডার করলেই খাবার দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। রান্না করা গরম খাবারও পৌঁছে দেওয়া হয় পার্সেলের মাধ্যমে। ডেলিভারি ম্যানরা মোটর বাইক, বাই-সাইকেল কিংবা অন্যান্য যানবাহনে বক্স, বিশেষ পাত্রে বাড়ি বাড়ি খাবার ডেলিভারি দেয়। এসব পাত্র সাধারণত বাইক, বাইসাইকেল কিংবা ব্যবহৃত যেকোনো যানবাহনের সঙ্গে আটকানো থাকে। 

তবে কোনো বক্স কিংবা বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই কাঁধে পাঁচ ফুট উঁচু করে গরম খাবারের পাত্র সাজিয়ে বাইসাইকেলে একজন ডেলিভারি ম্যান খাবার পৌঁছে দিচ্ছে এমন দৃশ্য দেখলে যে কেউই অবাক হবেন। এটি কোনো সার্কাসের দৃশ্য কিংবা কল্পিত ঘটনা নয়। বাস্তবেই এমন চ্যালেঞ্জিং যাত্রা করতেন জাপানের ‘সোবা নুডলস’ ডেলিভারি ম্যানরা। তারা কাঁধে ‘পাহাড়সম’ গরম নুডলসের বাটি নিয়ে বাইসাইকেলে চড়ে গ্রহীতার কাছে পৌঁছে দিতেন। শতাধিক বাটি গরম নুডলসের বাটিও তারা একবারে পৌঁছে দিতে পারতেন।

অনেক সময় একজনকে একবারে কয়েক ডজন অর্ডার পৌঁছে দিতে হতো। ছবি; অ্যামিউজিংপ্ল্যানেট

জাপানের এই খাবার ডেলিভারি দেওয়ার রীতি বেশ পুরাতন। মিড-এডো সময় (১৬০৩ থেকে ১৮৬৮ সাল) থেকেই এ প্রথার প্রচলন হয়। সতের শতকের প্রথম দশক থেকেই মূলত এর প্রচলন শুরু হয়। স্থানীয় পরিভাষায় একে ‘ডেমি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, যার আক্ষরিক অর্থ ‘সামনে যাওয়া’। শুরুতে সামন্ত প্রভুরা এ সেবা গ্রহণ করতেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি আরো বাড়তে থাকে। বিশ শতকে এসে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অফিসের কর্মী সবার মধ্যেই এ সেবা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

সরবরাহকৃত খাবারের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় ছিল ‘সোবা বাকহুইট নুডলস’। এটি ডুবানো সস দিয়ে ঠাণ্ডা খাওয়া যায়। আবার গরম খাবার হিসেবেও পরিবেশন করা যায়। ‘সোবা বাকহুইট নুডলস’ একটি সাশ্রয়ী মূল্যের খাবার মেনু। এগুলোকে ‘সোবা নুডলস’ও বলা হয়ে থাকে। ‘সোবা নুডলস’ ডেলিভারি ম্যানরা খাবারের স্বাদ বা আকার বিকৃত না করেই বহন করতে পারতেন। এক সঙ্গে বেশ কয়েকজন গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে তারা কাঁধে খাবারের পাত্র একটার উপর আরেকটা সাজিয়ে অনেকটা টাওয়ার তৈরি করে ফেলতেন।

‘সোবা নুডলস’ ডেলিভারি ম্যানরা কাঁধে প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করে গরম খাবারের পাত্র সাজিয়ে বাইসাইকেলে চড়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতেন। ছবি; অ্যামিউজিংপ্ল্যানেট

তবে এ কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। খুবই চ্যালেঞ্জিং যাত্রা ছিল ডেলিভারি ম্যানদের জন্য। এভাবে গরম নুডলস সরবরাহের কাজটি বেশ বিপজ্জনকও ছিল। এজন্য ডেলিভারি ম্যানদের যথেষ্ট সুস্থির এবং দক্ষ হতে হতো। অনেক সময় একজনকে একবারে কয়েক ডজন অর্ডার পৌঁছে দিতে হতো। কারণ মালিকদের জনবল কম থাকতো। আর পরিবহনের একমাত্র উপায় ছিল সাইকেল। 

‘সোবা নুডলস’ ডেলিভারি ম্যানদের দক্ষতা এতটাই বেশি ছিল যে শতাধিক বাটিও কাঁধে সাজিয়ে এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে সাইকেল চালিয়ে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। ১৯৬০ ষাটের দশকে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও এ নিয়ে আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক সব সরবরাহ সেবা পদ্ধতি উদ্ভাবিত হওয়ায় দক্ষ ‘সোবা নুডলস’ ডেলিভারি ম্যানদের পেশাও বিলুপ্ত হয়েছে।

সূত্র- অ্যামিউজিংপ্ল্যানেট

ডেইলি বাংলাদেশ/এইচএন