ভারতের ১৭৯ কিলোমিটার রাস্তা এখ‌নো ব্রিটিশদের দখলে, যাতায়াতে গুনতে হয় কোটি টাকা

ভারতের ১৭৯ কিলোমিটার রাস্তা এখ‌নো ব্রিটিশদের দখলে, যাতায়াতে গুনতে হয় কোটি টাকা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০১ ২৩ জুলাই ২০২১   আপডেট: ২০:৪২ ২৩ জুলাই ২০২১

ভারতের ১৭৯ কিলোমিটার রাস্তা এখ‌নো ব্রিটিশদের দখলে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ১৭৯ কিলোমিটার রাস্তা এখ‌নো ব্রিটিশদের দখলে। ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের ৭৩ বছর পাড় হয়ে গেছে। তবে ভারতে এখনো এমন একটি জায়গা আছে, যেটা আজও ব্রিটিশদের দখলে। আর তার জন্য ভারত সরকারকে দিতে হয় কোটি কোটি টাকার কর। স্থানটি হলো একটি রেলপথ। মহারাষ্ট্রের অমরাবতী মহকুমার অচলপুর থেকে ইয়াভাতমাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই রেলপথটি।

রেললাইনের মোট দৈর্ঘ্য হলো ১৮৯ কিলোমিটারএই রেললাইনের মোট দৈর্ঘ্য হলো ১৮৯ কিলোমিটার। এটি দিয়ে শুধুমাত্র শকুন্তলা এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। অতি ধীর গতিতে চলা এই ট্রেনটি সম্পূর্ণ পথ অতিক্রম করতে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় নেয়। পথিমধ্যে আবার ছোট-বড় মোট ১৭টি স্টেশনে বিরতি নেয় ট্রেনটি। মহারাষ্ট্রের অমরাবতী এবং মুর্তিজাপুরের মধ্যে অবস্থিত এই রেললাইনটি স্থাপন করা হয়েছিল ব্রিটিশদের আমলে। একসময় অমরাবতী নামের এই জায়গাটি বিখ্যাত ছিল শুধুমাত্র কার্পাস তুলার জন্য।

কার্পাস তুলা অমরাবতী থেকে মুম্বাই, সেখান থেকে চলে যেত ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারেপুরো বিশ্ব জুড়ে ছিল এই তুলার চাহিদা। ফলে ব্রিটিশরা ব্যবসার স্বার্থে এই কার্পাস তুলা অমরাবতী থেকে মুম্বাই বন্দরে আনার প্রয়োজন পড়তো। আর সেখান থেকে এই তুলা চলে যেত ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে। এভাবেই ভারতীয় তুলা ইংল্যান্ডে রপ্তানি করতো ব্রিটিশরা। তবে এভাবে তুলা পাঠাতে বেশ সমস্যা হতো তাদের। তাই সুবিধার জন্য ১৯০৩ সালে ব্রিটিশ সংস্থা ক্লিক নিকসন এন্ড কোম্পানি কর্তৃক রেলপথটি তৈরি করা হয়।

 পরে ১৯১৩ সালে এটি জিআইপিআরসি এর শাখা সেন্ট্রাল প্রভিন্স রেলওয়ে কোম্পানির হাতে হস্তান্তরিত হয়পরে ১৯১৩ সালে এটি জিআইপিআরসি এর শাখা সেন্ট্রাল প্রভিন্স রেলওয়ে কোম্পানির হাতে হস্তান্তরিত হয়। রেলপথটি তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় ১৩ বছর। এই রুটে শকুন্তলা এক্সপ্রেস চলার কারণে পরবর্তীতে এটি শকুন্তলা রুট নামে পরিচিত হয়। এরপর ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের থেকে ভারত স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার চার বছর পর ১৯৫১ সালে ভারতের সব রেলওয়ে জাতীয়করণ করা হয়। 

শকুন্তলা এক্সপ্রেসশুধুমাত্র বাকি থেকে যায় শকুন্তলা রেলওয়ে, যা এখনো অবধি ভারত সরকারের অধীনে আসেনি। তাই বর্তমানে এটাই একমাত্র ভারতের বেসরকারি রেলপথ। তবে কি কারণে এই রেলওয়ে জাতীয়করণ করা সম্ভব হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায় নি আজও। কারো কারো ধারণা তৎকালীন ভারত সরকারের উদাসীনতার কারণে এমনটি হয়েছে। ব্রিটিশ সংস্থা এখনো রেলপথটি রক্ষণাবেক্ষণ করে। 

 প্রায় ১০০ বছরের পুরনো এই ট্রেনটি বাস্প ইঞ্জিনের মাধ্যমে  চলতোএর জন্য প্রতিবছর সংস্থাটিকে এক কোটি ২০ লাখ টাকার কর দিতে হয় ভারত সরকারকে। তবে মোটা অংকের টাকা কর নিয়েও তারা কোনো সুব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে শকুন্তলা এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটি। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো এই ট্রেনটি বাস্প ইঞ্জিনের মাধ্যমে  চলতো। ১৯৯৪ সালে এটি ডিজেল ইঞ্জিনের দ্বারা চালনা করা শুরু হয়। 

ওই অঞ্চলের কয়েকশো মানুষের দৈনিক যাতায়াতের একটাই উপায় এই ট্রেন। এই যাত্রীবাহী ট্রেনে প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি লোক যাতায়াত করে। তাই সড়কপথের বাড়তি খরচ বইতে না পারা মানুষগুলো জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে ট্রেনটি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ