কারাবন্দীদের সিনেমাটিকভাবে ‘খুন’ করাই ছিল তার নেশা

কারাবন্দীদের সিনেমাটিকভাবে ‘খুন’ করাই ছিল তার নেশা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৯ ১৮ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৩:২৯ ১৮ জুলাই ২০২১

খুন করাই ছিল তার নেশা। ছবি: সংগৃহীত

খুন করাই ছিল তার নেশা। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়াল কিলিং বা সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই। ঠাণ্ডা মাথায়, পরিকল্পনা করে কোনো ব্যক্তিকে খুন করা আমরা গল্প-উপন্যাসে হরহামেশাই পড়ি। খুন কোনো কোনো মানুষের নেশা হতে পারে তা কি ভাবতে পারা যায়! সিরিয়াল খুনিদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে মনোবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে অপরাধবিজ্ঞানীদেরও গবেষণার শেষ নেই।

সিরিয়াল কিলার বা ধারাবাহিক খুনিদের নিয়ে যুগে যুগে বহু সিনেমা, গল্প, কাহিনীর জন্ম হয়েছে। রহস্যময় সেই সিরিয়াল কিলাররা হয়তো আমাদের আশেপাশেই লুকিয়ে আছেন আপনার মতো সাধারণ চেহারা নিয়েই! আজ এমন এক সিরিয়াল কিলারের কথা বলবো, যিনি ঠাণ্ডা মাথার কারাগারে থাকা ৪৮ জন কয়েদিকে হত্যা করেছে।

ব্রাজিলে এক সিরিয়াল কিলার নামে পরিচিত মার্কোস পাওলো ডা সিলভা নামের ব্যক্তি সম্প্রতি ব্রাজিলে এক সিরিয়াল কিলারকে ২১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মার্কোস পাওলো ডা সিলভা নামের ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। তিনি কারাগারে থাকা ৪৮ জন কয়েদিকে হত্যা করেছেন। মার্কোস সিলভা নিজেকে লুসিফার নামে পরিচয় দেন। ৪২ বছর বয়সী সিলভার ১৯৯৫ সালে চুরির দায়ে জেল হয়। তবে জেলখানায় এসে একের পর এক হত্যায় জড়িয়েছেন।

যাদের তিনি খুন করেছেন তারা সবাই চোর ও ধর্ষণকারীতিনি দাবি করেছেন, যাদের তিনি খুন করেছেন তারা সবাই চোর ও ধর্ষণকারী। ইউকে ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ডেইলি স্টার এই সংবাদ প্রকাশ করেছে। সিলভা প্রতিটি ভিকটিমকে পেছন থেকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করতেন। ভিকটিম জ্ঞান হারালে তারপর মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে ফেলতেন। কুখ্যাত এই ব্যক্তি সম্পর্কে আরো বলা হয়, তিনি ২০১১ সালে সাও পাওলোর কারাগারে ৫ জন কয়েদিকে হত্যা করেন। তাকে যখনই নতুন কোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হতো, সেখানেই হত্যাকাণ্ড ঘটাতেন।

তাকে যখনই নতুন কোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হতো, সেখানেই হত্যাকাণ্ড ঘটাতেনসিরিয়াল কিলিং সম্পর্কে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ডা সিলভা বলেন, আমি যাদের খুন করেছি তারা সবাই ধর্ষণকারী ও চোর ছিল। তারা জেলের ভেতরে অন্যান্য বন্দীদের থেকে জোর করে জিনিসপত্র কেড়ে নিতেন। তাদের খুন করে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি চিৎকার করে আরো বলেন, আমি এটা করে আনন্দ পাই। আমি আরো বহু বন্দীকে খুন করতে চাই। সিলভা সম্পর্কে সাইকোলজিস্টদের মতামত, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ নন। তবে তিনি পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে ভুগছেন, যার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রয়োজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ