৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বাস ছিল এই গডজিলা শার্কের!

৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বাস ছিল এই গডজিলা শার্কের!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪১ ২২ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১১:৪৪ ২২ এপ্রিল ২০২১

২০১৩ সালে মেক্সিকোতে সন্ধান মেলে এই শার্কের জীবাশ্মটির

২০১৩ সালে মেক্সিকোতে সন্ধান মেলে এই শার্কের জীবাশ্মটির

বিশ্বের অন্যতম বৃহদাকার প্রাণীর মধ্যে শার্ক অন্যতম। ধারণা করা হয়, ডাইনোসরের আমল থেকেই পৃথিবীতে এই শার্কের বসবাস। তবে সেসময় এর আকার ছিল আরো কয়েকগুণ বেশি। ২০১৩ সালে নিউ মেক্সিকোতে আবিষ্কার হয়েছিল গডজিলা শার্ক নামে এক দৈত্যাকার হাঙ্গর।

গবেষকরা এটিকে ‘ড্রাগাক্রিস্টিস হফম্যানরম’ বা ‘ড্রাগন শার্ক’ হিসেবে নামকরণ করেছেন। মূলত এর আকারের কারণেই এই নামকরণ করা হয়েছে। ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি বছর আগে এই হাঙ্গরটি জীবিত ছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা। 

৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি বছর আগে এই হাঙ্গরটি জীবিত ছিল বলে মনে করছেন গবেষকরাজন পল নামে একজন শিক্ষার্থী মেক্সিকোর আলবুকার্ক থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মানজানো পর্বত্মালার কাছে ৭ ফুট দৈর্ঘ্যের এই জীবাশ্মটি খুঁজে পান। আবিষ্কারের পর থেকে বিগত সাত বছর ধরেই চলছে এর বিস্তর গবেষণা। অন্য কোনো প্রজাতির সঙ্গে মিল আছে কিনা, তা নিয়েও চলেছে অনুসন্ধান। শেষ পর্যন্ত সম্প্রতি এই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রজাতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে নিউ মেক্সিকো মিউজিয়ামের বুলেটিন।

গত সপ্তাহে সেখানেই প্রকাশিত হয় গবেষণাপত্রটি। গবেষকরা জানাচ্ছেন আজ থেকে ৩০ কোটি বছর পূর্বেই অবলুপ্তির শিকার হয়েছিলো গডজিলা হাঙর। তার আগে ৩৯ কোটি বছর ধরে সমুদ্রের তলায় রাজত্ব করত এই প্রাণীটি।

২০১৩ সালে মেক্সিকোর আলবুকার্ক থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মানজানো পর্বতমালার কাছে একটি সাইটে খনন করছিলেন নৃতাত্ত্বিক স্নাতক পল হোডনেট। খুঁজছিলেন ডাইনোসরের জীবাশ্ম। তবে কেঁচো খুঁড়তে গিয়েই বেরিয়ে এল সাপ। অপ্রত্যাশিতভাবেই তিনি খুঁজে পান চোয়ালের একটি জীবাশ্ম। বয়স আনুমানিক ৩০ কোটি বছর। অবাক হয়ে গিয়েছিলেন হোডনেট। কারণ, সেই চোয়ালে সজ্জিত রয়েছে ১২ সারি দাঁত। প্রতিটিই বল্লমের মতো ধারালো। আয়তনে প্রায় ইঞ্চি খানেক। হোডনেটের বুঝতে অসুবিধা হয়নি, যে এই জিনিস ডাইনোসরের নয়।

মেক্সিকোর আলবুকার্ক থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মানজানো পর্বতমালার কাছে এটি আবিষ্কৃত হয়হাঙরের দাঁত সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে হোডনেট বলেছিলেন যে তারা “শিকারকে ছিদ্র করার পরিবর্তে শিকারকে আঁকড়ে ধরার এবং পিষ্ট করার জন্য দুর্দান্ত”। গবেষকদের মতে, এর দাঁতগুলো দেখে মনে হচ্ছে এটি অন্য কোনো আলাদা প্রজাতি হতে পারে। 

এনএমএমএনএইচএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে হাঙ্গরটির ১২টি সারি দাঁত ছিল এবং তার পিঠে ২.৫ ফুট দীর্ঘ লম্বালম্বি স্পাইন ছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘গডজিলা শার্ক’ এর জনপ্রিয় উপাধি দিয়েছিল। হফম্যান পরিবারকে সম্মান জানাতে এটার নাম দেয়া হয়েছ ‘ড্রাকোপ্রিস্টিস হফম্যানরম’ বা হফম্যানের ড্রাগন শার্ক। এই ড্রাগন শার্কটি হাঙ্গরের একটি বিবর্তনীয় প্রজাতির কথা জানাবে বিশ্বকে। যেটা প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে ছিল। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে