২০০ বছরের ‘ভূতুড়ে’ গ্রামে আজও প্রেমিকার অপেক্ষায় পথ চেয়ে প্রেমিক

২০০ বছরের ‘ভূতুড়ে’ গ্রামে আজও প্রেমিকার অপেক্ষায় পথ চেয়ে প্রেমিক

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০৩ ২ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৬:৫৭ ৩ এপ্রিল ২০২১

আজও প্রেমিকার অপেক্ষায় এই প্রেমিক; ছবিঃ সংগৃহীত

আজও প্রেমিকার অপেক্ষায় এই প্রেমিক; ছবিঃ সংগৃহীত

প্রায় ২০০ বছর আগের ঘটনা। স্বাভাবিক ছন্দেই চলছিল গ্রামবাসীদের জীবন। কিন্তু রহস্যজনক ভাবেই একদিন গ্রামবাসীরা কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন। আর তার পর কেটে যায় প্রায় ২০০ বছর। ঘটনাটি ভারতের রাজস্থানের জয়সলমীরের কাছে কুলধারা গ্রামের।

আজও সেই রহস্যের কারণ মানুষের কাছে অজানাই রয়ে গিয়েছে। সেখানে তাদের ফেলে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস আর শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই নেই এখন। তবে দেয়ালে কান পাতলে আজও শোনা যায় তাদের ধূসর হয়ে যাওয়া ইতিহাসের গল্প, হাসিকান্নার গল্প, জীবন ও যাপনের গল্প।

গ্রামটি বর্তমানে ভূত গ্রাম নামে পরিচিত। ভূতের আতঙ্কে শতাধিক বছর মানুষ আর এই মুখো হন না। পর্যটনের ব্যবস্থাও করেছিল রাজস্থান সরকার কিন্তু তাতেও তেমন সাড়া মেলেনি। গ্রামবাসীদের উধাও হওয়ার কারণ হিসেবে ইতিহাসবিদরা এবং বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্থানীয় শাসকদের অত্যাচারকে চিহ্নিত করেছেন। তবে নানারকম জনশ্রুতিও আছে। আর এই ভূতুড়ে গ্রামের একমাত্র বাসিন্দা এখন ৮২ বছর বয়সী এক দারোয়ান। যিনি এখানেই তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন।

অবশ্য এই প্রতিবেদনে ভূত নয়, আছে তার প্রথম প্রেমের গল্প। দারোয়ান স্মৃতিচারণ করতে করতে বলেন, আমি যখন প্রথম ম্যারিনার সঙ্গে দেখা করি তখন আমার বয়স ছিল ৩০ বছর। অস্ট্রেলিয়া থেকে ম্যারিনা পাঁচ দিনের সফরে রাজস্থানে এসেছিলেন এবং তিনি তাকে উট চালানো শিখিয়েছিলেন। এটা ছিল ১৯৭০-এর দশক। তিনি আরো বলেন, দু'জনেই দুজনের প্রেমে পড়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে ম্যারিনা আমাকে তিনটি শব্দ বলেছিল- আমি তোমাকে ভালোবাসি।

সম্প্রতি ৮২ বছর বয়সী ওই দারোয়ান বম্বে হিউম্যান্স’র সঙ্গে তার প্রথম প্রেমের গল্পটি নিয়ে কথা বলেছেন। জানিয়েছেন যে, এমনকি অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাওয়ার পরেও তাদের যোগাযোগ ছিল। ম্যারিনা এর পর তাকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। তখন তিনি ৩০,০০০ টাকা লোন নিয়ে মেলবোর্নে চলে যান, সেখানে তিনি ম্যারিনার সঙ্গে তিন মাস থাকেন।

তবে ম্যারিনা যখন তাকে বিয়ে করতে এবং তার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করতে চান, তখন বিষয়গুলো জটিল হয়। কারণ তিনি ভারত ছাড়তে প্রস্তুত নন, তিনি ভারতের বাইরে বসতি স্থাপনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। এর পর দেশে ফিরে তিনি পারিবারিক চাপে বিয়ে করেন এবং কুলধারার দারোয়ান হিসাবে চাকরি নেন। তিনি বলেন, তবে দিনরাত শুধু আমি ম্যারিনাকে নিয়ে ভেবেছি। সে কি বিয়ে করেছে, আমি কি আবার তাকে আবার দেখতে পাব? তবে আমি কখনই তাকে চিঠি লেখার সাহস পাইনি। তার ছেলেরা এখন বড় হয়ে বাইরে চলে গিয়েছেন এবং দু'বছর আগে তার স্ত্রীও মারা গিয়েছেন।

কিন্তু সম্প্রতি এক মাস আগে জীবন আবার তাকে চমকে দেয়। তিনি ম্যারিনার কাছ থেকে একটি চিঠি পান। কুলধারার দারোয়ান বলেন যে তিনি এবং ম্যারিনা প্রতি দিন একে অপরকে ফোন করে চলেছেন এবং শিগগিরই ম্যারিনা ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন। আর দারোয়ানের প্রেমের গল্পের তথ্যগুলো ফেসবুকের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের অসমাপ্ত প্রেমের গল্প সম্পূর্ণ হওয়ার।

সূত্রঃ নিউজ ১৮

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ