১৯ শতকে ব্রিটিশ সৈন্যকে পাঠানো রানি ভিক্টোরিয়ার চকলেট উদ্ধার

১৯ শতকে ব্রিটিশ সৈন্যকে পাঠানো রানি ভিক্টোরিয়ার চকলেট উদ্ধার

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৮ ২ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৬:৪১ ২ এপ্রিল ২০২১

স্যার হেনরি এডওয়ার্ড প্যাস্টন-বেডিংফিল্ডের এগুলো

স্যার হেনরি এডওয়ার্ড প্যাস্টন-বেডিংফিল্ডের এগুলো

১২১ বছরের প্রাচীন চকলেট খুঁজে পাওয়া গেলো যুক্তরাজ্যের জাতীয় ট্রাস্টের সম্পত্তিতে। সঙ্গে আছে একটি হেলমেট। দক্ষিণ আফ্রিকায় মোতায়েন করা যুদ্ধরত ব্রিটিশ সেনাদের মনোবল বাড়াতে ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়া পাঠিয়েছিলেন এই চকলেট বারের টিনের কৌটা। এখনো অক্ষত রয়েছে এটি, যার গায়ে সাউথ আফ্রিকা ১৯০০ লেখা। 

চকলেটের কৌটায় রানির হাতের লেখা শুভেচ্ছা বার্তাও ছিল। সেখানে লেখা ‘সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। কৌটায় রানির একটি ছবির সঙ্গে খোদাই করে লেখা আছে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯০০’। ওই চকলেট স্যার হেনরি এডওয়ার্ড প্যাস্টন-বেডিংফিল্ড নামের এক সৈন্যের। তিনি দ্বিতীয় বোয়ের যুদ্ধে (১৮৯৯-১৯০২) সাউথ আফ্রিকান রিপাবলিকের দুটি স্বাধীন স্টেটের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধ করেন।

এই চকলেট রানি পাঠিয়েছিলেন ব্রিটিশ সৈন্যদের ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের নরফোকের অক্সবার্গ হলে ৫০০ বছরের পুরোনো একটি বাড়িতে হেনরির হেলমেট কেসের সঙ্গে ওই চকলেটের কৌটাও ছিল। ক্যাডবেরি, ফ্রাই, এবং রাউন্ট্রি দ্বারা দ্বিতীয় বোয়ের যুদ্ধে সৈন্যদের জন্য এক লাখেরও বেশি টিন তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিটি চকলেটের ওজন ২২৬ গ্রাম করে।

ন্যাশনাল ট্রাস্ট–সংশ্লিষ্টদের ধারণা, যুদ্ধে অংশগ্রহণের স্মৃতি হিসেবে হেনরি তার হেলমেট ও চকলেট একসঙ্গে রেখেছিলেন। হেনরির মেয়ে ফ্রান্সেস গ্রেটহেডের ১০০ বছর বয়সে ২০২০ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর পর এসব স্মৃতি স্মারক উদ্ধার করা হয়। সেসসময় চকলেট কারখানাগুলো পরিচালনার দায়িত্বে ছিল কোয়েকার্স। তারা অবশ্য যুদ্ধের বিরোধী ছিল। তারা চকলেট সরবরাহের বিনিময়ে কোনো অর্থ নিতে চায়নি। তাই তারা চকলেটের টিনে ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করেনি। 

খাওয়ার উপযোগী না হলেও মোটামুটি অক্ষতই আছে চকলেটটি তবে রানি চেয়েছিলেন, তার পাঠানো এই উপহারের কথা যেন ব্রিটিশ সেনারা জানতে পারেন। এ কারণে চকলেট উৎপাদনকারীরা কিছু চকলেট ব্র্যান্ডিং করতে রাজি হলেও কৌটায় ব্র্যান্ডিং করেনি। সেই চকলেটের কিছু কৌটা টিকে থাকলেও আসল কৌটা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ন্যাশনাল ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, এত দিন পর চকলেটের কৌটার মূল মালিকের খোঁজ পাওয়া বিরল। চকলেট উপহার পেয়ে অনেকেই তা খেয়ে ফেলেছিলেন বলে চকলেট পাওয়া আরও কঠিন ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে