২০০০ বছরের পুরনো ঘোড়ার রথের সন্ধান

২০০০ বছরের পুরনো ঘোড়ার রথের সন্ধান

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪২ ১ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৬:৪৬ ১ মার্চ ২০২১

২০০০ বছরের পুরনো এই ঘোড়ার রথটি

২০০০ বছরের পুরনো এই ঘোড়ার রথটি

ইতালির পম্পেই নগরীকে বলা হয়  প্রত্নক্ষেত্র। হাজার হাজার বছর আগে ধ্বংস হওয়া এই নগরীর পরতে পরতে লুকিয়ে আজো অজানা অনেক কিছু। এখনো সুনির্দিষ্টভাবে এর ধ্বংসের কারণই জানা যায়নি। আজও এই ধ্বংসাবশেষে লুকিয়ে আছে প্রাচীন যুগের নানা অজানা ইতিহাস। বিভিন্ন সময় প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখানে নানান জিনিস খুঁজে পাচ্ছেন। যা আশার আলো দেখাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। এগুলো থেকে জানা যাচ্ছে সে সময়কার মানুষের জীবনযাত্রা। 

এবার ঠিক তেমনই এক নিদর্শন পাওয়া গেল আগ্নেয়গিরির লাভার নিচেই। প্রত্নতাত্ত্বিকরা আবিষ্কার করলেন দুই চাকার এক রথ। দুই হাজার বছর ধরে এর নিচে লুকিয়ে ছিল ঘোড়ায় টানা প্রাচীন রথটি। আর এর থেকে দক্ষিণ আলপস অঞ্চলের প্রাচীন জনজাতির জীবনধারার অনেক তথ্যই জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় এই নগরী ইতালির অন্যতম দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি পম্পেই নগরী। সবসময় সেখানে ভিড় লেগেই থাকে। তবে বর্তমানে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ করা হয়। আর তার ফলেই প্রত্নতাত্ত্বিকরা নতুন করে আবিষ্কার করতে পারছেন অজানা আরও নমুনা। ২০২১ সালের শুরুতেই, ৭ জানুয়ারি নতুন করে খননকার্য চালাতেই একটি ধাতব গঠনের মাথা দেখতে পাওয়া যায়। অবশ্য সম্পূর্ণ রথটি অক্ষত অবস্থায় পাথর থেকে বের করে আনতে কয়েক সপ্তাহ লেগে গিয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিকদের।

মূলত লোহার তৈরি এই রথটির গায়ে অসাধারণ কারুকার্য অবাক করেছে প্রত্নতাত্ত্বিকদের। আর নানা ধরনের অলঙ্করণ ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ব্রোঞ্জ এবং টিন। ঐতিহাসিকদের প্রাথমিক মত, এই রথের দুটি কক্ষে পুরোহিত ও নারীদের জন্য আলাদা আলাদা বসার ব্যবস্থা ছিল। এই রথ বিবাহের অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে অন্য কোনো ধরনের উৎসবে তার ব্যবহার ছিল কিনা, সেটা জানতে আরো গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন ঐতিহাসিকরা।

রথটি ২০০০ বছর আগেকার বলে ধারণা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা আনুমানিক ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পম্পেই শহর লাভার নিচে চাপা পড়ে যায়। এটি এমন এক নগরী যেটি ধ্বংস হওয়ার সময় সেখানকার মানুষ চোখের পলক ফেলার সময়টুকু পায়নি। মুহূর্তেই মানুষগুলো ভস্মে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু কেন এমন হল? এ নগরী নিয়ে ইসলাম ধর্মের পবিত্র কুরআনে আয়াত নাজিল হয়েছে। 

ইতালির কাম্পানিয়া অঞ্চলের নেপলসের (নাপোলি) কাছে যে আগ্নেয়গিরি রয়েছে তার পাদদেশে "পম্পেই" নামক ছোট এ নগরীটি অবস্থিত। হাজার বছরের পুরনো একটি শহর এটি। আজ থেকে প্রায় দু-হাজার আশি বছর পূর্বে পম্পেই নামক নগরটি রোমানদের দ্বারা অধিকৃত হয়। সেই থেকে রোমানরা সেখানে বসবাস শুরু করে। অভাব নামক শব্দটি হয়ত তাদের কাছে ছিল একদমই অপরিচিত। প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি ছিল এ নগরটি। 

ইতালির অন্যতম দর্শনীয় স্থান এটি সে সময়কার পৃথিবীর সব থেকে সুখি নগরী ছিল এটি।  ঠিক কোন ধরনের জনজাতির বাস ছিল সেখানে, তাও আজ নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। কিন্তু পম্পেই নগরীর মানুষগুলো ছিল অত্যন্ত বর্বর, অসভ্য ও নির্মম। তারা যে আগ্নেয়গিরির পাদদেশে বসবাস করতে সেই আগ্নেয়গিরির আগুন ও ছাই এক মূহুর্তে ধ্বংস করে দেয় নগরীটি। সেখানকার প্রতিটি মানুষ,পশুপাখি সহ সকল জীবন্ত প্রাণের স্পন্দন চোখের পলকে ভষ্মীভূত হয়ে যায়। আগ্নেয় শিলার নিচে প্রায় সব কিছু আজো অক্ষত অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। এই বিশাল নগরীর মাত্র ২০ হেক্টর অঞ্চল খনন করা সম্ভব হয়েছে। ধীরে ধীরে খননকার্য যত এগোতে থাকবে, পম্পেই শহরের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে আরও নানা রোমাঞ্চকর তথ্য হয়তো জানতে পারবে বিশ্ববাসী। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে