বাস্তবের টারজান, ২৪ বছরে একবারও কাটেননি চুল

বাস্তবের টারজান, ২৪ বছরে একবারও কাটেননি চুল

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৫ ২০ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:৪২ ২০ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: জঙ্গলের রাজা জেসন

ছবি: জঙ্গলের রাজা জেসন

টারজান চরিত্র সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছু জানা আছে। ছোটবেলায় টারজানের গল্প কে না পড়েছে। এডগার রাইস বারোসের লেখা সেই বিখ্যাত চরিত্র যার ছোটবেলা কেটেছিল জঙ্গলে। বড় হয়ে সেই হয়ে ওঠে জঙ্গলের রাজা টারজান। সেই গল্প পড়তে পড়তে কার না মনে হয়েছে একবার, যদি এমন জীবন কাটাতে পারতাম। 

তবে বাস্তবে কি আর এমন হয়, ভেবে নিজেকেই সান্ত্বনা দেয়া। আবার ধরা যাক জঙ্গল বুকের মোগলির কথা। মানব সন্তান মোগলি কীভাবে যেন এসে পড়ে জঙ্গলের মধ্যে শৈশবেই। সেখানেই জন্তু জানোয়ারের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠা, তাদের মতোই কাটানো বন্য জীবন এবং জঙ্গলের শত্রুদের হারিয়ে রাজা হয়ে ওঠা। এসবই আসলে রূপকথা।

জঙ্গলের রাজা জেসনএ সবই আসলে কাল্পনিক গল্প। তবে গল্প যদি বাস্তবে এসে দাঁড়ায়? যদি বাস্তবেই দেখা পাওয়া যায় মোগলি কিংবা টারজানের? অবাক হচ্ছেন, ভাবছেন এ আবার হয় নাকি! আসলে এই পৃথিবীতেই এমন কেউ কেউ থাকে যারা নিজেদের স্বপ্নের জন্য যেকোনো লড়াই লড়তে পারে। তেমনই এক মানুষ হংকং এর জেসন। বাস্তবের টারজান বলাই যেতে পারে যাকে।

হংকং-এর সমুদ্রের পাশের এক জঙ্গলে থাকেন জেসন। কাটান এমন এক জীবন যা অনেক মানুষেরই স্বপ্ন। তার সময় কাটে নাচ করে, গান গেয়ে, পাহাড়ে চড়ে এবং বিশাল সমুদ্রে সাঁতার কেটে। বলা যেতে পারে এক স্বাধীন জীবন তার। তিনি চুল কাটেন না। অসম্ভব লম্বা চুল তার যা গত ২৪ বছরে কখনো কাটেননি তিনি।

প্লাস্টিকের বোতল এবং গাছের ডাল দিয়ে বাড়ি তৈরি করেছেন জেসনতার নিজের কথায়, আমার চুল আমার শক্তির প্রধান উৎস এবং আমি কখনো চুল কাটব না। জেসন সুস্থ জীবন যাপনের জন্য নিজেই নিজের খাবার উৎপাদন করেন যা সম্পূর্ণ অর্গানিক। তিনি তার এক বন্ধুর সাহায্যে একটি অনন্য বাড়ি নির্মাণ করেছেন। 

বাড়িটি তৈরি হয়েছে সমুদ্র সৈকতের আবর্জনা, পুরোনো প্লাস্টিকের বোতল এবং গাছের ডাল দিয়ে। জেসন গর্বের সঙ্গে বলেন বাড়ি তৈরির জন্য একটি গাছও কাটা হয়নি। ওয়াল্ট ডিজনি সংস্থা তার অনন্য প্রতিভার ব্যাপারে জানতে পেরে তাকে নিজেদের নতুন এক শো-এর জন্য ভাড়া করেছে। এই শো-এ তার অনন্য জীবনযাপন দর্শকদের দেখানো হয়।

জেসন জেসনের ছোটবেলা কেটছে ভীষণই কঠিন সময়র মধ্যে দিয়ে। ফিলিপিনসে জন্মানো জেসন তার মা-কে ছোটবেলাতেই হারান। তারপর গৃহহীন জেসন বড় হন গীর্জা চত্ত্বরে এবং মেট্রো স্টেশনে রাত কাটিয়ে। তিনি চাকরি খোঁজার বহু চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু লাভ হয়নি। 

নানান জায়গায় ঘুরেও তিনি নিজের জীবনযাপনের জন্য একটিও চাকরি জোগাড় করতে পারেননি। অবশষে বহু কষ্ট এবং সংঘর্ষের পর জেসন আসেন হংকং-এ। এরপর বেছে নেন এমন এক জীবন। যার খোঁজ করেছেন তিনি সারা জীবন ধরে। 
তিনি বলেন, শহুরে নাগরিকের জীবন তার পছন্দ নয়। তিনি শহরে বাস করার চেষ্টা করেছেন। তবে শহরের ব্যস্ত জীবন সহ্য হয়নি তার। বরং তিনি অনেক ভালো আছেন একা একা এভাবে সমুদ্রের তীরে নির্জনে বাস করে।

জেসনআজ সমুদ্রে অফুরন্ত সাঁতার কেটে, পাহাড়ে চড়ে, জঙ্গলের গাছেদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সত্যিই ভালো আছেন জেসন। জেসন কোনো কাল্পনিক চরিত্র নন, নন কোনো বইয়ের পাতায় লেখা নায়ক, বরং তিনি প্রবলভাবেই একজন বাস্তবের টারজান।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে