রাজধানীতে বাহারি রংয়ের গামছার দেয়াল

রাজধানীতে বাহারি রংয়ের গামছার দেয়াল

এ কে সালমান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫১ ২৫ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৬ ২৫ নভেম্বর ২০২০

ছবি: গামছার দেয়াল

ছবি: গামছার দেয়াল

রাজধানী শ্যামলীর শিশু পল্লীর দেয়াল জুড়ে লাল, নীল, সবুজ, বেগুনিসহ নানা রকম বাহারি রংয়ের গামছার পরসা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সকালের সূর্য কিরণ ছড়ানোর পরপরই দেয়ালে গামছা টাঙাতে শুরু করেন গামছা ব্যবসায়ীরা। ছোট, বড়, মাঝারি বিভিন্ন সাইজের এসব গামছা পথচারীসহ যে কাউকে মুগ্ধ করে। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পথে অনেক পথচারী শখের বসে হলেও এখান থেকে গামছা কিনে নিয়ে যায়।  

দেয়ালে ঝুলছে গামছাসম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শ্যামলী শিশু মেলার ফুটওভার ব্রীজ থেকে শুরু করে শ্যামলী ২ নাম্বার রোড পর্যন্ত শিশু পল্লীর এই পুরো দেয়াল ঘিরে থাকে বাহারি রংয়ের গামছা।

জানতে চাইলে পথচারী আকবর হোসেন বলেন, এই দেয়ালকে যেভাবে গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম মনে হয় দেয়ালের সৌন্দর্য ফুটে তোলার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

রঙিন দেয়ালতবে আস্তে আস্তে দেখা যায় অনেকে এসে দামাদামি করে গামছা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তখন মনে হলো আসলে এখানে তারা গামছা বিক্রির জন্য দেয়াল সাজিয়ে রেখেছেন।  

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই দেয়াল দেখে আমরা অনুপ্রাণীত হই। কারণ আমাদের চারপাশে এমন হাজার হাজার দেয়াল পরে আছে। কোনো কোনো দেয়ালের মধ্যে নানান রকম লেখনীর কারণে খসে পড়ে যাচ্ছে। আবার কোনোটা অযত্নে অবহেলায় শ্যাওলা জমে ফাটল ধরেছে। আবার কোনোটার মধ্যে ছোট ছোট গাছ উঠে আছে। তবে এই দেয়ালটা সব দেয়াল থেকে ভিন্নতা এনেছে।  

গামছার দেয়ালতারা বলেন, বড় ছোট নানান রংয়ের গামছা দিয়ে দেয়ালটা যেমন ঢেকে দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তেমনি দেয়ালের যত্নও নেয়া হচ্ছে। মাঝে মাঝে দেখা যায়, ভিনদেশীরা এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গামছা দিয়ে সাজানো এমন দেয়াল দেখে গাড়ি থেকে নেমে তাদের সঙ্গে যেমন সেলফি তুলছে। তেমনি বিদায় নেয়ার সময় গামছা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। 

দেয়ালে টানানো গামছা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, আমরা এখানে দীর্ঘ ১০/১১ বছর ব্যবসা করছি। তিনি বলেন, এই দেয়াল জুড়ে ৮ থেকে ১০ জন ব্যবসায়ী আছে। আমরা এই গামছাগুলো টাঙ্গাইলের করটিয়া, বাবুরহাট, গাউছিয়া থেকে এনে এখানে বিক্রি করছি। 

গামছা কিনছেন পথচারীঅনেকে এখানে গামছা দেখতে এসে পছন্দ হলে গামছা কিনে যায়। দেয়াল এভাবে সাজিয়ে রাখার কারণে অনেক ভদ্রলোক এসে আমাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে যায়। মাঝে মাঝে অনেকে গাড়ি থামিয়ে পরিবারের বাচ্চারাসহ এসে নিজের মতো করে পছন্দ করে গামছা কিনে নিয়ে যায়। 

করোনা আসার পর থেকে এখন তেমন একটা ক্রেতা নেই। তবে আমরা আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার মানুষের ভীড় জমবে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/কেএসকে