রহস্যময় এই স্থাপত্য তৈরি করেছিল কে? জানা নেই কারো

রহস্যময় এই স্থাপত্য তৈরি করেছিল কে? জানা নেই কারো

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৬ ২১ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৯ ২১ নভেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অতীতের অনেক নিদর্শন পাথর কেটে তৈরি করা হয়। সেসব নিদর্শন আমরা প্রায় দেখতে পাই। বিশ্বজুড়ে পাথর কেটে বিভিন্ন স্থাপত্য নির্মাণের অসংখ্য নিদর্শন আছে। 

আরো পড়ুন: শত ভূমিকম্পেও ধ্বসেনি ১৫ শতকের এই দুর্গ নগরী

এর মধ্যে ‘পুমা পুংকু’ অন্যতম। ইতিহাসবিদরা ধারণা করেন, পাথরের এই কাজগুলো করা হয়েছিল প্রায় ১৭ হাজার বছর আগে। এর সূক্ষ্ম কাজ দেখলে মনে হতে পারে হীরা কাটা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।

আরো পড়ুন: রহস্যময় কাণ্ড! মুখে ইট ঢুকিয়ে সমাধি দেয়া হয় এই নারীকে

দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ার রাজধানী লা-পাজ থেকে ৪৫ মাইল দূরে এন্ডিজ পবর্তের পাদদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ১২ হাজার ফুট উঁচুতে প্রাচীন এই ঐতিহ্য সত্যি এক বিস্ময়। ‘পুমা পুংকু’ শব্দের অর্থ হচ্ছে পুমার দরজা। 

ধ্বংসাবশেষজানা গেছে, প্রাচীন এক মন্দির ছিল এই পুমা পাংকু। এটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল, তা আজও এক মস্ত রহস্য। প্রত্নতত্ত্ববিদদের পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনকা সভ্যতারও আগে তিউয়ানাকু সম্রাটদের শাসনামলে তৈরি করা হয়েছিল মন্দিরটি। অর্থাৎ ৩০০ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি কোনো একসময় নির্মাণ করা হয় এটি।

আরো পড়ুন: নির্মাণ কাজ ছাড়াই তৈরি হয়েছে জ্বিনের মসজিদ!

গ্রানাইট পাথরের তৈরি এ প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের কয়েকটি পাথর ২৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং ১৫০/২০০ টন ভারী। যদিও মূল কাঠামোটি এখন আর বোঝা যায়না। সেখানকার বড় পাথরগুলোর অবস্থান দেখলে মনে হয় প্রচণ্ড ভারী এক শক্তি সেগুলোকে লণ্ডভণ্ড করেছে।

আরো পড়ুন: জাগ্রত দেবীর পায়ে বলি দেয়া হতো মানুষ!

‘পুমা পুংকু’র সঠিক বয়সকাল কেউ সঠিকভাবে বলতে পারেনি। আর্থার পোলানস্কি নামের একজন বলিভিয়ান প্রত্নতত্ত্ববিদ তার সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন ‘পুমা পুংকু’ এবং এর পাশেই অবস্থিত টিয়ানাকু এই দুই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটের উপর গবেষণা করে। 

লণ্ডভণ্ড করা হয় স্থপত্যটিতার ভাষ্যমতে- ‘পুমা পুংকু’ প্রায় ১৫ হাজার বছরের পুরনো। পুমা পুংকু-এর আসল রহস্য তার পাথরের কাটিংয়ে। যেভাবে পাথরগুলো কাটা হয়েছিল তা বতর্মানের ডাইমন্ড কাটের সঙ্গে তুলনীয়! 

নিদির্ষ্ট এ্যাঙ্গেল ব্যবহৃত হয়েছে যেমন- ৯০ ডিগ্রী, গোল সেপ, ওভাল শেপ। আবার নির্দিষ্ট দূরুত্বে গর্ত করা হয়েছে। একই মাপের একই সাইজের অসংখ্য ব্লক তৈরি করেছিল। এসব প্রমাণ করে তারা পরিকল্পনা করতে পারত মানে লিখতে পারতো, হিসাবও কষতে পারত!

লোকাল মীথ অনুযায়ী, এখানে ‘গড’রা বাস করতো। তাদেরকে কেন্দ্র করে টিয়ানাকু শহরটা গড়ে ওঠে অনেকটা তীর্থের মতো। আবার এনসিয়েন্ট এস্ট্রোনাট থিওরিস্টরা বিশ্বাস করে এটা ছিল বর্হিজাগতিক শক্তিদের বা এলিয়েনদের বাহনের উঠানামার জায়গা। অনেকটা এয়ারপোর্টের মতো।

১০০ টনেরও পাথর রয়েছে সেখানেতবে কে পুমা পুংকুর অবকাঠামো তৈরি করেছিল? অবকাঠামোটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল? কেন এই অবকাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন পর্যন্ত অজানা। এর গঠন, আকার এবং অবস্থান বেশ ভিন্ন ধরনের।

প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ধারণা করে থাকেন, পুমা পুংকুর এই বিশাল পাথরখণ্ডগুলো আনা হয়েছিল প্রায় ৬০ মাইল দূর থেকে। তবে পুমা পুংকু ১২ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, যার অর্থ হচ্ছে এ জায়গাটি ‘ন্যাচারাল ট্রি লাইন’ এর উপরে অবস্থিত, যেখানে কোনো গাছ জন্মাত না। 

তাহলে সেখানে গাছ কেটে কোনো বাহন বা অন্য কিছু বানানো সম্ভব ছিল না। যার সাহায্যে এই বিশাল প্রস্তরখণ্ডগুলো দূর থেকে টেনে আনা যাবে এখানে। প্রশ্ন হচ্ছে- তাহলে কীভাবে এই বিশাল পাথরগুলোকে এখানে বয়ে আনা হয়েছিল?

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস