মদ ও ধূমপান ছাড়তে এই নারী যা করলেন

মদ ও ধূমপান ছাড়তে এই নারী যা করলেন

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৯ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: গ্রেস স্মিথ

ছবি: গ্রেস স্মিথ

বর্তমানে অনেক নারীও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে ধূমপান এখন যেন এক নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়। তেমনই এক নারীকে নিয়ে আজকের লেখা। যিনি মাদকাসক্ত জীবন ছাড়তে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করেছেন। 

মদ্যপান ছেড়ে দিলেও ধূমপান ছাড়া কিছুতেই সম্ভব হচ্ছিল না গ্রেস স্মিথের পক্ষে। ২০১১ সালে, যখন তার ২৫ বছর বয়স, নিউইয়র্কে তহবিল সংগ্রহের এক মানসিক চাপের চাকরি করতে হতো তাকে।

স্বাস্থ্যকর জীবন কাটানোর কোনো উপায় ছিল না বলে জানান তিনি। নিজের সব মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠা কাটানোর একটা উপায়ই খুঁজে নেন তিনি। আর তা হলো সবসময় পার্টি করা। 

আরো পড়ুন: মাটি ছাড়াই শাক-সবজি বাড়বে পানিতে ভেসে

লোয়ার ইস্ট সাইড এলাকায় থাকতাম। আমার বন্ধু-বান্ধবরাও ওই অঞ্চলেই থাকত। সারাদিন গাধার খাটুনি খেটে সারারাত পার্টি করতাম আমরা। আর সেটির দাম আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ ভালোভাবেই মেটাতে হয়েছিল বলে জানান এই নারী।

গ্রেস এক সময় উপলব্ধি করলেন, তাকে সুস্বাস্থ্যবতী হতেই হবে। তাই পার্টি করা ছেড়ে দিলেন। নিজেকে করলেন সংযত। তবে ব্যাপক ধূমপানের যে অভ্যাস গড়ে উঠেছিল, চুইংগাম কিংবা অন্য কিছুর সহায়তায়ও সেটি ছাড়তে পারছিলেন না।

গ্রেস স্মিথএকদিন এক বন্ধু পরামর্শ দিলেন হিপনোসিস চেষ্টা করার জন্য। যদিও তখন এসবে তার একদমই আস্থা ছিল না। তবে প্রথম প্রথম সেশনের পরই নিকোটিন ছেড়ে দিতে পেরেছিলেন বলে জানান গ্রেস। আর সেই অভিজ্ঞতা তাকে অনুপ্রাণিত করে নিজেই একজন হিপনোথেরাপিস্ট হয়ে উঠতে।

তিনি বর্তমানে ‘গ্রেস স্পেস হিপনোসিস’ ফার্মের মালিক। দুনিয়ার নানা প্রান্তের আড়াই লাখেরও বেশি মানুষকে অনলাইন হিপনোথেরাপি দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, খেলোয়াড় ও তারকারা।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সফল ব্যক্তিরা ঘুমানোর আগে যা করেন

৩৪ বছর বয়সী এই নারী হিপনোথেরাপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনে নিয়মিত হাজির হন। হিপনোসিসের ওপর বইও লিখেছেন দুটি।

হিপনোথেরাপি আসলে কী?

অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে হিপনোটাইজমকে বর্ণনা করা হয়েছে, কোনো রকম শারীরিক বা মানসিক অবস্থার পরিবর্তন না ঘটিয়ে, শুধু কিছু বাহ্যিক পরামর্শ কিংবা দিকনির্দেশনার মাধ্যমে মানুষকে কৃত্রিমভাবে এমন মানসিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যেন সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে ও অবচেতনেই বাধ্যগত হয়ে উঠেছে।

গ্রেস স্মিথগ্রেস এটিকে সহজ কথায় উদ্দেশ্যমূলক ধ্যান বলে অভিহিত করেন। ওজন কমানো থেকে শুরু করে কোনো অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটানো কিংবা কোনো লক্ষ্য অর্জন- এ রকম নানা কারণেই তার ক্লায়েন্টরা এই সেবা নিয়ে থাকেন। যদিও অনেকেই এখনো হিপনোথেরাপিকে একটি বিতর্কিত অনুশীলন বলে গণ্য করেন, তবু প্রচুর মেডিকেল সংস্থা এর পক্ষে রয়েছে। 

নিউ জার্সিতে জন্মা গ্রেসের। তার বেড়ে ওঠাও সেখানে। গ্রেস নিউইয়র্কের ওয়াগনার কলেজ থেকে ইংরেজি, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও ধর্মীয় শিক্ষা বিষয়ে পাঠ নিয়েছেন। এরপর মানবাধিকার বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

আরো পড়ুন: ইউক্যালিপটাস: পরিবেশের জন্য মারাত্মক এক গাছ

হিপনোথেরাপিস্ট হওয়ার জন্য ২০১১ সালে তিনি একটি ২৫০ ঘণ্টা মেয়াদী সার্টিফিকেশন কোর্স সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে হিপনোথেরাপিস্ট হতে হলে এই প্রশিক্ষণ নেয়া আবশ্যক। যদিও একেক দেশে একেক নিয়ম রয়েছে।

কোর্সটি সম্পন্ন করার পর তিনি নিজের পুরনো চাকরি ছেড়ে দেন এবং নিউইয়র্কের একটু ‘পুঁচকে’ অফিস থেকে একজন পেশাদার হিপনোথেরাপিস্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।

গ্রেস স্মিথসাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রেস ও তার বর্তমান ফ্লোরিডাভিত্তিক ব্যবসাটি বেশ দাপটের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। আর এক্ষেত্রে টেলিভিশনে তার নিয়মিত হাজিরার ভূমিকাও কম নয়। সিবিএস-এর ডেটাইম হেলথ চ্যাট শো ‘দ্য ডক্টরস’ এবং সনি’র ‘দ্য ড. ওজ শো’তে অংশ নেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ান হিপনোথেরাপি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অ্যাওয়েকন্যান-এর প্রতিষ্ঠা জোডি ক্লার্ক বলেন, হিপনোসিসকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে নিরলস খেটে যাচ্ছেন গ্রেস।

আরো পড়ুন: শিশুদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমেই তৈরি হয় মেকআপ

গ্রেসের ‘দ্য গ্রেস স্পেস হিপনোথেরাপি স্কুল’-এ এখন পর্যন্ত ৮৫ জনেরও বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নিজের মূল কোম্পানির সঙ্গে সম্মিলিতভাবে এ বছর তিন মিলিয়ন মার্কিন ডলার বার্ষিক আয়ের আশা করছেন গ্রেস। তার মূল কোম্পানিতে কর্মচারীর সংখ্যা ৪০।

হিপনোথেরাপিকে দুনিয়াজুড়ে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলতেই কাজ করে যেতে চান গ্রেস। তিনি বলেন, এখনো অনেকেই এটি সম্পর্কে ভুল ধারণা রাখেন। অনেকেই এ কাজকে মনের নিয়ন্ত্রণ হিসেবে ধরে নেন। যা একেবারেই ভুল ভাবনা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস