মাশরুমের কফিন বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগালো ২৩ বছরের তরুণ

মাশরুমের কফিন বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগালো ২৩ বছরের তরুণ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৮ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৫০ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: মাশরুম কফিন

ছবি: মাশরুম কফিন

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মৃতদেহ সৎকার করার রয়েছে নানা রীতি। শুধু রীতি বললে খানিকটা কম বলা হয়ে রয়েছে অদ্ভুত রীতি। তবে এবার জানাবো আরো এক অদ্ভুত ব্যাপার। সেটি হলো মৃতদেহ কবর দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাশরুমের কফিন।  

নেদারল্যান্ডসের টিইউ ডেলফ্টের গবেষক বব হেন্ডরিক্স তৈরি করেছেন এই পরিবেশ বান্ধব কফিন। গত ১৫ তারিখে এই কফিনে একজনকে দাফন করা হয়েছে। হেন্ডরিক্সের মতে, মাশরুম থেকে তৈরি এই কফিন পরিবেশ বান্ধব। কেননা যে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা মৃতদেহ কবর দেই তাতে কাঠের কফিন ব্যবহার করা হয়। এতে করে মৃতদেহ মাটির সঙ্গে মশে যেতে সময় লাগে প্রায় এক দশকেরও বেশি।

বব হেন্ডরিক্সআবার শরীরে সিনথেটিক কাপড় পরানোর কারণে এই প্রক্রিয়া হয় খুবই ধীর গতিতে। তবে মাইসেলিয়াম কফিনটিতে এই প্রক্রিয়া হয়ে সময় লাগবে একমাস থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে। মাটির সঙ্গে কফিন এবং মৃতদেহ পুরোপুরি মিশে যাবে। এতে পরিবেশের ক্ষতিও হবে না। বরং আরো উর্বর হবে মাটি। আবার খুব কম সময়েই সমাধি পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। সব কিছু মিলিয়ে সময় লাগবে দুই থেকে তিন বছর।

আরো পড়ুন: অ্যান্টার্কটিকায় মিলল অজানা এক মাছ, এলিয়েন ভেবে সংশয়

 

মাশরুম দিয়ে তৈরি  কফিনআর এই কফিনে খরচও অনেক কম। নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন বন থেকে এই মাশরুম এবং ছত্রাকগুলো সংগ্রহ করেন হেন্ডরিক্স। মূলত কফিন তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় মাইসেলিয়াম। এটি হলো ফাইবারের মাদুর। যা ছত্রাকের ভূগর্ভস্থ অংশ গঠন করে। একেকটি কফিন বানাতে তার সময় লেগেছে ১৫ থেকে ২৫ দিন। খরচ পড়েছে ৫০০ থেকে হাজার ডলার মাত্র। হেন্ডরিক্স শুরুতে মাত্র ১০ টি কফিন তৈরি করে। এতে তার সর্বমোট খরচ হয়েছে ১২৫০ ডলারের মতো। কফিনের নাম দেয়া হয়েছে লিভিং কোকুন। এই কফিনে করে মৃতদেহ কিন্তু মাটি চাপা দেয়া হয়না। মাটির উপরেই রাখা হয়। একসময় বনের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে শবদেহ। এতে করে মাটির পুষ্টি যোগান হবে।

এভাবেই জঙ্গলের ভেতর রেখে দেয়া হয় কফিনগুলো হেন্ডরিক্সের মাত্র ২৩ বছরের এক তরুণ। তিনি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অফ ডেলফ্টে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন এই উদ্ভাবনী দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীদের। সবাই তার এই উদ্ভাবনীকে ভালো ফল দেবে বলে আশা করছেন। তাকে নানা জন উৎসাহ জুগিয়ে যলেছেন। এতে করে হেন্ডরিক্স তার কাজ এগিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করেন।

সূত্র: দ্যগার্ডিয়ান   

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে