৩০ টাকার ‘আনানাস’, ভাগ্য বদলে দিচ্ছে পাহাড়িদের

৩০ টাকার ‘আনানাস’, ভাগ্য বদলে দিচ্ছে পাহাড়িদের

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০৩ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: পাহাড়িদের চিপস

ছবি: পাহাড়িদের চিপস

পাহাড়ি আনারসের কদর বিশ্বজুড়েই। এই আনারসগুলো অনেক রসালো ও স্বাদে মিষ্টি হয়ে থাকে। দেখতে সবুজ, ভেতরটা থাকে হলুদ। তাইতো রাঙামাটির আনারসের কদর দেশ জুড়ে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ আনারস বাণিজ্যিকভাবে রফতানি করা হয় বিদেশেও। তবে সংরক্ষণের অভাবে বছরে হাজার-হাজার আনারস পচে যায়। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না

আরো পড়ুন: ছাই থেকে সোনা খুঁজে স্বাবলম্বী হাজারো পরিবার

তবে এখন শুধু আনারস না, আনারসের চিপসও ব্যাপক সারা জাগিয়েছে পাহাড়ে। পরীক্ষামূলক তৈরি পাহাড়ের আনারসের চিপস কৃষকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পাইলট প্রকল্প সফল হলে এটি ছড়িয়ে দেয়া হবে তিন পার্বত্য জেলায়। 

তৈরি হচ্ছে আনারসের চিপসসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ঢাকা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় রাঙামাটি নানিয়ারচর হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃপক্ষ পাহাড়ের ফলমূল দিয়ে চিপস ও আচার বানানোর জন্য একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেন। এ প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় নির্মাণ করা হয় আনারসের চিপস উৎপাদন কারখানা। চলতি বছরের জুনে কারখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। 

আরো পড়ুন: মাটির নিচে রহস্যময় এক শহর, সন্ধান জানা নেই কারো!

এরই মধ্যে কারখানায় আনারসের চিপস উৎপাদন পরীক্ষামূলকভাবে সফল হয়েছে। শুধু আনারস নয়, পাহাড়ে উৎপাদিত তেঁতুল, কাঁঠাল, মিষ্টি আলু ও কলা দিয়েও চিপস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। একইসঙ্গে তেঁতুল, জলপাই, আমলকি দিয়েও হরেক রকম আচার তৈরিও শুরু হয়েছে। 

পাহাড়ে আনারস চাষরাঙামাটি নানিয়ারচর উপজেলার হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা কৃষি সম্প্রসারণঅধিদফতরের আওতাধীন ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে পাহাড়ের আনারসের চিপস তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আড়াই হাজার প্যাকেট আনারসের চিপস উৎপাদন করা হয়েছে। এটি ২০২২ সাল পর্যন্ত চলমান থাকবে। 

আরো পড়ুন: পঙ্গপাল নিধনের কার্যকরী উপায় জানালেন বিজ্ঞানীরা

তিনি আরো বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, এখানকার উৎপাদিত আনারস অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানো ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এ পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। গত জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চিপস উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর নাম রাখা হয়েছে ‘আনানাস’। প্রতিটি আনারসের চিপস প্যাকেট বিক্রি করা হচ্ছে ৩০ টাকায়। 

চিপস তৈরির কারখানাআনারস দিয়ে চিপস বানানোর বিষয়ে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার কৃষক ঝন্টু চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ আনারস উৎপাদন হয়। কিন্তু তার নায্যমূল্য কখনো কৃষকরা পায়নি। সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা ভালো দাম পেত না। কারখানা তৈরি হওয়ায় তারা সহজেই বাজারজাত করতে পারবেন। একই সঙ্গে লাভবান হবেন।

আরো পড়ুন: বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য ‘ঘরজামাই গ্রাম’

কারখানার বিষয়ে রাঙামাটি নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা বলেন, আনারসের চিপস কৃষকদের জন্য সুসংবাদ বটে। ব্যক্তি উদ্যোগে এখানে কারখানা তৈরি করা যায় তাহলে আনারসের পচন রোধ ঠেকানো যাবে। কৃষক লাভবান হবে। বেকার মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে।

আনারসের চিপস আনানাসঢাকা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালক ড. মেহেদি মাসুদ বলেন, এ পাইলট প্রকল্পের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মূলত তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্প সচল হলে আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া হবে। যাতে পাহাড়ের উৎপাদিত ফল সংরক্ষণ করা যায়।

আরো পড়ুন: চবি’র রহস্যময় অডিটোরিয়াম, যেকোনো অনুষ্ঠান পণ্ড করে সাপের দল!

তিনি আরো বলেন, নানিয়ারচরে পরীক্ষামূলক এবং প্রদর্শনী হিসেবে আনারসের চিপস তৈরির কারখানাটি খোলা হয়েছে। এই এলাকায় যেহেতু আনারসের ব্যাপক উৎপাদন হচ্ছে, সেজন্য এখানে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও যেন এমন চিপস কারখানা খুলতে পারে এজন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আপাতত এখানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে না।’

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস