হাজারো অন্ধ মানুষকে পৃথিবী দেখান ‘মহামানব’ এই চিকিৎসক

হাজারো অন্ধ মানুষকে পৃথিবী দেখান ‘মহামানব’ এই চিকিৎসক

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫২ ২৮ মে ২০২০   আপডেট: ১৯:১১ ২৮ মে ২০২০

চিকিৎসক সান্দুক রইত

চিকিৎসক সান্দুক রইত

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়। সেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ১০০টি পর্বত শৃঙ্গে বসবাস করেন প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ। এর মধ্যে মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর উচ্চতায়ও বাস করেন অনেকেই। যেটির নাম নেপালের ডোরাম্বা অঞ্চল। বায়ুমণ্ডলের বাতাস ও অতি বেগুনী রশ্মির কারণে বৃদ্ধ বয়সে সেখানকার বেশির ভাগ মানুষই অন্ধ হন। তবে ‘মহামানব’ খ্যাত এক চিকিৎসকের ত্যাগেই নতুন করে পৃথিবী দেখতে পারছেন ওই অঞ্চলের অন্ধ লোকেরা।

ডোরাম্বা অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলের বাতাস ও সূর্য্য থেকে আগত অতি বেগুনী রশ্মি সবচেয়ে বেশি পড়ে। এতে এক ভয়ংকর সমস্যার মুখোমুখি হন সেখানকার মানুষরা। কাজের ব্যঘাতের পাশাপাশি বৃদ্ধ বয়সে অকালে চোখ হারাতে হয় তাদের। বয়সে ভাঁটা ধরলেই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। মূলত ছানিপড়া থেকে অন্ধত্ব সৃষ্টি হয়। সেখানে আগত অতি বেগুনী রশ্মি চোখের লেন্সে ঝাপসা আবরণ ফেলে দেয়। জীবনের পড়ন্ত বয়সে লাঠি ভর দিয়ে অন্ধ জীবনযাপন করতে হয় বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাদের। আর পশ্চিমা বিশ্বে এই অন্ধত্ব দূর করতে খরচ হয় ছয় থেকে সাত লাখ টাকা। আর্থিক সংকটে থাকা অঞ্চলটির ভুক্তভোগী মানুষরা তাই চিকিৎসার কল্পনা করতে পারেন না।

লেন্সে ছানিপড়ে অন্ধত্ব বরণ করা এক বৃদ্ধার চোখ দেখছেন চিকিৎসক সান্দুক রইত

স্থানটি নেপাল থেকে বেশ বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে কোনো আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ নেই। ফলে অন্ধত্ব নিয়ে মৃত্যুর পর সিংহভাগ বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাদের সৎকার করা হতো। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তাদের জন্য মহামানব হিসেবে আবির্ভূত হন চিকিৎসক সান্দুক রইত। মেধাবী এ চিকিৎসক আর্থিক লোভকে দু পায়ে ঠেলে মানব কল্যাণের জন্য অঞ্চলটিকে বেছে নেন। 

চিকিৎসক রইত চোখের ছানি অপসারণের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ আবিষ্কার করেছিলেন। উদার এ চিকিৎসক আর্থিক লোভকে ডিঙিয়ে ডোম্বার অঞ্চলসহ নেপালের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য তার আবিষ্কার উন্মুক্ত করেন। ডোম্বার অঞ্চলের একটি বিদ্যালয়ের কক্ষে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করেন তিনি। তার এ উদ্যোগ স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। যেহেতু লেন্সের কারণে ওই অঞ্চলের মানুষের অন্ধত্ব হয়, তাই লেন্সে অপারেশন করে তার আবিষ্কার করা সিনথেটিক লেন্স ভুক্তভোগীর চোখে প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসক রইত। এই অপারেশন করতে তার সময় লাগে মাত্র আধা ঘণ্টা। 

পশ্চিমা বিশ্বে এই অপারেশন করতে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা ব্যয় হয়। যা ডোম্বার অঞ্চলের মানুষের কাছে কল্পনাতীত। কারণ সেখানকার মানুষের জীবিকা অর্জন বা আয় অনেক নিম্ন। তাই বিনা খরচে অন্ধ ব্যক্তিদের অপারেশনসহ যাবতীয় চিকিৎসা করেন চিকিৎসক রইত। অপারেশনসহ আনুষঙ্গিক খরচ বিভিন্ন দান তহবিল থেকেই আসে। আর অপারেশনের ২৪ ঘণ্টা পর রোগীর চোখের ব্যান্ডেজ খুলে দেয়া হয়। এতে আবারো নতুন করে পৃথিবী দেখতে পান অন্ধ ব্যক্তিরা।

চিকিৎসক সান্দুক রইতের বিনা খরচের চিকিৎসায় নতুন করে পৃথিবী দেখে নেচে উঠেন এক বৃদ্ধা

চিকিৎসক রইতের এমন উদ্যোগে অন্ধত্ব থেকে আলো দেখা বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা যৌবন ফিরে পাওয়ার মতো উল্লাস করে থাকেন। চিকিৎসক রইত আমাদের সমস্যায় জর্জরিত পৃথিবীর জন্য বড়ই প্রয়োজন। তাই সম্পদের পাহাড় নয়, মানব কল্যাণ হোক আমাদের পেশাগত আদর্শ।

সূত্র- নিউইয়র্ক টাইমস।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ