বিশ্বের অদ্ভুত ও রহস্যময় উপজাতি ‘সামা বাজাও’

বিশ্বের অদ্ভুত ও রহস্যময় উপজাতি ‘সামা বাজাও’

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০৪ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আমাদের এই পৃথিবীর মানুষেরা বিভিন্ন জাতি, গোত্রে ও সম্প্রদায়ে বিভক্ত। সব জাতীরই আচার ব্যবহার সংস্কৃতি ভিন্ন রকম। কিন্তু বিশ্বে এমন বিপুল গোত্র রয়েছে যাদের জীবন যাপন রীতিনীতি অন্য সবার চেয়ে একদমই আলাদা। আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা অদ্ভুতও বটে।

আবার এমন কিছু জাতি আছে, যারা আধুনিক জীবন কেমন হয় তা জানেই না। এখনো বর্তমান পৃথিবী থেকে হাজার বছর পিছিয়ে আছেন এই জাতি। এমনই এক জাতি সামা বাজাও। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এই জাতি বা গোত্র সম্পর্কে-  

সামা বাজাও
বাজু বা সামা বাজাও নামেই এই জাতি বিশ্বের কাছে পরিচিত। এদেরকে দেখা যায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এর কিছু অঞ্চলে। যারা এখনও টিকিয়ে রেখেছে ফ্রি ড্রাইভিং এর প্রাচীন পদ্ধতিকে। বলতে গেলে এই সম্প্রদায়ের মানুষরা জন্ম নেয় সাগরে। আর তাদের মৃত্যুও হয় এই সাগরেই। তারা জীবিকা নির্বাহ করে এই সাগরেই।

এদের সঠিক ইতিহাস না জানা গেলেও, ধারনা করা হয় কয়েকশ বছর ধরে তারা এই সাগরেই যাযাবর জীবন যাপন করে আসছে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় এই জাতীর মানুষদের আদি নিবাস ছিল ফিলিপাইনের সুলু দ্বীপ পুঞ্জ এবং ইন্দোনেশিয়ার মিন্দানাও দ্বীপ পুঞ্জের আশপাশে। সেখানে বহু বছর ধরে মরু বিদ্রহিদের সঙ্গে সরকারের সংঘাতের ফলে এই জাতীর মানুষরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বর্ণী উপকুলে রয়েছে এই জাতীর বহু মানুষের বসবাস।

মূলত পানির নিচে ডুব দিয়ে মাছ শিকার করাই এদের প্রধান জীবিকা। এই জাতীর বেশির ভাগ মাছ শিকারি ডুব দিয়ে ৬৫ ফুট পানির নিচে চলে যেতে পারেন। আর কয়েক মিনিট দম ধরে রাখতে পারেন অনায়েসেই।

সামা বাজাওতবে এই জাতীর অনেকেরই ডুব দিয়ে পানির ২৩০ ফুট নিচে চলে যাওয়ার রেকর্ডও আছে তাদের। শৈশব থেকেই এই জাতীর মানুষদের পানিতে ডুব দেয়া, মাছ শিকার করার প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে যায়। আর মাত্র ৮ বছর বয়সেই সবাই পেশাদারী ডুবুরি ও মাছ শিকারি হয়ে যায়।

সাধারণত দিনে ৫ ঘণ্টা পানির নিচে কাঁটাতে অভ্যস্ত এই মানুষরা। পানির সঙ্গে বেরে ওঠার ফলে এই জাতীর মানুষের শরীর ঐ পরিবেশের সঙ্গে মিলে যায়। পানির নিচে প্রচন্ড চাপের মধ্যে থাকাতেও তারা অভ্যস্ত হয়ে পরে, সেই সঙ্গে এক গবেষণায় দেখা গেছে এই জাতীর মানুষদের স্পিলিং সাধারণ মানুষদের তুলনায় ৫০% বড় হয়ে থাকে, যা তাদের দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে থাকতে সাহায্য করে।

পানির নিচে এই জাতীর মানুষদের চোখের ক্ষমতা সাধারণ মানুষদের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই জাতীর মানুষরা সমতল ভূমি থেকে পানিতে থাকতে বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করে। শুধুমাত্র সুপ্রিয় পানি, নৌকা বানানোর কাজ ও জ্বালানীর জন্য তাদের কাছাকাছি কোনো জনবসতিতে যাওয়া আশা করতে হয় তাদের, তাও খুব অল্প সময়ের জন্য। যে কারণে এদের প্রায় গোটা জীবনই কেটে যায় পানিতে।

নৌকার মধ্যে ভাসমান জীবন যাপন করলেও, উপুকুল থেকে বেশ দূরে পানির উপর খুটি গেরে এরা ঘরবাড়ী তৈরি করে। কিন্তু এই সব ঘর বাড়িতে বিদ্যুৎ বা আধুনিক সুযোগ সুবিধা কিছুই থাকে না। এই জাতীর মানুষরা লেখা পড়া দূরে থাক, তারা তাদের বয়সের হিসাব বা দিন তারিখ সম্পর্কে জানাটাও অপ্রয়োজনীয় মনে করে। কিন্তু সাগরের ব্যাপারে বা সমুদ্রের বিভিন্ন প্রাণী সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অনেক বেশি। আর বংশ পরম্পরায় এই জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত বয়ে চলে।

এই জাতি জলের জীবনে নিজেদের যেমন মানিয়ে নিয়েছে, তেমনি সমুদ্রই এদের বেঁচে থাকার এক মাত্র অবলম্বন। কিন্তু নানা কারণে এই জাতীর বিভিন্ন প্রথা এখন হুমকির মুখে। কিন্তু কেউ কেউ চেষ্টা করছেন এই ডুব দেয়ার পদ্ধতিকে বাচিয়ে রাখার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ