ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিতে কিছু পরামর্শ

ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিতে কিছু পরামর্শ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৩৫ ২৬ আগস্ট ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বেশিরভাগ মানুষ কাজে যোগ দেয়ার প্রথমদিন বেশ উৎসাহের সঙ্গে কাজ শুরু করে আর প্রচুর শেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। 

অন্য দিকে বলা যায়, তারা আসলে নিজের কাজের পারফর্ম দেখাতে চায়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, বেশিরভাগ সময়েই এই আগ্রহ আর উদ্দামতা বেশিদিন কাজ করে না।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন কর্মীরাও একটি নির্দিষ্ট রুটিনে বাঁধা পড়ে আর প্রতিদিনের কাজ তাদের কাছে একঘেয়ে লাগতে শুরু হয়। অসন্তুষ্টির ব্যাপার তাদের মাঝে তখন প্রকট হয়ে যায় আর কাজের প্রতি সকল ধরনের উৎসাহ তারা হারিয়ে ফেলে।

কর্মী যদি ধীর গতিতে কাজ করতে থাকেন তবে তার প্রভাব পড়তে পারে তার দলেও। এমন কোনো দৃশ্য দেখা গেলে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে এর পেছনের কারণ বের করে দ্রুত এর ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে প্রতিষ্ঠানের পিছিয়ে পড়া থেকে শুরু করে কর্মীর ক্যারিয়ারের উন্নতি বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে, সেই সঙ্গে থেমে যেতে পারে তার প্রমোশন পাওয়ার সকল উপায়ও।

কীভাবে আপনি বুঝবেন আপনার ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিতে যথার্থ কাজের পাশাপাশি ক্যারিয়ার সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান আর দক্ষতা অর্জন করছেন? এখানে এ বিষয়ে রইল কিছু পরামর্শ যেগুলো সবসময় মনে রাখা উচিত।

পেশা সম্পর্কে যতটা সম্ভব জানুন:
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হয়ে গেলেই শেখার সময় শেষ হয়ে যায় না। কাজের জায়গায় সব সময় নতুন বিষয় জানার আগ্রহ থাকা জরুরি। তবে যে কাজেই আপনি যোগদান করছেন না কেন, সে কাজের পুরোটা সময় নির্দিষ্ট একটা কাজের মাঝে থাকতে হয় বলে নতুন জিনিস জানার সময় কম থাকে।

কিন্তু একটা কথা সব সময় মনে রাখা উচিত, জীবনে কোনো শর্টকাট নেই বা ফ্রি খাবারও চাইলেই মেলে না। আপনাকে নিত্যদিন নতুন জিনিস শেখার চেষ্টায় থাকতে হবে আর কাজের ব্যাপারে যা কিছু প্রয়োজন তা নিজ উদ্যোগেই জানতে হবে।

কীভাবে করবেন? বেশ কিছু অনলাইন কোর্স আছে যেগুলো থেকেই আপনি এই বিষয়ে জানতে পারেন। চাইলে আপনার কাজ সংক্রান্ত বিভিন্ন বইও আপনি পড়তে পারেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা সফল ব্যক্তিদের জীবনীও আপনি পড়তে পারেন। এ থেকেও আপনার জানার পরিধি বাড়বে অনেক।

আরো দুটি উপায় হচ্ছে, আপনি কাজ সংক্রান্ত কোনো কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করুন এবং আপনার ক্ষেত্রেই কাজ করা অপর ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। আপনার ক্যারিয়ারকে পরবর্তীতে অন্য এক অনন্য শিখরে নিয়ে যেতে পারে এমন বিষয় সম্পর্কে জেনে রাখা আপনার জন্যই জরুরি।

এক কদম পিছিয়ে এসে আবার কাজে মনোনিবেশ করুন:
কাজ করতে করতে একটা সময় প্রচুর দায়িত্ব চলে আসতে পারে। এমনকি অনেক কাজের চাপে বাঁধাও আসতে পারে অনেক। যখনই আপনি বুঝবেন কাজে কিছুটা বাঁধা পড়ছে, অথবা ঠিকমত মন বসাতে পারছেন না, তখন নিজেকে কাজ থেকে একটু আলাদা করুন। নিজেকে কিছুটা সময় দিন। প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে ১০-১৫ মিনিট নিরবচ্ছিন্ন ভাবে সবার চেয়ে একটু আলাদাভাবে পার করুন।

এই সময়ের মাঝে আপনি বাকি দিনের পরিকল্পনা করে ফেলুন। কীভাবে সারাটা দিন কাটবে, কীভাবে ছোট-বড় কাজে সাফল্য পাওয়া যাবে সেসব নিয়ে ভাবনার জাল তৈরি করে ফেলুন।

যেগুলোকে আমরা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলি না যেমন ই-মেইলের রিপ্লাই দেয়া ফোনে কথা বলা (সব কাজের বেলাতে নয়), সেগুলো যতটুকুই আপনি করুন না কেন আপনার মূল কাজে যেন সেগুলো ব্যাঘাত না ঘটায় সেদিকে অবশ্যই পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে।

বসের সঙ্গে মানিয়ে চলুন:
আপনার বস/ম্যানেজারের সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলা কিন্তু পারতপক্ষে আপনার কাজেরই একটা অংশ! খুব কম পরিশ্রমেই আপনি আপনার বসকে খুশিও রাখতে পারেন আবার আপনার ক্যারিয়ারের দিকটাও ভাবতে পারেন।

আচ্ছা বলুন তো আপনি কীভাবে বুঝবেন যে আপনার বস আপনাকে নিয়ে বেশ উচ্চ পর্যায়ের ধারণা পোষণ করছেন?

প্রথমত, আপনাকে অবশ্যই স্বনির্ভর হতে হবে। যখনই আপনাকে কোনো কাজ দেয়া হবে, তখন নিশ্চিত করবেন সেটি যেন সময়ের মাঝেই সম্পন্ন করা হয়। যদি কোনো কারণে সেটি সম্পন্ন করতে না পারেন তবে সেটি অবশ্যই আপনার ম্যানেজারকে সময় শেষ হওয়ার আগেই জানিয়ে দিন যেন তিনি অন্য ব্যবস্থা করতে পারেন। মনে রাখবেন, বসরা কখনো অপ্রীতিকর চমক পছন্দ করেন না।

আরেকটি কথা সব সময় মনে রাখবেন, বসরা কখনো এটা পছন্দ করেন না যে তাদের কাছে কোনো কর্মী গিয়ে আরেকজনের নামে নিয়মিত অভিযোগ করুক। যদি আপনি কোনো সমস্যা বুঝতে পারেন, তবে বসকে সেটি নির্দ্বিধায় জানান এবং তার পরামর্শ মেনে কাজ করুন।

যদি কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে কোনো মিটিং এ যেতে হয়, নিশ্চিত করুন যে মিটিং এ উপস্থাপন করা সকল বিষয় সম্পর্কে আপনি জানেন। কোনো বিষয় সম্পর্কে স্বল্প জ্ঞান শুধু আপনার দক্ষতাকে ছোট করবে তাই নয়, আপনার বসকেও অন্যদের সামনে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে। বস আপনার উপর কোনো কাজে অসন্তুষ্ট হবেন এমনটি যেন না হয়!

অর্জন করুন জনদক্ষতা:
আপনি যদি না জানেন কীভাবে আপনার কলিগদের সঙ্গে আপনাকে মানিয়ে চলতে হবে তবে বুঝবেন ক্যারিয়ারে খুব বেশি উন্নতি আপনি করতে পারবেন না। অনেক কর্মী আছেন যাদের হয়ত টেকনিক্যাল জ্ঞান অনেক বেশি অথবা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া আছে, কিন্তু তারা অন্যকে সাহায্য করার জন্য একদম ইচ্ছুক নয়।

যদি এমনটি হয় তবে আপনি কিছুটা সময় নিন আপনার কাজের জন্য যা লাগবে তার ব্যাপারে ভালো করে শিখতে। আর একবার শিখে ফেলার পর কখনো আবার ভুল করে তাদের মতো ব্যবহার করে বসবেন না যেন! এতে কিন্তু আপনার ক্যারিয়ারে ক্ষতি বৈ লাভ কিছুই হবে না!

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে