সিনেমায় রবীন্দ্রনাথের গান

সিনেমায় রবীন্দ্রনাথের গান

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৮ ২৬ আগস্ট ২০১৯  

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রমথেশ বড়ুয়ার ‘মুক্তি’ চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ব্যবহার করা হয়েছিল। এই সিনেমার সংগীত পরিচালক পঙ্কজ কুমার মল্লিক ছিলেন কবির অত্যন্ত স্নেহভাজন। সম্ভবত ১৯৩৫ সালে ‘মুক্তি’ ছবিটি বড়পর্দায় ওঠে। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত কত ছবিতে যে রবীন্দ্রনাথের গান ব্যবহার হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান করতে যাওয়াটাই দুষ্কর।

মূলত, সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ ও মোড় ঘোরানো দৃশ্যে রবীন্দ্রসংগীতের প্রয়োগ হয়। এই অসাধারণ প্রয়োগ আমরা দেখেছি ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ (যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে), সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ (এ পরবাসে রবে কে), ‘জন অরণ্য’ (ছায়া ঘনাইছে বনে বনে), তপন সিংহের ‘অতিথি’ (আমার মুক্তি আলোয়), ‘হাটে বাজারে’ (নদী আপন বেগে পাগলপারা) কিংবা অজয় করের ‘মাল্যদান’ (ঘরেতে ভ্রমর এলো)… এমনই আরো বেশ কিছু চলচ্চিত্রে।

অনেক ক্ষেত্রে সিনেমার সময়কালও বোঝানো হয় রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে। উদারহরণ হিসেবে বলা যায়, পূর্ণেন্দু পত্রী পরিচালিত ‘স্ত্রীর পত্র’তে বাংলার ‘মাটি বাংলার জল’, সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’তে ‘বিধির বাঁধন কাটবে তুমি’, ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন’-এ ‘ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে’ বা ‘সুভাষচন্দ্র’তে ‘তোমার আসন শূন্য আজি’ ইত্যাদি।

অনেক সিনেমার আরো দুভাবে রবীন্দ্রসংগীতের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। এক, ট্রানজিশান হিসেবে। কাহিনীর গতিকে ব্যাহত না করে তার ছন্দে গানকে ব্যবহার করে কাহিনীর অন্য সূত্রের উত্তরণ ঘটানো। এর চমৎকার উদাহরণ ‘তিন কন্যা’ ছবিতে ‘বাজে করুণ সুরে’র ব্যবহান। দুই, সিনেমার অলংকার হিসেবে। এমন ব্যবহারই অবশ্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়। এর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট প্রয়োগ দেখিয়েছেন তরুণ মজুমদার ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’, ‘ভালবাসা ভালোবাসা’ ও ‘আলো’ ছবিতে। এও বলতে হবে, ‘নিমন্ত্রণ’ ছবিতে ‘দূরে কোথাও দূরে দূরে’ গানটির ব্যবহারে তার চিত্রকল্পনা এক অনবদ্য ব্যঞ্জনা তৈরি করে।

প্রাচ্য, পাশ্চাত্য ও ইসলামিয়- এই তিন মহতী ধারার ত্রিবেণী সংগম ঘটেছে রবীন্দ্রনাথের গানে। এর ফলে হিন্দি সিনেমাতেও রবীন্দ্রসংগীতের সুরের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। যেমন, ‘আফসার’ ছবিতে শচীন দেব বর্মন সৃষ্ট ‘নয়না দিওয়ানে’ গানটি ‘সেদিন দুজনে’র অনুপ্রেরণায়, ‘সুজাতা’ ছবিতে ‘জ্বলতে হয়ে জিসকে লিয়ে’, ‘একদা তুমি প্রিয়ে’র অনুপ্রেরণায়। ‘যদি তারে নাই চিনি গো’ শচীনের প্রিয় গান। তিনি হৃষীকেশ মুখার্জির সুপারহিট ছবি ‘অভিমান’-এ এই সুরটি (তেরে মেরে মিলন কি ইয়ে রেয়না) ব্যবহার করেন। এমন কত উদাহরণ রয়েছে, তার কোনো ইয়াত্তা নেই!

রবীন্দ্রনাথ নিজের সৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন, ‘গায়কেরা সঙ্গীতকে চেতনাহীন জড়ের ওপর স্থাপন করেন, আমি তাকে জীবন্ত করতে চাই। তারা কথা বসিয়ে যান সুর বের করার জন্য, কিন্তু আমি সুর সংযোগ করি কথার অর্ধকে যথার্থ ভাবে প্রকাশ করবার জন্য।’ এবং স্বয়ং বিশ্বকবির শব্দ-ছন্দ ব্যবহারে যে গান লেখা হয় তাতে সঠিক সুরযোগ ঘটলে যে অনির্বচনীয়তা সৃষ্টি হয় তা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে