পাঁচ ক্ষমতাধর ব্যক্তি, যাদের প্রভাব আজো চিরস্মরণীয় (পর্ব-২)

পাঁচ ক্ষমতাধর ব্যক্তি, যাদের প্রভাব আজো চিরস্মরণীয় (পর্ব-২)

অনন্যা চৈ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৪ ১৫ জুন ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে শুরুতে উঠে আসবে চীনের প্রেসিডেন্ট শী জিনপিং-এর কথা। তবে আপনি জানেন কী এর চেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিল এই পৃথিবীতে? যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমে তাদের দুর্দান্ত প্রভাব বিস্তার করে গেছেন। আজ তালিকায় রয়েছে এমনই আরো ৫ জন ব্যক্তির নাম, যারা বাস্তবে যেমন প্রভাবশালী ছিলেন, তেমনই কৃত কাজের জন্য আলোচিতও হয়েছেন। 

রাণী ভিক্টোরিয়া

রাণী ভিক্টোরিয়া ১৮১৯ সালের ২৪ মে লন্ডনের কেনসিংটন প্রাসাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত রানীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্য ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাণী। যিনি সকলের কাছে রানী ভিক্টোরিয়া নামে অধিক পরিচিত। ইতিহাসের পাতায় তার শাসনামলকে অভিহিত করা হয় ভিক্টোরিয়া যুগ হিসেবে। এ যুগে ব্রিটেনে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শিল্পায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটে। 

১৮৩৭ সালের ২৮ জুন তিনি যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন, তখন তার বয়স সবে ১৮ বছর। সে সময় ব্রিটেনের রাজতন্ত্র অনিশ্চিত হয়ে পড়লে তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে রাজ পরিবারের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেন। এছাড়া তার শাসনামলে ব্রিটিশ সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিস্তৃতি ঘটে। সে সময় ব্রিটেনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উপনিবেশ ছিল ভারতে। ১৮৭৬ সালে তিনি ভারত সম্রাজ্ঞী উপাধি ধারণ করেন। দীর্ঘ ৬৩ বছর ধরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাসন করার পর ১৯০১ সালে রাণী  ভিক্টোরিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

জর্জ ওয়াশিংটন

জর্জ ওয়াশিংটন ১৭৩২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি, যিনি সেখানকার ইতিহাসসেরা তিন রাষ্ট্রপতির একজন হিসেবে নিজের স্থান অধিকার করেন। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন কন্টিনেন্টাল আর্মির সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বের ইতিহাসে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতির জনক হিসেবে অধিক পরিচিত। 

১৭৫৪ সালে তিনি ফরাসি ও ভারতীয় যুদ্ধে ভার্জিনিয়ার ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে সেনাবাহিনীতে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৭৫৫ সালে তাকে ভার্জিনিয়া রেজিমেন্টের কর্নেল এবং ভার্জিনিয়ার সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়। তার রেজিমেন্ট ১০ মাসে ২০টি যুদ্ধে জয়লাভ করে। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভের পরই তিনি দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরপর ১৭৯২ সালে তার অসাধারণ যোগ্যতা প্রদর্শনের জন্য তাকে ২য় বারের মত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়।

নেপোলিয়ন 

ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রথম কনসল নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৭৬৯ সালের ১৫ আগস্ট ফ্রান্সের করসিকার এজাক্সিউ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট পদে ভূষিত হন। ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের পূর্ব পর্যন্ত নেপোলিয়ন ভ্যালেন্স এবং এক্সনে সেনারক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। ১৭৯৫ সালে তাকে টুইলারিস প্রাসাদে প্রতিষ্ঠিত কনভেনশনের রক্ষায় গঠিত বাহিনীর দায়িত্ব দেয়া হয়। তার নেতৃত্বে ফরাসী সেনাবাহিনী এক দশকের বেশি সময় ধরে সকল ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তিনি ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চল তার আয়ত্তে নিয়ে আসেন। ১৮১৫ সালে ওয়াটার-লু যুদ্ধে পরাজিত হবার পর তার জীবনের শেষ ছয় বছর কাটে ব্রিটিশদের তত্ত্বাবধানে আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ সেন্ট হেলেনাতে। 

সিডনি লী 

সিডনি লী একাধারে একজন ইংরেজি জীবনীকার, লেখক এবং সমালোচক। ১৮৫৯ সালের ৫ ডিসেম্বর লন্ডনের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। ১৮৮৩ সালে তিনি Dictionary of National Biography-র সহকারী সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও ১৮৯১ সালে লেসলি স্টিফেন অবসারে যাওয়ার পর তিনি সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন। লী অভিধানে প্রায় ৮০০টির বেশি আর্টিকেল লেখেন। এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য জীবনীমূলক বই হল Life of Queen Victoria, Shakespeare, the Modern stage King Edward VII ইত্যাদি। ১৯১৩ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত তিনি ইস্ট লন্ডন কলেজে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে নিযুক্ত হন।

জোসেফ স্ট্যালিন

বিশ্বের সবচেয়ে নিষ্ঠুর শাসকের মধ্যে অ্যাডলফ হিটলারের পরই রয়েছে জোসেফ স্ট্যালিনের নাম। তিনি একজন রুশ সাম্যবাদী রাজনীতিবিদ। লৌহমানব নামে খ্যাত নিষ্ঠুর শাসক জোসেফ স্ট্যালিনের জন্ম ১৮৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর একটি সাধারণ পরিবারে। তার আসল নাম জোসেফ বেসারিওনি জুগাসভিলি। তিনি ১৯২২ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 

সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসে এই সময়ে তার নেতৃত্বে প্রচলিত রাজনৈতিক মতবাদ স্তালিন মতবাদ নামে পরিচিত। তিনি দ্রুত শিল্পায়ন ও কৃষিকাজের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অল্প সময়ের মধ্যে শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন। ১৯৩০ সালে তিনি তার ক্ষমতা শক্ত করার জন্য নিপীড়ন শুরু করেন। ফলে কমিউনিস্ট পার্টির শত্রু সন্দেহে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়। এছাড়া তার সময়ে অর্থনৈতিক উত্তান পতনের কারণে দুর্ভিক্ষেও মারা যায় অনেক মানুষ। তার শাসনকালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয় এবং নাৎসি বাহিনীর পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ