চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশ

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশ

প্রবাস জীবন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২০ ১৯ নভেম্বর ২০২০  

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশ

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশ

চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফিন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।‘ক্যাম্পাসে পুনর্মিলন’ সাংস্কৃতিক উৎসবের থিমে ছিল উৎসবে বাংলাদেশি স্টলও। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রশংসা পান বাংলাদেশিরা।

চীনের চিয়াংশি প্রদেশের নানছাং শহরে অবস্থিত বাছিয়াও গার্ডেনের উত্তর অঞ্চলের রাইজিং স্কয়ারে এই আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পিএইচডি গবেষক মো. ছাইয়েদুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মরোক্কান শিক্ষার্থী ইমানে আফকির ইউনী এবং চাইনিজ শিক্ষার্থী লিয়াং চিয়ানইয়াং এর যৌথ উপস্থাপনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. তং হুই।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রাষ্ট্রদূত অ্যান্ডারসন এন. মাদুবাইক, নাইজেরিয়া কনস্যুলেট জেনারেল, সাংহাই এবং কনস্যুলার শিক্ষা অফিসের পরিচালক জয়নব জয় মনডু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে চীনা, বিদেশি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশি একটি স্টল ছিল। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি স্টলে খিচুড়ি, পিঠা, পাকোরা, সমুচা, চিকেন রোল, পায়েস, মিষ্টি, হাঁসের মাংস ভুনাসহ অন্যান্য খাবার প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল-ফল-পাখি এবং দর্শনীয় স্থানের ছবি প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশি স্টলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল জাতীয় পতাকা অঙ্কন এবং বাংলাদেশি ফ্রেমে ছবি তোলা।

প্রেসিডেন্ট ড. তং হুই বলেন, স্কুলের আন্তর্জাতিক ছাত্রদের কার্যক্রমের অত্যন্ত প্রশংসা করে। যারা করোনা চলাকালীন বিদ্যালয়ের সাথে একে অপরকে সহায়তা করেছিল এবং মহামারি প্রতিরোধে এক সঙ্গে কাজ করেছিল তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবের ভূমিকার উপর জোর দিয়েছে চীন এবং বিদেশি দেশগুলির মধ্যে বিভিন্ন সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য বিনিময়ে বদ্ধপরিকর।

বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নিজ দেশের নৃতাত্ত্বিক কারুশিল্প, গেম ক্রিয়াকলাপ এবং বিশেষ রান্নার মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি এবং স্থানীয় রীতিনীতি প্রদর্শন করে। সাংস্কৃতিক উৎসবে স্কয়ারের উভয় পাশে বিদেশি স্টলসহ একটি চীন সংস্কৃতি প্রদর্শনী স্টল ছিল। এছাড়া বাছিয়াও গার্ডেনের উত্তর অঞ্চলের রাইজিং স্কয়ারে চিত্র প্রদর্শনী করা হয়েছিল।

উৎসবে বাংলাদেশ, চীন, মরোক্কো, বেনিন, তানজানিয়া, নাইজেরিয়া, নিরক্ষীয় গিনি, গিনি, ঘানা, নামিবিয়া, লাইবেরিয়া, জিম্বাবুয়ে, কঙ্গো, ইথিওপিয়াসহ ১৪টি দেশ অংশগ্রহণ করে। 

ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক এই সাংস্কৃতিক উৎসবে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া প্রায় ৫০ হাজার লোক অনলাইনের মাধ্যমে এই মনোরম সাংস্কৃতিক উৎসব উপভোগ করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস