সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশের ওমর ফারুকী শিপন

সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশের ওমর ফারুকী শিপন

প্রবাস জীবন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:১৩ ১৬ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৩:৫১ ১৭ অক্টোবর ২০২০

ছবি: ওমর ফারুকী শিপন

ছবি: ওমর ফারুকী শিপন

সিঙ্গাপুরে সর্বোচ্চ সম্মানিত ‘প্রেসিডেন্টস ভলান্টিয়ারিজম অ্যান্ড ফিল্যানট্রফি অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশের ওমর ফারুকী শিপন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা তিনটায় ইসথানা ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুব এই সম্মানিত পদকটি তার হাতে তুলে দেন। তিনি ‘পিপলস অফ গুড’-এ মননীত হয়ে এই পুরষ্কার গ্রহণ করেন।

সিঙ্গাপুরে প্রতি বছর ভালো কাজে সম্মান দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ পুরষ্কার দেয়া হয়। তবে, এ বছর চারটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ সম্মানে সর্বমোট তিরিশ জনকে এই পুরষ্কার দেয়া হয়েছে। ‘পিপলস অফ গুড’, ‘অর্গানাইজেশনস অফ গুড’, ‘লিডারস অফ গুড’ ও ‘স্পেশিয়াল কম্যান্ডেশন’।

পিপলস অফ গুড-এ ৫ জন, অর্গানাইজেশনস অফ গুড-এ ৯ জন, লিডারস অফ গুড-এ ৭ জনকে এই পুরষ্কার দেয়া হয়েছে। বাকী ৯ জনকে "স্পেশিয়াল কম্যান্ডেশন"-এ ভালো কাজের সম্মান স্বরূপ দেয়া হয় রাষ্ট্রপতির বিশেষ পুরষ্কার। 

সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুব এর হাত থেকে পদক নিচ্ছেন বাংলাদেশের ওমর ফারুকী শিপন

সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর প্রবাসী বাংলাদেশিরা খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গুজব ছড়াতে থাকে। ঠিক তখন এগিয়ে আসেন ওমর ফারুকী শিপন। তিনি সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিঙ্গাপুরের দৈনিক পত্রিকা ‘স্ট্রেইটস টাইমস’, ‘সিএনএ’ ও ‘মাদারশিপ’ এসজি সংবাদপত্রের সংবাদগুলো বাংলায় প্রকাশ করতে শুরু করেন। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনও তাকে বিভিন্ন সময় তথ্য দিয়ে প্রচার করতে সহায়তা করেছেন।

ওমর ফারুকী শিপনের সত্য সংবাদে প্রবাসীদের মনে সস্তি ফিরে আসে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় তার ফেসবুক পেইজে চিকিৎসক ও সমাজসেবকদের নিয়ে লাইভ অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও অনেক উপকৃত হয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন তিনি ১৪০ থেকে ২০০ জন বংলাদেশির ফোন কলে নানান সমস্যার কথা শোনেন এবং তার উত্তর দেন।

ওমর ফারুকী শিপন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম আবদুল জলীল মোল্লা ও মাতার নাম দেলোয়ারা বেগম। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। বর্তমানে তার পরিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় বসবাস করছেন। তিনি ২০১০ সালে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান এবং এখন পর্যন্ত বহুজাতিক একটি কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।

প্রবাসীদের জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে তার লেখা ‘মাইগ্রেন্ট লাইফ; স্টোরিজ অব রেভারিস্ট’ ইংরেজি ভাষায় ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়। বইটি বর্তমানে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী/আরএস