বন্ধ ক্লাবে পরীমনিকে নিয়ে যায় অমি, দুই মিনিটের কথা বলে ২ ঘণ্টা

বন্ধ ক্লাবে পরীমনিকে নিয়ে যায় অমি, দুই মিনিটের কথা বলে ২ ঘণ্টা

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২১ ১৪ জুন ২০২১   আপডেট: ১৭:২৯ ১৪ জুন ২০২১

পরীমনি, ইনসেটে অমি। ছবি: সংগৃহীত

পরীমনি, ইনসেটে অমি। ছবি: সংগৃহীত

রাত প্রায় ১২টা। ততক্ষণে উত্তরা বোট ক্লাবের মূল গেট বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তখনই পরীমনিকে ‘দুই মিনিটের কথা বলে’ ক্লাবের ভেতরে নিয়ে যায় তার কস্টিউম ডিজাইনার জিমির বন্ধু অমি। কিন্তু সেখান থেকে পরীমনি প্রায় দুঘণ্টার পর বের হন, তাও সেন্সলেস অবস্থায়।

ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনি গেলেন কীভাবে—এই প্রশ্নটা সবার মুখে মুখে। সে প্রশ্নেরও যথাযথ উত্তর দিয়েছেন পরীমনি। তার উত্তরে জানা গেছে সেই রাতের নানা অজানা কথা, খোলসা হয়েছে নানা প্রশ্ন!

রাত ৯টার বদলে পৌঁনে ১১টা

পরীমনির সঙ্গে অমির পরিচয় দুই বছরের। এর মধ্যেই ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে দুজনের মধ্যে। এই নায়িকার নানার সুস্থতার খবর জানতে পেরে ৮ জুন পরীর বনানীর বাসায় আসেন অমি। তবে সেদিন কোনো এক বিষয়ে পরীর সঙ্গে বসতে চাইলেও সময় দিতে পারেননি নায়িকা।

 

পরীমনি বলেন, এর পরদিন জিমিকে ফোন করে সময় চায় অমি। তখন তাকে রাত ৯টায় আসতে বলি। কিন্তু অমি রাত পৌঁনে ১১টার দিকে আসে। অমি টাকা বিনিয়োগ করবেন আর পরীমনি বিনিয়োগের একটা পার্ট হবেন- এমন প্রস্তাব দেয়া হয়। এমন একটা বিষয় ছিল, আলোচনা শেষ না করে উঠতে পারছিলেন না।

আলোচনার মধ্যেই অমির একটা ফোন আসে। অমি জানায়, তার মা অসুস্থ। ওষুধ কিনে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু পরীমনি তাকে মানবিকভাবেই পৌঁছে দেয়ার কথা বলেন। নায়িকার ছোটবোন, আমি ও জিমি যে যে অবস্থায় ছিলেন, সেভাবেই বেরিয়ে পড়েন। এরপর উত্তরার একটি ফার্মেসিতে নেমে ওষুধ কিনে, অমির বাসার দিকে রওনা হন তারা।

আরও পড়ুন: গ্রেফতারের সময় পরীমনিকে নিয়ে যা বললেন নাসির

হঠাৎ গাড়ি থামাতে বলেন অমি

এই চিত্রনায়িকা বলেন, পথে অমি গাড়ি থামাতে বলেন। তিনি বলেন, দুই মিনিট কাজ আছে। আমি সেরে আসছি। কিন্তু গেট বন্ধ থাকায় যেতে পারেনি। তখন তার ফোনে কল আসার পর গেট খুলে দেয়া হয়। এরপর তিনি আবার ভেতরে যান। যাওয়ার সময় অমি জানায় তোমরাও নামতে পারো। ক্লাবটা অনেক সুন্দর।

সাংবাদিকদের বিষয়টি খুলে বলেন পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

পরীমনি জানান, বোন বনি অসুস্থ বোধ করায় তার ওয়াশরুমের প্রয়োজন ছিল। এজন্য জিমিকে গাড়িতে রেখে বনিকে নিয়ে ক্লাবের ভেতরে যান তিনি। এরপর দুজন লোক এসে বলেন, ম্যাডাম বসেন। অমিও বলে, কফি খান। কফি এনে দিলে জিমি এসে তা টেস্ট করে বলেন যে এটা অন্য কিছু। পরে খেতে না চাইলে নাসির উদ্দিন মাহমুদ জোর করে মুখে বোতল ঢুকিয়ে দিয়ে মদ খাওয়ান।

নাসির এরপর পরীমনির শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন। একপর্যায়ে ক্লাবের উপরে নিয়ে গিয়ে সেখানে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেন্সলেস অবস্থায় তাকে নামানো হয়। ঘটনার পর থানায় যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি।

পরীমনি জানান, বুধবার রাতে উত্তরার বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে এ ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন। নিশ্চয় অমির সঙ্গে নাসিরের যোগাযোগ ছিল। ঘটনা যে পূর্ব পরিকল্পিত ছিল তা স্পষ্ট।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে