খুশির মুহূর্তে বাবা হয়ে যান ভয়ংকর খুনি, বাড়িতেই মিলল নায়িকাসহ পুরো পরিবারের কঙ্কাল

লায়লা খান ও তার পরিবার হত্যা

খুশির মুহূর্তে বাবা হয়ে যান ভয়ংকর খুনি, বাড়িতেই মিলল নায়িকাসহ পুরো পরিবারের কঙ্কাল

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:২৬ ৯ জুন ২০২১   আপডেট: ১৯:৩৯ ৯ জুন ২০২১

এই ফার্মহাউসে মেলে তাদের পুরো পরিবারের কঙ্কাল, ইনসেটে লায়লা খান - সংগৃহীত

এই ফার্মহাউসে মেলে তাদের পুরো পরিবারের কঙ্কাল, ইনসেটে লায়লা খান - সংগৃহীত

খুব অল্প সময়ে বলিউডে পরিচিতি পেয়েছিলেন লায়লা খান ওরফে রেশমা নাদিরশাহ প্যাটেল। সুপারস্টার রাজেশ খান্নার বিপরীতেও অভিনয় করেছিলেন ৩০ বছর বয়সী এ নায়িকা। তবে তার শেষ পরিণতি ছিল মর্মান্তিক, কারণ তার মৃত্যুর ঘটনা যেকোনো থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়। 

১৯৭৮ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন লায়লা। তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন কাপড় ব্যবসায়ী। ২০০৮ সালে রাজেশ খান্নার সঙ্গে ‘বফা: এ ডেডলি লভ স্টোরি’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। ২০১১ সালে অভিনয় করেন ‘ফারার’ সিনেমায়। প্রযোজক হওয়ার ইচ্ছা ছিল লায়লার। তার প্রযোজনায় শাহিদ কাপুর বা সাইফ আলি খানের সঙ্গেও অভিনয় করতে চেয়েছিলেন তিনি। 

লায়লা খান ওরফে রেশমা নাদিরশাহ প্যাটেল - সংগৃহীত

এভাবে চলতে চলতে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই বলিউড থেকে হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যান লায়লা। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। শুরুতে লায়লা খানকে হত্যা করা হতে পারে এমন কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে মেলে ভয়াবহ তথ্য। লায়লার বাবা নাদিরশাহ প্যাটেল জানান, লায়লার সঙ্গে তার মা শেহলিনা প্যাটেল (৫৯), বড় বোন আজমিনা প্যাটেল (৩২), ছোট যমজ ভাই-বোন জারা ও ইমরান (২৫) এবং অপর এক আত্মীয় রেশমা সাগির খান ওরফে তাল্লিও (১৯) নিখোঁজ হয়েছেন।

ঘটনার রহস্য উন্মোচনে নড়ে-চড়ে বসে মুম্বাই পুলিশ। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১১ সালের ৩০ জানুয়ারি সৎ বাবা পারভেজ, মা শেহলিনা এবং ৩ ভাইবোনকে নিয়ে মুম্বাইয়ের ইকাদপুরীর একটি ফার্মহাউসে ছুটি কাটাতে যান লায়লা। সেখান থেকেই লায়লা এবং তার পরিবার গায়েব হয়ে যান। এমনকি ওই ফার্মহাউসের নিরাপত্তারক্ষীকেও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। 

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ - সংগৃহীত

এভাবে খোঁজাখুঁজির এক বছর পর ২০১২ সালের ৩ জুলাই ওই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। মামলাটি মুম্বাই পুলিশের অপরাধ শাখায় স্থানান্তরিত করা হয়। নিরাপত্তারক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ঘটনা নতুন মোড় নেয়।

সে পুলিশকে জানায়, ওই ফার্মহাউসেই লায়লা ও তার পরিবারকে হত্যা করেন পারভেজ। পরে পারভেজ ও নিরাপত্তারক্ষী একসঙ্গে ফার্মহাউসের পেছনে মাটি খুঁড়ে সব মরদেহ মাটি চাপা দেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠিত মুম্বাই পুলিশের একটি দল ইকাদপুরী ফার্মহাউসের ওই স্থানে যায়। সেখানে মাটি খুঁড়ে মেলে ৬টি কঙ্কাল। সেখানে মোট পাঁচজন মহিলা ও এক পুরুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষা করে কঙ্কালগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

লায়লা খান, শেহলিনা নাদিরশাহ প্যাটেল ও আজমিনা - সংগৃহীত

মুম্বাইয়ের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) হিমাংশু রায় জানান, ফরেনসিক রিপোর্টে কঙ্কালগুলো শেহলিনা নাদিরশাহ প্যাটেল, আজমিনা, লায়লা, জারা, ইমরান এবং রেশমার বলে চিহ্নিত হয়। নিরাপত্তারক্ষী স্বীকার করে, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করে লায়লার সৎ বাবা পারভেজ। নিরাপত্তারক্ষীর দেয়া তথ্যমতে পারভেজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

লায়লা খান ও ইনসেটে তার সৎ বাবা পারভেজ - সংগৃহীত

পারভেজ তার জবানবন্দিতে জানান, ২০১১ সালের ৩০ জানুয়ারি পারভেজ, শেহলিনা এবং ৩ ভাইবোনকে নিয়ে মুম্বাইয়ের ইকাদপুরীর একটি ফার্মহাউসে ছুটি কাটাতে যান লায়লা। ২০১১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সবাই মিলে ওই ফার্মহাউসে বার-বি-কিউ পার্টি করছিলেন। এমন খুশির মুহূর্তে লায়লার মা শেহলিনা ও সৎ বাবা পারভেজের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে তুমুল তর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে শেহলিনার মাথায় আঘাত করে পারভেজ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। এই দৃশ্য দেখে ফেলায় একে এক আজমিনা, লায়লা, জারা, ইমরান এবং রেশমাকেও হত্যা করেন পারভেজ। তারপর ওই নিরাপত্তারক্ষীর সাহায্য নিয়ে পারভেজ তাদের মাটির নীচে পুঁতে দেন। সেখানেই মাটি চাপা দেন রক্তে মাখানো চাদর থেকে শুরু করে হত্যায় ব্যবহৃত সব ধরণের উপকরণ। সব পরিষ্কার করে তারা পালিয়ে যান কাশ্মীরে।

পরে হত্যা ও প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২০১২ এবং ৩০২ ধারায় তাদের নামে মামলা করে পুলিশ। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সে মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ