মানবেতর জীবন যাপন করছেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া

মানবেতর জীবন যাপন করছেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৩১ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২০:৩২ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

লোকসংগীত শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া-ফাইল ফটো

লোকসংগীত শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া-ফাইল ফটো

১৯৬১ সালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে জন্ম। সেই সময় ডাক নাম ছিল টুনি হালদার। ১৪ বছর বয়সে গ্রামের অনুষ্ঠানে গান গেয়ে মানুষের নজর কাড়েন। এরপর থেকে গান গেয়েই হয়ে উঠেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া। গান গেয়ে পেয়েছেন ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। গান রচনা করেছেন ৫০০টির বেশি। তার বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে কোন বা পথে নিতাইগঞ্জে যাই, পরাণের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে, আর আমার দেহ চলে না রে। বয়সের ভারে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগ-শোকে ভুগছেন তিনি। শরীর ভালো থাকলে গাইতে ছুটে যান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই লোকসংগীত শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া।

২০১৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে ২০ শতাংশ জমি দেন তাকে। পরবর্তীতে তিনি বদলি হয়ে গেলে ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প ‘জমি আছে ঘর নেই’ এর অধীনে ওই জমির উপর একটি ঘর নির্মাণ করে দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম খান। মাথা গোঁজার ঘর পেলেও পাননি ঘরটিতে থাকার পরিবেশ। ঘরের চাল খুলে যাচ্ছে। উঠে যাচ্ছে দেয়ালের আস্তর, হয়নি বাড়ির সীমানা প্রাচীর। যার ফলে প্রতিবেশীদের গৃহপালিত পশু-পাখি অবাধে ঢুকে পড়ছে তার বসতঘরে। 

কাঙ্গালিনী সুফিয়া জানান, করোনা আসার পরে কোনো গানের আয়োজন নেই। যে কারণে খুব কষ্টের মধ্যেই আছি। ফলে ভালো কিছু খেতে পারছি না। রোগ শোক হলে ওষুধ কিনে খেতে পারছি না।

স্থানীয়রা জানান, কাঙ্গালিনী সুফিয়ার বাড়িটা রক্ষায় দরকার সরকারের নজরদারি। সেই সঙ্গে এই করোনাকালে কোনো গানের আয়োজন না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন এই শিল্পী। রোগ-শোক হলেও পাচ্ছেন না সঠিক চিকিৎসা।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, কাঙ্গালিনী সুফিয়া আমাদের কাছে এসেছিলেন। তিনি তার সমস্যার কথাগুলো লিখে আমাদের কাছে একটা আবেদন দেবেন। আবেদনে তিনি কি চাচ্ছেন সেটা জেনে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ