দৃশ্যম টু: গল্প হলেও সত্যি

দৃশ্যম টু: গল্প হলেও সত্যি

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৮ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জর্জকুট্টির পরিবার নিজেদের অতীতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা ভুলে নতুন জীবনের সূচনা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আগের চেয়ে অবস্থার পরিবর্তন হয়ে গেছে এখন। জর্জকুট্টির এখন আর টাকার অভাব নেই। শহরে নিজেদের একটি থিয়েটার খুলে বেশ টাকার মালিক এখন তিনি। দুই মেয়ে আর স্ত্রী ঘরে বসেই নিজেদের বর্তমান এবং ভবিষৎ নিয়ে চিন্তায় মশগুল। সমাজের মানুষের কটু কথা আর ইজ্জতকে বেজ্জতিতে বদলানো ট্যাগলাইনই এই পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় ভিলেন। কিন্তু আসল চিন্তার বিষয় পুলিশ, যারা আজও এই পরিবারের পেছনে হাত ধুয়ে পরে আছে।

প্রথম পর্বে একটি সাধারণ পরিবারের ভালোবাসা পুলিশের আইনের উপর ভারি পড়ে গেছিলো, আর সেই বদলা নিতেই শহরে নতুন পুলিশের আগমন হতেই জর্জের কেস নতুন করে খুলেছে। সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ একটি খুনের গল্পকে লুকানোর জন্য একটি পারফেক্ট গল্প তৈরি করা। কারণ একটি ছোট ভুল জর্জকে নিয়ে যাবে সোজা জেলে। আর একটি চ্যালেঞ্জ নিজের ব্রেইন যা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে গেছে আর সবশেষে পাবলিকের সাপোর্টের কথা, ৬ সাল পুরনো ইমোশন আর ভালোবাসা এখন হিংসায় পরিণত হয়ে গেছে। 

কী মনে হয় জর্জের পরিবারের গল্প এবার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে নাকি ওয়ান ম্যান্স লাভ ফর দ্যা ফ্যামেলি আবারো পুলিশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে সক্ষম হবে?

এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আম্যাজন প্রাইমের সিনেমা দৃশ্যম টু-তে। দৃশ্যম টু একটি মালায়াম ভাষার সিনেমা যা দৃশ্যম সিনেমার সিকুয়্যাল। 

দৃশ্যমের প্রথম পার্ট দেখা না থাকলে সিকুয়েলটি উপভোগ করা একটু কঠিন। কারণ প্রথম পার্টের গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল দৃশ্যম টু সিনেমার গল্প ঠিক সেখান থেকেই শুরু হবে। 

‘দৃশ্যম’-এর মূল সুর ‘হুডানইট’ নয়, বরং ‘হাউডানইট’। নিজের পরিবারকে বাঁচাতে এক সাধারণ নাগরিক কীভাবে পুলিশের চোখকে বারবার ফাঁকি দেয়, আগেরটির মতো নতুন সিনেমার উপজীব্য সেটাই।

কিন্তু সেই সত্যে উপনীত হওয়ার আগে, সিনেমার পটভূমি তৈরি করতে বেশ খানিকটা সময় নেয়া হয়েছে। সিনেমার শুরুতে গল্পের ধীর গতিতে একটু ধৈর্য রাখতে হবে দর্শককে। তবে সিনেমার শেষের আধ ঘণ্টার চমক দর্শকের মনে যাতে জোরালো ছাপ ফেলতে পারে, সেই জন্য হয়তো প্রথমার্ধের মন্থর গতির এই আয়োজন।

‘দৃশ্যম’ সিনেমার নামটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যা দেখানো হচ্ছে, তা কি আদৌ সত্যি? আর সেটা যদি সত্যি হয়, তবে তা কী করে সম্ভব হচ্ছে? এক দিকে চরিত্র, অন্য দিকে দর্শক এবং তাদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেছেন এ সিনেমার লেখক এবং পরিচালক জিতু জোসেফ।

কীভাবে জর্জ তার অভিযানে সাফল্য পাচ্ছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণে যুক্তির ফাঁক রয়েছে। তবে ‘দৃশ্যম টু’ সেই যুক্তিহীনতাকে অগ্রাহ্য করে না। বরং সেই ‘ফাঁক’ই সিনেমার সত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় অস্ত্র। সাহিত্য বা সিনেমায় পাঠক ও দর্শকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত ‘উইলিং‌ সাসপেনশন অব ডিসবিলিফ’। পাঠক ও দর্শকের সেই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকেই বাজি ধরে গল্প সাজিয়েছেন জিতু।

এই সিনেমার সব থেকে বড় শক্তিই এই সিনেমার গল্প। এছাড়াও প্রথম পার্টের কাস্টিংই সিকুয়্যালেও ধরে রেখে পরিচালক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। যার কারণে সিনেমা গল্প হলেও সত্যি মনে হবে দর্শকের কাছে।

আর সবশেষে যার কথা না বললেও নয় তিনি মোহনলাল। সিনেমায় একটি মানুষকে খুন করেও পুলিশকে বুদ্ধির জোরে কালো চশমা পড়ায় দেয় তবু পাবলিকের মনে তার জন্য ভালোবাসা জাগে এটিই মোহনলালের অভিনয়ের শক্তি যেটি ‘দৃশ্যম টু’কে বেস্ট সিনেমার তকমা এনে দিতে পারে। 

সব মিলিয়ে ‘দৃশ্যম টু’ সবচেয়ে ভালো থ্রিলার ক্যাটাগরিতে নতুন সংযোজন। যা দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে আজীবন

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস