‘পূজা আর মৃত্যুর কোলাহল পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছে’

‘পূজা আর মৃত্যুর কোলাহল পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছে’

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২২ ২২ অক্টোবর ২০২০  

অভিনেত্রী: জয়া আহসান

অভিনেত্রী: জয়া আহসান

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। যিনি বছরের বেশি সময় শুটিং এর কাজে কলকাতায় থাকেন। অংশ নেন কলকাতার বিভিন্ন উৎসবেও। তবে এবার প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কলকাতার পূজার উৎসব আমেজকে মিস করছেন তিনি। সম্প্রতি ভারতের প্রভাবশালী বাংলা পত্রিকা আনন্দবাজারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

জয়া আহসান বলেন, শেষ কিছু বছর ধরে আমার কাছে পূজার আনন্দ মানে ছবি রিলিজ। সৃজিতের যে কটা ছবি আমি করেছি, সেগুলো পূজাতেই মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া অন্য ছবিও তাই। বড় হওয়ার পরে এটাই আমার কাছে পূজার মূল আকর্ষণ ছিলো। এবার পূজা কেমন কাটবে জানি না।
 
তিনি বলেন, আমার অক্টোবরে কলকাতায় আসার কথা। ভেবেছি ঢাকা থেকে প্রথম যে ফ্লাইট ভারতে আসবে, সেটাতে চড়েই সোজা আমার যোধপুর পার্কের বাড়িতে ফিরব। নিদেনপক্ষে পূজার একটু আগেই চলে আসতে চাই, যাতে অন্তত আমেজটা বুঝতে পারি। কলকাতা ছাড়া পূজা ভাবতেই পারি না। ঢাকাতেও পূজা হবে। তবে ঠাকুর দেখতে যেতে পারব কি-না জানি না। আমাদের সবচেয়ে বড় পূজা হয় বনানীর মণ্ডপে। প্রচুর লোকজন আসেন সেখানে। তবে এবার তা কতোটা হবে জানি না। হয়তো সোশ্যাল মিডিয়াতে ঠাকুর দেখতে হবে।

জয়া বলেন, পূজা আর মৃত্যুর কোলাহল পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছে। কোভিড আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমাদের সংযমী হতে শিখিয়েছে। আমাদের অপচয় কম করতে শিখিয়েছে। পূজা মানেই তো আমাদের বাহুল্যের খরচ, জামাকাপড়ের ক্ষেত্রে বিশেষ করে। এখন থেকে না হয় আমরা সামঞ্জস্য রেখে সব করি। সে জীবনই হোক বা ফ্যাশন। এটাই না হয় হোক এবার পূজার নতুন ভাবনা!

তিনি আরো বলেন, আম্ফানের (ঘূর্ণিঝড় আম্ফান) সময় খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কাছে যেতে পারছিলাম না। দূর থেকে ওই দৃশ্য দেখা… এখন তো শুনছি ভারতের অবস্থাও সঙ্গীন। যে মানুষগুলোর সঙ্গে রোজ কাজ করেছি, তাদের কী অবস্থা? খুব আকুল হয়ে আছি। সিনেমা হল খুলল। পূজার আগে এটা সত্যি আনন্দের!

পূজার শাড়ি নিয়ে জয়া বলেন, সংযমের কথা মনে আছেই। কিন্তু পূজা আসবে আর আমি শাড়ির কথা ভাবব না? মন থেকে কি সব মুছে ফেলা যায়? সেদিন আমি ইন্টারনেটে দেখছিলাম কী কী ভালো শাড়ি এসেছে এবার। পূজাতে আমি বাংলাদেশের শাড়িই পরি। আমার মসলিন খুব প্রিয়, সুতিও পছন্দের। প্রত্যেক বছর ৪-৫টা জায়গা থেকে শাড়ি উপহার পাই। এবার কী হবে কে জানে! শুধু তো শাড়ি হলেই হবে না। সবদিক থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ