আইনি নোটিশ পেয়ে ‘হৃদিতা’ সিনেমার নির্মাতা দিলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আইনি নোটিশ পেয়ে ‘হৃদিতা’ সিনেমার নির্মাতা দিলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৮ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

পূজা চেরি-সুমন

পূজা চেরি-সুমন

অনিয়ম এবং অনুদানের শর্ত ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘হৃদিতা’ ছবির অনুদান বাতিল ও শুটিংসহ সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিতের জন্য তথ্য সচিব এবং ‘হৃদিতা’র তথাকথিত প্রযোজকসহ ৯ জনকে নোটিশ দিলেন জাদুকাঠি মিডিয়ার কর্ণধার চিত্র প্রযোজক মো. মিজানুর রহমান। তার পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী।

এদিকে নোটিশের প্রাপ্তি স্বীকার করে এন ইস্পাহানি বলেন, ‘যেভাবে বিষয়টি সুন্দরভাবে মিটমাট করা যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার সঙ্গে আছি। এসব বিষয় নিয়ে সুনাম নষ্ট হোক তা একেবারেই চাই না। কেউ যদি অপচেষ্টা করে তাতে কোনো লাভ হবেও না।’

সরকার থেকে অনুদানের জন্য যে নিয়ম রয়েছে তা সঠিকভাবে মেনেই অনুদান পেয়েছে ‘হৃদিতা’, দাবি এই পরিচালকের।

তিনি আরো বলেন, ‘নোটিশে অভিযোগকারী যেসব অভিযোগ করেছেন তার সবই ভুল। প্রথমত, গল্পটা আনিসুল হক সাহেব আমাদের দিয়েছেন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। অভিযোগকারী গল্প এনেছেন কি না সেটা আমাদের জানার দরকার নেই। কারণ লেখক তার গল্প একাধিক ব্যক্তিকে দেয়ার অধিকার রাখেন। এই ‘হৃদিতা’ থেকে নাটক বানানোর জন্যও অনুমতি দেয়া হয়েছিলো অনেক আগে একজনকে।

তারপর আরেকটি বিষয় হলো অভিযোগকারী বলছেন যে তিনি নাকি ‘হৃদিতা’ ছবির গল্পে ‘ড্রিমগার্ল’ ছবির জন্য মহরত করেছেন। ওই মহরতের ছবি ও ভিডিও আছে। সেখানে কোথাও তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা তার নাম নেই। নাম আছে আমাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের। সুতারাং তার দাবি সঠিক নয়।

আর ‘ড্রিমগার্ল’ ছবির মহরত করেছি আমরা ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ। আর উনি আনিসুল হক সাহেবের কাছ থেকে যে লিখিত অনুমতি এনেছেন সেখানে তারিখ দেয়া ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল। উনার সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই আমাদের ‘হৃদিতা’ ছবির ব্যাপারে।’

কিন্তু ‘ড্রিমগার্ল’র মহরতের সময় আলোচনায় এসেছিলো ছবিটির প্রযোজক মিজানুর রহমান এবং তার প্রযোজনাতেই ছবিটি ‘হৃদিতা’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত করবেন আপনারা। সেটি মিথ্যে ছিলো? জবাবে ইস্পাহানি বলেন, ‘দেখুন এখানে মৌখিকভাবে অনেক আলাপ হয়। প্রতিদিন প্রযোজকরা মৌখিকভাবে অনেক সিনেমার গল্প করেন, পরিচালক ও আর্টিস্ট ঠিক করেন। সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই লিখিত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত।

উনার সঙ্গে তো আমাদের কোথাও কোনো চুক্তি নেই। শিল্পীদের সঙ্গেও উনার কোনো চুক্তি নেই। কোনো কিছুর প্রমাণও নেই। তিনি কীভাবে দাবি করেন যে আমরা তাকে ঠকিয়েছি? উনি অকারণে আমাদের ভোগাতে চাইছেন। হ্যাঁ, তার সঙ্গে ছবি নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। বলা যায় মৌখিকভাবে উনি আমাদের প্রযোজকও। কিন্তু তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি হয়নি।’

‘তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। বিষয়টি আমরা আইনিভাবেই মোকাবিলা করবো’- যোগ করেন ইস্পাহানি।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে ‘বিদ্রোহী বধূ’ নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালনায় আসেন ইস্পাহানি আরিফ জাহান। এরপর লাট সাহেবের মেয়ে, শত্রু ধ্বংস, আমাদের সন্তান, আসলাম ভাইসহ একাধিক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন তারা। পরিচালনায় পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছেন তারা। তাদের মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ দুটি ছবি গুণ্ডা দ্য টেররিস্ট (২০১৫), নায়ক (২০১৮)।

দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে 'হৃদিতা' হতে যাচ্ছে ইস্পাহানি আরিফ জাহানের পরিচালনায় সরকারি অনুদানের প্রথম সিনেমা। জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হকের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এ ছবিটি ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সাধারণ শাখায় ৫৫ লাখ টাকা অনুদান পাচ্ছে। এখানে নাম ভূমিকায় দেখা যাবে পূজা চেরীকে। তার বিপরীতে আছেন এবিএম সুমন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ