প্রাণের সমাহারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাণের সমাহারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

খুবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:০১ ১৪ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৬:৩৪ ১৫ জানুয়ারি ২০২২

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির সমাহার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির সমাহার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পশুপাখিদের জন্য একটি আস্থার আবাসস্থল। দিনের কোলাহল শুরু হওয়ার আগে, ভোরে ক্যাম্পাসে বেরিয়ে পড়লে এখানে প্রাণের স্পন্দন আঁচ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পাওয়া কিছু প্রাণের ছবি ও বর্ণনা তুলে ধরেছেন খুবি প্রতিনিধি।

কাঠ শালিক: বিশ্ববিদ্যালয়ের তপন-সাইদুল-হুমায়ুনদের ঝুপড়ি দোকানগুলোর আঙিনায় পায়চারি করছিল এই পাখিটি। এক সময় বাংলাদেশে এই পাখিটি অনেক দেখা যেতো। কিন্তু বর্তমানে এরা বিলুপ্তির পথে। যেহেতু কীটপতঙ্গ ও ফল এদের প্রধান খাদ্য। ফলের গাছে কীটনাশক প্রয়োগ করায় তাদের পাকস্থলিতে সমস্যা হয়। এতে করে স্বাভাবিকভাবে তাদের যে আয়ুস্কাল তার আগেই পাখিগুলো মারা পড়ছে। এছাড়া পাখিগুলোর নিজেদের কোনো বাসা নেই। পুরনো ও বড় গাছ এবং জঙ্গল কেটে ফেলায় তারা আশ্রয় হারাচ্ছে। এসব কারণে পাখিগুলো দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে।

আরো পড়ুন: দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল হচ্ছে খুবিতে

কালো ফিঙে: বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে একটি গাছের ডালে বসেছিল এই ফিঙে পাখিটি। ‘রাজকীয় কাক’- নামেও পরিচিত এটি। নিজের আকারের চেয়ে বড় যে পাখি শিকারি চিল কিংবা বাজ তাদেরও তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই কোনো পাখিই সহজে ফিঙেদের ধারেকাছে ঘেঁষতে চায় না। সব সময়ই এড়িয়ে চলে।

কুবো: ভাস্কর্য অদম্য বাংলার সামনে একটি পুরনো গাছে বসেছিল বড় কুবো বা কানাকুয়োটি। শহরাঞ্চলে বিরল হলেও বনপ্রান্তে ও গ্রামাঞ্চলে এদের ঢের দেখা যায়।
চড়ুই: সারাদেশের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও এই পাখিটি সচারচর চোখে পড়ে। বিশ্বের কোথাও চড়ুইদের অবস্থা আশংকাজনক নয়। পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে তারা সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। তারপরও প্রকৃতিতে এদের টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছর ২০ মার্চ পৃথিবীব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব চড়ুই পাখি দিবস।

আরো পড়ুন: পরীক্ষায় অসদুপায়: খুবির ৬ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

তিনডোরা কাঠবিড়ালি: এই প্রজাতির কাঠবিড়ালি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহসাই চোখে পড়ে। ছবিটি ভাস্কর্য অদম্য বাংলার সামনে থেকে তোলা হয়েছে। এদেরকে প্রধানত পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায়।

সাতভাই ছাতারে: ক্যাফেটেরিয়ায় ওপরে ঘন গাছের ডালে বসে কে-কে ধ্বনিতে ডাকছিল পাখিটি। সাধারণত এই পাখিরা একসঙ্গে ছয়-সাতটি দলবেঁধে ঘুরে বেড়ায়। এরা দলে ছয় ভাই, আর একটি বোন থাকে। এরা বিভিন্ন পোকামাকড়-কীটপতঙ্গ খেয়ে বাঁচে।

আরো পড়ুন: র‌্যাগিংয়ের দায়ে খুবির ৫ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

বুলবুল: বাংলার শহর-নগর-গ্রামে-গঞ্জে প্রচুর পরিমানে বুলবুল দেখা যায়। বাংলা সাহিত্যের গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও লোকগাঁথায় বার বার এসেছে এ পাখিটির নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পেছনে ঘন গাছের ডালে উড়ে বেড়াচ্ছিল পাখিটি।

কাঠঠোকরা: প্রতিদিন একটি কাঠঠোকরা ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার বার কাঠে ঠোকর দেয়। এভাবে কাঠ ঠোকরানোর ফলে এরা খুঁজে পায় গাছের বাকলের খাঁজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পোকামাকড়দের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষনাগারের পাশে একটি গাছের কাঠে ঠোকর দিচ্ছিল পাখিটি।

আরো পড়ুন: ছোটো মাছের তরকারিতে মিললো পোকা

দোয়েল: বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েলের ক্যাম্পাসে সহজেই দেখা মেলে। ঘুরতে ঘুরতে এই পাখিটি ক্যাফেটেরিয়ায় ভেতরে ঢুকে একটি সাইকেলের ওপরে বসেছিল। ছবিটি সেখান থেকেই তোলা।

বাদুড়: পরিবেশ আর অর্থনীতি দুই দিক দিয়েই বাদুড় আমাদের অনেক উপকার করে। প্রাকৃতিক কীট-নাশকের ভূমিকা তো আছেই, সাথে ফুলের পরাগমিলন বা গাছের বীজ ছড়িয়ে দিতে বা প্রাকৃতিক সারের যোগান দিতে বাদুড়ের জুড়ি মেলা ভার। ক্যাম্পাসে লেকের পাশে বড় পুরনো গাছগুলোতে অনেক বাদুড়ের আবাস।

আরো পড়ুন: ৩১ বছরে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ

শালিক: বাংলা সাহিত্যে এ পাখিটির নাম বারবার এসেছে। এরা দলবেঁধে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে। গায়ক পাখি হিসেবে শালিকের সুনাম রয়েছে। তবে শালিক শুধু গায়ই না, ঝগড়াঝাঁটিও করে। অন্য পাখি, পশু ও মানুষের কথা অনুকরণেও শালিক দক্ষ।

মাছরাঙা: বাঁশের খুঁটিতে ওত পেতে থাকে মাছ শিকারি এই পাখি। সুযোগ মতো স্বচ্ছ জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিকারে। অনেকটা পানির ভেতর থেকে সুচালো ঠোঁটে ধরে আনে মাছ। তবে গাছের ডালে বসে শিকারকে গিলে ফেলার সেই দৃশ্য এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। নানা কারণে দৃষ্টিনন্দন শিকারি এ পাখির সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকের পাড়ে একটি ডালে শিকারের সুযোগে বসেছিল পাখিটি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম