জাহাঙ্গীরনগরে ৯১৭ প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ

জাহাঙ্গীরনগরে ৯১৭ প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ

জাবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০১ ২৬ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৬:৩৪ ২৬ জুলাই ২০২১

বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৫ গোত্রের ৫৭৪টি পরিবারের ৯১৭ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৫ গোত্রের ৫৭৪টি পরিবারের ৯১৭ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।

প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে একবার প্রজাপতির মেলা বসলেও উদ্ভিদের মেলা বসে বারোমাসেই। ষড়ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলায় এসব উদ্ভিদের রং-রূপ।  

রাজধানীর অদূরে লাল ইটে মোড়ানো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গেলেই দেখা মিলবে বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদের। পরিকল্পিত বনায়নের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন দেশের অনেক সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তুলনায় সমৃদ্ধ। যেখানে রয়েছে ১৪৫ গোত্রের ৫৭৪টি পরিবারের ৯১৭ প্রজাতির উদ্ভিদ। যার মধ্যে ৭০.৩৪ শতাংশ বনজ, ৬৩.৭৯ শতাংশ দেশীয় ও ৩৬.২১ শতাংশ বিদেশি প্রজাতির। এছাড়াও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দেশের বিপদাপন্ন বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে ১৫ প্রজাতির আবাসন।

আর এসব তথ্য জানা গেছে ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ‘উদ্ভিদকুল গঠন সম্পর্কিত’ একটি গবেষণার ফল বিশ্লেষণে। ‘ফ্লোরিস্টিক কম্পোজিশন অব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস- এ সেমি-ন্যাচারাল এরিয়া অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি গত ২৬ জুন বাংলাদেশ জার্নাল অব প্লান্ট ট্যাক্সোনমি’তে প্রকাশিত হয়। জার্নালটি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক সম্পাদিত।

গবেষণা কার্যক্রমটি সম্পাদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান, অধ্যাপক গাজী মোশারফ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক শায়লা শারমিন সেতু, প্রয়াত শিক্ষার্থী ও গবেষক শারমিন সুলতানা এবং টেকনিক্যাল অফিসার আব্দুর রহিম।

গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ প্রজাতির টেরিডোফাইট, ১২ প্রজাতির জিমনোস্পার্ম ও ৮৮৩ প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদ রয়েছে। তবে সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে ২৬৫ প্রজাতি একবীজপত্রী ও ৬১৮ প্রজাতি দ্বিবীজপত্রী। এর মধ্যে ২৩ শতাংশ বৃক্ষ, ৫৬ শতাংশ গুল্ম, ১৫ শতাংশ বিরুৎ, ২ শতাংশ আরোহী ও ১ শতাংশ বাঁশ প্রজাতির।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩.৭৬ শতাংশ উদ্ভিদ ঔষধি, ৩৪.৬৮ শতাংশ শোভাবর্ধনকারী, ৯.০৫ শতাংশ চারণ ও ঘাসজাতীয়, ৬.৭৬ শতাংশ ফলজ, ৬.৬৫ শতাংশ শাক-সবজি, ৫.০২ শতাংশ কাষ্ঠপ্রদায়ী ও ৩.৪৯ শতাংশ জ্বালানী প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।

গবেষণা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঔষধি উদ্ভিদের মধ্যে বাসক, কালমেঘ, শতমূলী, পুনর্ণভা, থানকুনি, ধুতুরা, কুরচী, তুলসী, অর্জুন, হরিতকি, বহেরা, নিশিন্দা, চন্দন ও কপূর উল্লেখযোগ্য। 

এদিকে বাংলাদেশ বন অধিদফতরের অধীনস্থ বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম কর্তৃক প্রকাশিত ‘রেড ডাটা বুক অব ভাসকুলার প্ল্যান্টস অব বাংলাদেশ’র তালিকায় দেশের বিপদাপন্ন বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে ১৫ প্রজাতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় ১২ প্রজাতির উদ্ভিদ। এছাড়া বাকি তিন প্রজাতি নিজ উদ্যোগে লাগানো হয়।

প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো উদ্ভিদগুলো হলো- তালিপাম, বন খেজুড়, ভূঁইডালিম, কালমেঘ, আগর, জালিবেত, সাচিঁবেত, করাকবেত, কদমবেত, মণিরাজ, তোসাবাক ও স্বর্পগন্ধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নিয়ন্ত্রিত বোটানিক্যাল গার্ডেন ও প্ল্যান্ট কনজারভেটরিতে এসব উদ্ভিদ সংরক্ষিত রয়েছে।

গবেষণার বিষয়ে অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, বাংলাদেশের ক্যাম্পাস ভিত্তিক উদ্ভিদ বৈচিত্র্য নিয়ে এ ধরণের গবেষণা পূর্বে হয়নি। চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার মাধ্যমে তাদের ক্যাম্পাসের উদ্ভিদের তালিকা করেছে। তবে উদ্ভিদ বৈচিত্র্য নিয়ে আমাদের আগে এমন গবেষণা কোন বিশ্বদ্যিালয় করেনি। আমরা ১০ বছর ধরে গবেষণাটির পেছনে নিরলসভাবে কাজ করেছি। গবেষণাপত্র সাবমিট করার পর কয়েকমাস পর্যালোচনা করে গত জুন মাসে প্রকাশিত হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম