বৃদ্ধাশ্রমে অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দিলো ‘বঙ্গবন্ধু আনন্দ আশ্রম’

বৃদ্ধাশ্রমে অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দিলো ‘বঙ্গবন্ধু আনন্দ আশ্রম’

ঢাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৯ ২৬ জুলাই ২০২১  

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, খুলনা, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, জামালপুর, গাইবান্ধা ও বরিশালের ১২টি বৃদ্ধাশ্রমে দুপুরে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, খুলনা, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, জামালপুর, গাইবান্ধা ও বরিশালের ১২টি বৃদ্ধাশ্রমে দুপুরে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু আনন্দ আশ্রম সেবা কার্যক্রম’ দেশের ১২টি বৃদ্ধাশ্রমে এক বেলা বিশেষ খাবার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। পাশাপাশি ‘মুজিববর্ষের স্লোগান, তিনটি করে গাছ লাগান’ এই স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে প্রতিটি বৃদ্ধাশ্রমে ১০টি করে ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেছে তারা। 

২০২০ সালের ২৫ জুলাই ‘স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছ মোদের অধিকার, আমরা নবীন নিশ্চয়ই হবো গর্বিত অধিকার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু আনন্দ আশ্রম সেবা কার্যক্রম’। নিজেদের কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে বছর পার করলো সংগঠনটি। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অপূর্ব চক্রবর্তী ও দীপম সাহার উদ্যোগে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম, ওষুধ, খাদ্য সামগ্রী, তাদের ব্যবহারের জন্য তোয়ালে এবং একটি টেলিভিশন বিতরণের মাধ্যমে এই স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্মটি যাত্রা শুরু করে। 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, খুলনা, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, জামালপুর, গাইবান্ধা ও বরিশালের ১২টি বৃদ্ধাশ্রমে দুপুরে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে চাল-ডালসহ খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 

হাইশুর বৃদ্ধাশ্রম থেকে যাত্রা শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি এখন পর্যন্ত দেশের ১২টি জেলায় অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে চাহিদামত ১৫-২০ দিনের খাদ্যসামগ্রী, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও প্রবীণদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করেছে। করোনা মহামারিতে বিভিন্ন বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর মাধ্যমে তাদের একাকী জীবনে মানবিক সঙ্গ দিয়েছে। সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিয়ে ‘টকিং কিউর’ পদ্ধতিতে তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তারা প্রতিটি জেলা ঘুরে ঘুরে সেবাদানের মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করছে। এই কাজের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি। দেশের বিভিন্ন স্তরের সচেতন নাগরিকদের এই শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়ে বৃদ্ধাশ্রমগুলোর সেবার মান বাড়াতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংগঠনটির অন্যতম উদ্যোক্তা অপূর্ব চক্রবর্তী অপু বলেন, করোনা সংকটে সমাজের অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দিকেও আমাদের নজর রাখা উচিৎ। তাদের কেউ আমাদের বাবা-মা কিংবা আমাদের আত্মীয়-স্বজন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের কথা মাথায় রেখে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে অবহেলিত এই মানুষগুলোর পাশে আমরা আমাদের জায়গা থেকে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি, যেটা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করি। নিজেদের ব্যক্তিগত সময় ও অর্থ ব্যয় করে আমরা বঙ্গবন্ধুর মানবিক আদর্শকে ধারণ করে এ কাজে করছি। 

সংগঠনটির আরেক তরুণ দীপম সাহা বলেন, করোনার এই দুঃসময়ে সুস্থ, স্বাভাবিক ও পরিবারের সঙ্গে থাকলেও মানুষের খারাপ লাগতেছে। সেখানে যাদের আপনজনও পাশে নেই তাদের ঝুঁকি তো সবচেয়ে বেশি। মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন ও মুজিববর্ষের সর্বোত্তম অঙ্গীকার।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম