পোশাকে ছবি এঁকে আয় করেন রাবি শিক্ষার্থী জিন্নাত

পোশাকে ছবি এঁকে আয় করেন রাবি শিক্ষার্থী জিন্নাত

আশিক ইসলাম, রাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৫ ২৪ জুলাই ২০২১  

শাড়ি, পাঞ্জাবি, ওড়না, কুর্তি, জামাসহ বিভিন্ন পোশাকে এমন সব নান্দনিক চিত্র আঁকেন মাতফাহাতুন জিন্নাত।

শাড়ি, পাঞ্জাবি, ওড়না, কুর্তি, জামাসহ বিভিন্ন পোশাকে এমন সব নান্দনিক চিত্র আঁকেন মাতফাহাতুন জিন্নাত।

শিল্পীর রংতুলির ছোঁয়ায় প্রাণ পায় মলিন ক্যানভাস। কখনো কখনো সেই ক্যানভাসের জায়গা দখল করে নেয় বিভিন্ন রঙের পোশাক। আর সেখানেই রংতুলির স্পর্শে ফুটিয়ে তুলেন নানান চিত্র। গ্রামের পুকুরে ফোটা পদ্ম, রাতের খোলা আকাশে উড়ে বেড়ানো ফানুস, মিউজিক গিটার, বর্ষার কদমগুচ্ছ, ভালবাসার লাল গোলাপ, পপি, বিদেশি চেরি ফুল। বাদ যায় না বাগানে উড়ে বেড়ানোর প্রজাপতিও। শাড়ি, পাঞ্জাবি, ওড়না, কুর্তি, জামাসহ বিভিন্ন পোশাকে এমন সব নান্দনিক চিত্র আঁকেন মাতফাহাতুন জিন্নাত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী জিন্নাত। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। করোনা মহামারির অবসরকে কাজে লাগিয়ে পোশাকে এভাবেই পেইন্ট করে আয় করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন অনলাইন বিজনেস প্লাটফরম ‘ঠাকুমার ঝুলি’। আর এখানেই বিক্রি করছেন হাতের তৈরি নানান ডিজাইনের পোশাক। পছন্দের মোটিফ আর বাহারি রঙ থাকায় ফ্যাশনে ভিন্নতা আনতে ক্রেতারা বেছে নিচ্ছে ছবিযুক্ত এমন পোশাক।

পেজের নাম ঠাকুমার ঝুলি কেনো? জিন্নাত বলেন, ছোটবেলায় টিভিতে কার্টুন দেখতাম ঠাকুমার ঝুলি। ঠাকুরমার ঝুলি প্রতিদিন নতুন নতুন সব মনোমুগ্ধকর গল্প নিয়ে হাজির হতো। তেমনিভাবে আমিও চাই আমার ঠাকুমার ঝুলি থেকেও নিয়মিত নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে হাজির হতে। সেই ভাবনা থেকেই পেজের এমন নাম দেয়া। 

শুরুর গল্প সম্পর্কে জিন্নাত বলেন, করোনার দীর্ঘ ছুটিতে অলস সময় কাটছিলো। ভাবলাম সময়টাকে নষ্ট না করে কাজে লাগানো উচিত। আমি যেহেতু চারুকলার শিক্ষার্থী পেইন্ট তো করতেই পারি। তাই গত রমজান মাসে শুরু করি কাপড়ে রংতুলি দিয়ে ছবি আঁকা। নিজের জমানো কিছু টাকা, আর মায়ের থেকে কিছু টাকা নিয়ে আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র কিনি। পেইন্ট করার জন্য ক্যানভাস হিসেবে বেছে নেই বিভিন্ন রঙের পোশাক। এভাবে মূলত শুরু হয়েছিলো।

আমার একাজে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে, সবসময় পাশে থেকেছে মা। এক বছর আগে আমার হাতে একটি অপারেশন হয়। যার কারণে অনেকদিন তুলি ধরিনি। ইচ্ছে হলো নিজে কিছু করি। তারপর ফেসবুকে একটি পেজ খুললাম। এতদিন পর রংতুলি নিয়ে বেশ আগ্রহ নিয়ে আঁকা শুরু করলাম। মা-বাবা দুজনেই এখন আমার কাজে বেশ খুশি। 

জিন্নাত বলেন, শাড়ি, কামিজ পিস, ওড়না, পাঞ্জাবি, কুর্তি, বাচ্চাদের জামা সহ প্রায় সব ধরনের পোশাকে পেইন্ট করে থাকি। রংতুলির সাহায্যে বিভিন্ন ছবি ফুটিয়ে তুলি। শুরুর দিকে তেমন সাড়া না পেলেও এখন বেশ সাড়া পাচ্ছি। কাজগুলো দেখে সবাই উৎসাহ দিচ্ছে। ঈদে বেশ কিছু কাজের অর্ডার পেয়েছি। সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে ডিজাইন করা পাঞ্জাবি।

চারুকলার এই শিক্ষার্থী আরো বলেন, একটি শাড়ি পেইন্ট করতে মোটামুটি ৬-৭ দিন লেগে যায়। সময় নির্ভর করে ফ্যাব্রিক আর ডিজাইনের উপর। সুতি বা হাফসিল্কের তুলনায় মসলিন কাপড়ে কাজ করতে সময় বেশি লাগে। পেইন্ট করা একটি পাঞ্জাবি দাম এক হাজার থেকে পনেরো শত টাকা, সুতি শাড়ি ১৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা, মসলিন শাড়ি পাঁচ হাজার থেকে নয় হাজার টাকা, মসলিন জামা এবং ওড়না চার হাজার টাকা। এসব ডিজাইন করা পোশাকের দাম নির্ভর করে ফ্যাব্রিকের দাম, রঙ খরচ, কুরিয়ার, ভাড়া, পরিশ্রমসহ আরো বিভিন্ন বিষয়ের উপর। করোনার জন্য পেইন্টের জিনিসপত্র অনলাইনে কিনতে হয়। যার কারণে খরচ অনেক বেশি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জিন্নাত বলেন, অল্প কয়েকদিন হলো কাজ শুরু করেছি। অনেক ইচ্ছে থাকলেও বেশির ভাগই করে উঠতে পারিনি। রেডিমেড কুর্তি, রাজশাহীর পিওর সিল্ক ও জামদানি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আছে। পেইন্টের কাপড়ে মানুষের বেশ চাহিদা রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই নিত্য নতুন ডিজাইনের পোশাক।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম