ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পারা ছেলেটিই আমেরিকা বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে

ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পারা ছেলেটিই আমেরিকা বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৪ ১০ জুন ২০২১   আপডেট: ১০:৪৮ ১১ জুন ২০২১

আশুতোষ আমেরিকার বোস্টন অঙ্গরাজ্যের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস’ এ পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন

আশুতোষ আমেরিকার বোস্টন অঙ্গরাজ্যের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস’ এ পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন

সাফল্যের পেছনের গল্পগুলো সবারই থাকে ভিন্ন। তবে চট্টগ্রামের ছেলে আশুতোষের চোখ ধাঁধানো সাফল্য সবাইকে চমকে দিয়েছে। যা একেবারেই অবিশ্বাস্য। তার এই অবিশ্বাস্য গল্পটি হলো, এইচএসসির পর পরীক্ষার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার টাকা ছিলো না। 

পরে টাকার অভাবে তার আর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া হয়নি। তবে আশুতোষ এসব বাধার পথ টপকেছেন। প্রকৌশল শাস্ত্রের জন্য জগৎবিখ্যাত আমেরিকার বোস্টন অঙ্গরাজ্যের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস’ এ পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন।

এ বিষয়টি প্রথমে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মাশরুফ হোসেন। তিনি তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘পোশাকে (uniform) থাকা অবস্থায় ওনাকে যদি কখনো দেখি, পুরো সামরিক কায়দায় স্যালুট দেব, এই ইচ্ছে রাখি। দশটা স্যালুটও কম হয় এরকম একজন গুণী ব্যক্তির জন্য।

এরপর বিস্তারিত বললেন আশুতোষ নিজেই। তিনি বলেন, একটি পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছিলাম। শুধু পরীক্ষা দেয়ার টাকা ছিল। ভর্তি হওয়ার টাকা জোগাড় করতে না পারায় সেখানে পড়া হয়নি। এরপর মনে এক জেদ এসে গেলো। হাল ছাড়িনি, পড়া চালিয়ে গেছি। 

সংসার চালাতে কত কিছুই না করেছেন ধাপে ধাপে। অনার্সে চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার একটি কম্পিউটারের দোকানে পার্টটাইম কাজ করতেন। পরে সংসার চালাতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কম্পিউটার কাম মুদ্রাক্ষরিকের চাকরি নেন। সরকারি এই চাকরিতে অনেক ব্যস্ততা থাকলেও আশুতোষ সব জয় করে নিজের মতো এগিয়ে গেছেন। পিএইচডিতে সুযোগ পাওয়ার পর শিক্ষাছুটি নিয়েছেন।

আশুতোষ বলেন, প্রত্যেকটি সফলতার পেছনেই একটি কষ্টের গল্প থাকে। তবে মানুষ যেভাবে আমাকে নিয়ে আলোচনা করছে, তাতে আমি অবাক। এটা এমন কিছু নয়। কত মানুষই তো পিএইচডি করে।

জন্ম ফটিকছড়িতে হলেও বড় হয়েছেন মানিকছড়িতে। মানিকছড়ি রানি নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১০ সালে মানিকছড়ি গিরি মৈত্রী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে রসায়নে বিএসসি করেন। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে রসায়নে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। 

এরইমধ্যে আশুতোষ গবেষণা বিষয়ে তিনটি আর্টিকেল আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। পিএইচডি করবেন মেডিসিন অ্যান্ড সিনথেটিক অরগানিক কেমিস্ট্রির ওপর।

আশুতোষ বিয়ে করেন ২০১৯ সালে। জীবনের নতুন ইনিংসে তার সতীর্থ হয়ে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন স্ত্রী গান্ধী দেবী। তার আগের দিনগুলোতে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে গেছেন বড় ভাই। পরিবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা দুইভাই, তিন বোন। আমি সবার ছোট। পরিবারের কেউ বেশি পড়ালেখা করেনি। আমার বড় ভাই-ই আমরা অনুপ্রেরণা। সব সময় উনি আমাকে সাহায্য করেছেন। করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম