ঝরা পাতার শূণ্যতা, সবুজ কুঁড়িতে পেলো পূর্ণতা

ঝরা পাতার শূণ্যতা, সবুজ কুঁড়িতে পেলো পূর্ণতা

আশিক ইসলাম, রাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২৪ ৭ এপ্রিল ২০২১  

রাবির প্যারিস রোডের পাশে ভিসির বাসভবনের সামনের রাস্তা

রাবির প্যারিস রোডের পাশে ভিসির বাসভবনের সামনের রাস্তা

রাস্তার দুপাশে দেবদারু গাছগুলো পাতা শূণ্য। জীর্ণশীর্ণ কংকালসার গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে। গাছের নিচে ঝরাপাতা গুলো সৃষ্টি করেছে বাদামী গালিচা। রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় পায়ের নিচে পড়া পাতাগুলো মর্মর ধ্বনি শুনাতো বিষাদের বাণী। এটা ছিলো বসন্তের শুরুর দিকে চিত্র। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে পাল্টে গেছে সে পরিবেশ। রাস্তার ধারে প্রাণহীনভাবে যে গাছগুলো দাঁড়িয়েছিল এখন সেখানে ভরে গেছে সবুজ কচি পাতায়। পত্রপল্লবে ভরে উঠছে নতুন ফুলে। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পাতাঝরা বসন্তের পরে সবুজের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা।

ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। এ যেনো বসন্তের পূর্ণ প্রতিচ্ছবি। কয়েকদিন আগেও যেখানে প্রকৃতিতে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। সেখানেই ফাগুনের শেষভাগে এসে প্রকৃতি যেনও একেবারে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এ যেনো ঝরাপাতার শূণ্যতা, সবুজ কুঁড়িতে পূর্ণতা পেয়েছে।

চারদিকে পাখিদের কলতান। ফুলে ফুলে পুষ্পরস সংগ্রহ করতে প্রজাপতি আর মৌ-মাছিদের আপন গতিতে ছুটে চলা। কচি পাতার ফাঁক থেকে লাজুক কোকিলের মন ভুলানো কুহু কুহু ডাক আর ঘুঘু পাখির কুরু কুরু শব্দে রঙিন হয়ে ওঠেছে ক্যাম্পাসের স্বপ্ন হাওয়া। একটু দূর থেকে ভেসে আসছে ঝিঝি পোকার ডাক। এক চিলতে বসন্তের রোদ পড়ে গাছের কচিপাতা চিকচিক করছে। যেনো পাতাগুলো দুর্লভ হীরা টুকরোর চেয়েও দামি। ব্যাকরণের কোনো উপমা দিয়ে এই সৌন্দর্য লিখে বোঝানো সম্ভব নয়।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর, লিপু চত্বর, প্রেমবঞ্চিত চত্বর, আমতলা, শেখ রাসেল চত্বর (ইবলিশ), বধ্যভূমি, পশ্চিমপাড়া আবাসিক এলাকাসহ আশেপাশের মেহগনি বাগানের গাছগুলো সবুজ কচিপাতায় ভরে গেছে। প্যারিস রোডের সুউচ্চ গগণশিরিষ গাছগুলোর চিরল কচিপাতা অপরূপ ভাবে সেজেছে। বধ্যভূমির পাশে বিস্তৃত ধানক্ষেত হালকা বাতাসে সবুজের দোলা দিচ্ছে। জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, গগণ শিরিষ, আকাশমণি, বহেরা, আমলকি, বন কাঠালি, তমাল, হিজল, কামরাঙা, জলপাই, পলাশ, জামরুল, কামিনী, নাশপাতি, আমড়া, শিশু গাছ, দেবদারু, আকন্দ, অশ্বত্থসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলো নতুন কুঁড়িতে পূর্ণ। আবার কোন কোন গাছে শোভা পাচ্ছে নানান রঙের ফুল।

করোনা মহামারীর কারণে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় শূণ্য ক্যাম্পাস নিজেকে সাজিয়েছে তুলেছে আপন মহিমায়। পথে চলতে চলতে ক্যাম্পাসের এমন সৌন্দর্য নজর কাড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ছবি তোলার পাশাপাশি তা অনেকেই প্রচার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর তাতেই নস্টালজিকতায় চলে যাচ্ছে বাড়িতে থাকা শিক্ষার্থীরা। জাকির হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তপ্ত দুপুরে ক্লাসের ফাঁকে প্রেয়সীর সাথে জমানো আড্ডার স্মৃতি নস্টালজিকতায় ভুগছি। ভালো থাকুক স্মৃতিগুলো।’ আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘অনেকদিন পর চেনা পথ চেনা জায়গা দেখলে আবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে ফেলে আসা সেই দিনগুলোতে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা নওশিন তিতলি। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বরাবরই অপরূপ সৌন্দর্যে মহিমান্বিত। সেই সঙ্গে ঋতুরাজ বসন্ত যেন তার সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে। শীতে পাতাঝরা বৃক্ষগুলো এখন সবুজে রূপান্তরিত হয়ে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। দীর্ঘ বন্ধে নিরব প্রকৃতি সেজে উঠেছে আপন সৌন্দর্যে। কিন্তু ক্যাম্পাসের প্রকৃতি সরব থাকলেও শিক্ষার্থীদের অভাবে কেমন যেন নিস্তদ্ধ হয়ে আছে চারদিক। একটি ক্যাম্পাসের প্রকৃতির সাথে শিক্ষার্থীরা কতোটা জড়িয়ে থাকে সেটা এখন ক্যাম্পাসে না গেলে হয়তো কখনও বুঝা যাবে না। দূর্যোগ কেটে গেলে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আবারও কানায় কানায় পূর্ণ হবে সেই প্রত্যাশা।

রাবির দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দিক বিল্লাহ বলেন, সকল প্রকার কোলাহলমুক্ত ক্যাম্পাস এটি। একটু মানসিক প্রশান্তির জন্য সকাল কিংবা বিকেল-সন্ধ্যা যখনই ক্যাম্পাসে আসি মনের মাঝে অন্যরকম ভালো লাগা বিরাজ করে। বসন্তের শেষ ভাগে এসে নিরিবিলি ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গাছে গাছে নতুন সবুজ কচিপাতা, বৃক্ষ, লতা, ফুল অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই ভালো লাগার মাঝেও কাজ করছে শূণ্যতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম