অপরিচ্ছন্ন চবি ক্যাম্পাস: দেখার যেন কেউ নেই!

অপরিচ্ছন্ন চবি ক্যাম্পাস: দেখার যেন কেউ নেই!

চবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ১৬ জানুয়ারি ২০২১  

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলায় ক্যাম্পাসের চারপাশের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলায় ক্যাম্পাসের চারপাশের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। দেশের অন্যতম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু ইদানীং সেই সৌন্দর্যে ভাটা পড়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা আর উচ্ছিষ্ট। ফলে দুর্গন্ধময় পরিস্থিতি ম্লান করে দিচ্ছে সুবিশাল ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে। 

দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা। জিরো পয়েন্ট, শহিদ মিনার ও বুদ্ধিজীবী চত্বর সেই সঙ্গে অনুষদগুলোর ঝুপড়ির আশেপাশে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে সেখান থেকে।

সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলায় ক্যাম্পাসের চারপাশের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। এমনকি ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য পর্যাপ্ত লোকবলও নিয়োগ করেনি প্রশাসন। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কয়েকটি ডাস্টবিন স্থাপন করলেও ছাত্র কিংবা শিক্ষক কেউই ব্যবহার করছেন না সেগুলো। প্রশাসনের অবহেলা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাবে নোংরা আবর্জনায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার এই ক্যাম্পাসটি নিয়েছে মলিন রূপ।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি আদিব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটা অনেক সুন্দর। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ মোহনীয়। তবে জিরো পয়েন্টের নালাসহ প্রায় সবগুলো নালা-ই নোংরা। আর ক্যাম্পাসজুড়ে ময়লা ফেলার ডাস্টবিনের খুব অভাব।’

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ। ইদানীং কিছু বিভাগের পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়া আছে, তবুও ঘুরতে বের হলে বহিরাগতদের অবাদ বিচরণে নিজেকেও বহিরাগত মনে হয়! তার উপর বহিরাগতদের সাইকেলের গতি আর যেখানে সেখানে ময়লা ফেলার দৃশ্য দেখলে খুবই খারাপ লাগে। এসব সমস্যার সমাধানে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে, নতুবা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য হারাতে থাকবে। 

লোকপ্রশাসন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সজীব হোসেন বলেন, এত বড় ক্যাম্পাসে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য কোনো লোকবল নাই বিষয়টি দু:খজনক।  

পরিবেশ বিষয়ক গবেষক ড. খালেদ মেসবাউল্লাহ বলেন, ‘এসব ময়লা আবর্জনা পরিবেশের উপর অত্যন্ত বিরূপ প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বর্জ্যসমূহের একটা বড় অংশ পলিব্যাগ ও প্লাস্টিক সামগ্রীর দখলে। যা মাটির মারাত্মক ক্ষতি করে। এসব বর্জ্য মানুষসহ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি।’

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে ডাস্টবিনের অভাব থাকলেও যা রয়েছে সেগুলোই ব্যবহার করছে না শিক্ষার্থীরা। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। যেহেতু এটা সবার বিষয়। এক্ষেত্রে কাউন্সিলিং ভালো ভূমিকা পালন করতে পারে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, বিশাল আয়তনের ক্যাম্পাস আমাদের, অনেক মানুষের বসবাস রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ দেখতে আসেন যেকারণে কিছু ময়লা হচ্ছে। স্থানীয় লোকদের কিছু দোকান আগে থেকেই আছে। তবুও আমরা পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখবো। তবে বহিরাগতদের ব্যাপারে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি,প্রধান ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সব গাড়ি,সাইকেল প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম