অতিথি পাখির দখলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অতিথি পাখির দখলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৬ ২৮ নভেম্বর ২০২০  

জেঁকে বসার আগেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দখলে নেয় অতিথি পাখিরা

জেঁকে বসার আগেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দখলে নেয় অতিথি পাখিরা

হেমন্তের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে মৃদু শীতের আমেজ। সকাল ও সন্ধ্যায় দৃষ্টি প্রসারিত করলেই শ্বেতশুভ্র কুয়াশার রেখা। দূরদিগন্ত থেকে ভিনদেশি পাখি উড়ে আসার এই তো সময়। শীত জেঁকে বসার আগেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দখলে নেয় অতিথি পাখিরা। এবারো কথা রেখেছে তাই। উত্তরের শীতল বাতাসে ভর করে পাড়ি জমিয়েছে দূরের তবু চেনা এই রাজ্যে।

প্রতিবছর অক্টোবরের শুরুতে শীতপ্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, হিমালয়ের পাদদেশ, চিনসহ এদেশেরই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উড়ে আসে এই পরিযায়ী পাখিরা। তীব্র শীত ও খাদ্যাভাব থেকে বাঁচার জন্যই তাদের আগমণ। শীতের আমেজ শেষ হওয়া অবধি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য জলাশয় দখলে থাকে এই অতিথিদের।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ এই বন্ধে শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাস এখন নীরব-নিস্তব্ধ। আর কোলাহল ও মানুষের উৎপাতের অনুপস্থিতিকেই যেন সুযোগ করে নিয়েছে পাখিরা। ক্যাম্পাসের স্থল, জল আর আকাশকে নিজেদের করে নিয়েছে এরা। প্রকৃতি আর পাখিদের কলতান দিনভর মুখর করে রেখেছে সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক ও পরিবহন চত্বর সংলগ্ন লেকে এবার পাখির উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের লেক ও সুইমিপুল সংলগ্ন জয়পাড়া লেকে পাখির আগমণ ঘটেছে।

এ বছর বেড়েছে পাখির সংখ্যা ও প্রজাতি। গত বছরের ডিসেম্বরে পাখি শুমারিতে ক্যাম্পাসে ৫ হাজারের কিছু বেশি পাখি এসেছিল বলে রেকর্ড করা হয়। তবে এবার শুরুতেই ৫ হাজারের মতো পাখি এসেছে বলে প্রাথমিক শুমারিতে জানা গেছে। একই সঙ্গে গতবছর ৫ প্রজাতির পাখির আগমন ঘটেছিল। তবে এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি লেকে ৮ প্রজাতির পাখি এসেছে।

প্রজাতিগুলো হলো- নাকতা হাঁস, খুনতে হাঁস, জিরিয়া হাঁস, ভুতি হাঁস, লেঞ্জা হাঁস, পাতারি হাঁস, আফ্রিকান কম্বডাক, ছোট সরালি ও বড় সরালি। এর মধ্যে ছোট সরালি দেশের হাওড় অঞ্চল থেকে আসে। সাইবেরিয়া, নেপাল, চীন, ভারতের আসাম, অরুনাচল অঞ্চল থেকে আসে বড় সরালি জাতের পাখিরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলোতে ১৯৮৬ সাল থেকে পরিযায়ী পাখি আসছে। এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ২০৪ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে এই ক্যাম্পাসে। এগুলোর ১২৬টি দেশি ও ৭৮টি বিদেশি প্রজাতির।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, এ বছর বেশি সংখ্যক পাখি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশি পাখি দেখা যায়। তবে বিগত বছরগুলোতে ডিসেম্বরে যে পরিমাণ পাখি এসেছিল, এবার নভেম্বরেই আমরা সেই সংখ্যক পাখি দেখতে পেয়েছি।

এছাড়া ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এ বছরে পাখি মেলার আয়োজনের সম্ভাবনা কম বলেও জানান এই অধ্যাপক।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম