গবেষণায় অনন্য উচ্চতায় ড. তারিক

গবেষণায় অনন্য উচ্চতায় ড. তারিক

জাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৭ ২৮ নভেম্বর ২০২০  

বাংলাদেশের তরুণ গবেষক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম

বাংলাদেশের তরুণ গবেষক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম

বিশ্বের মানুষদের জন্য এ বছরটি সুখকর নয়। করোনাভাইরাস বাধাগ্রস্ত করেছে জীবনের প্রত্যেক দিন। এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ গবেষক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের জন্য এই বছরটি কেটেছে ভিন্নভাবে। তার জন্য এই বছরটিই হয়ে উঠেছে স্মরণীয়।

কঠোর পরিশ্রমের ফলে তিনি অর্জন করেছেন একাডেমিক মাইলফলক এবং চমৎকার সব পুরস্কার। এমনকি কোভিড-১৯ এর সময় তার গবেষণার ফলে তিনি হয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাময় স্কলার্স।

ড. তারিকুল ইসলাম জানান, কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও যেসব গবেষণা কাজ আমি হাতে নিয়েছি সেগুলি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম স্কলার হয়ে উঠতে আমাকে সাহায্য করেছে। ‘লোকাল গভঃমেন্ট ইন বাংলাদেশ : কনটেমপোরারি ইস্যুস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ বিষয়ে আমার লেখা ‘রাউটলেজ’ প্রকাশ করতে চলছে যখন জাতিসংঘ এসডিজির এনসাইক্লোপিডিয়ায় দ্বি-চ্যাপ্টারের অবদান ‘স্প্রিঞ্জার’ প্রকাশ করেছে।

কোভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকে ড. তারিকুল ইসলাম ৩৫টির বেশি আর্টিকেল লিখেছেন। যা বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভারতে বিভিন্ন ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। এছাড়া বিশ্বের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

ড. তারিক বলেন, আমি এলএসই, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজসহ বিভিন্ন একাডেমিক ব্লগে নিয়মিত লিখছি। এছাড়া ‘কোভিড-১৯ ইন সাউথ এশিয়া : ইট’স ইমপ্যাক্ট অন সোসাইটি, ইকনোমিকস অ্যান্ড পলিটিকস’ বিষয়ে দু’জন তরুণ স্কলারের সঙ্গে বর্তমানে কাজ করছি। আমাদের প্রত্যাশা এটি টেইলর এবং ফ্রান্সিস থেকে প্রকাশিত হবে।

এদিকে গবেষণায় ড. তারিকুল ইসলামের অবদানের জন্য এবং ২০টিরও বেশি আর্টিকেল এবং ৫টি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে নেপালের জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক খবরহাব। এছাড়া খবরহাব আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে ২০২০ সালের সেরা লেখক সম্মাননায় ভূষিত করেছেন ড. তারিককে।
 
ড. তারিকুল এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পূর্বে জাতিসংঘে দীর্ঘ সাত বছর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এছাড়া তিনি ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেপালের ত্রিভূবন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্লগ এবং নয়াদিল্লিভিত্তিক পলিসি ওয়েব জার্নাল ‘সাউথ এশিয়া মনিটর’ এ নিয়মিত লেখক হিসেবে অবদান রাখছেন।

তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার। তারিকুল ইসলাম বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষক হিসেবেও অবদান রাখছেন। সুশাসন ও উন্নয়ন বিষয়ে বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয় ‘লোকাল গভর্মেন্ট, সেন্টার ফর সোশ্যাল হারমোনি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক অনলাইন মাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকস অ্যান্ড পলিটিকাল সায়েন্সের (এলএসই) দক্ষিণ এশিয়া ব্লগের নিয়মিত লেখক এবং সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষিণ এশিয়ান স্টাডিজের ইনস্টিটিউট থেকে ড. তারিকুলের ৩০টিরও বেশি প্রকাশনা রয়েছে যার বেশিরভাগ আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তার সম্পাদিত বই ‘হিউম্যান সিকিউরিটি, পিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট: সাউথ এশিয়ান পার্সপ্রেসিভ’ জুলাই ২০১৮ সালে ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।

ড. তারিক বলেন, ‘আমি কেমব্রিজ, এলএসই, এসওএএস এবং অক্সফোর্ডে বেশ কয়েকটি বক্তৃতা, সেমিনার এবং কর্মশালায় অংশ নিয়েছি। আমি বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টারে বিভিন্ন কোর্স (এসএসসি, এসিএডি) এর গবেষণা গাইড হিসাবেও কাজ করি।’

সম্প্রতি বেঙ্গালুরু, দুবাই এবং লন্ডন থেকে একসঙ্গে প্রকাশিত ‘হায়ার এডুকেশন ডাইজেস্ট’ (গ্লোবাল হায়ার এডুকেশন ম্যাগাজিন) এবং নেপালের জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক খবরহাব তার একাডেমিক কৃতিত্বের কথা তুলে ধরে একটি ফিচার প্রকাশ করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম