চবি শিক্ষার্থীদের মেসে বাড়ছে চুরি, মালিকদের যোগসাজশের অভিযোগ 

চবি শিক্ষার্থীদের মেসে বাড়ছে চুরি, মালিকদের যোগসাজশের অভিযোগ 

চবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪২ ২৬ অক্টোবর ২০২০  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার পর সবার মতো দীপও চলে যান গ্রামের বাড়ি। তার পুরো নাম সারোয়ার আলম দীপ। পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষে। ভাড়া থাকেন ক্যাম্পাসের পাশে নজরুল কটেজে। তাও তিন বছর ধরেই আছেন সেখানে 

এতোদিন কোনো সমস্যার মুখোমুখি না হলেও ধাক্কা খেলেন করোনার ছুটিতে গিয়ে। ২১ অক্টোবর কটেজে এসে দেখেন রেখে যাওয়া গিটার, তিনটি নতুন পেনড্রাইভ, কার্বলিক এসিডের দুটো বোতলসহ অনেক কিছু নেই। এছাড়াও দুটি তবলা, টেবিল ফ্যান, লাইট ভেঙে রাখা, বিছানা চাদর, চারটা পাঞ্জাবিও ছেঁড়া। তবে ঠিকঠাক ছিলো বই-খাতা, নোট, সার্টিফিকেট, সার্টিফিকেট, মার্কশিটসহ সবকিছু। 

এ ঘটনা কটেজ মালিককে জানালে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। যদিও দীপের সন্দেহ কটেজ মালিকের যোগসাজশেই এমনটা হয়েছে।

দীপ ছাড়াও এমন অভিযোগ করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কটেজে থাকা আরো অনেকেই। সবার অভিযোগ একটাই কটেজে হচ্ছে চুরি। অনেক শিক্ষার্থী চুরির ভয়ে কটেজ ছেড়ে দিচ্ছেন।  

এসব অভিযোগ আরো জানতে কথা হয় শিরিণ আক্তার ও সৈয়দা সাদিয়ার সঙ্গে। শিরিণ পড়ছেন রসায়ন বিভাগে, সাদিয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। দুই বান্ধবী থাকেন চবি সাউথ ক্যাম্পাসের পাহাড়িকা হাউজিং সোসাইটির কামাল উদ্দিন ভবনের চতুর্থ তলায়। 

৩০ সেপ্টেম্বর শিরিণ আক্তার বান্দরবান এবং ১ অক্টোবর সাদিয়া রহমান কক্সবাজারে ভ্রমণে যান। ২ অক্টোবর সাদিয়া বাসায় ফিরে দেখেন ভেতরের জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো। পরে দেয়ালে ঝোলানো তার ব্যাগ খুলে দেখেন, সেখানে রাখা ১১ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের আংটি ও নগদ কিছু টাকা নেই। 

এ ঘটনা শোনার পর শিরিণ এসে দেখেন তার ট্রলিব্যাগে রাখা একটি স্বর্ণের চেইন, একটি লকেট, দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি ডায়মন্ডের নাকফুল ও নগদ কিছু টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে এক লাখ দুই হাজার ৩০০ টাকার মালামাল খোয়া যায় শিরিণের। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, কটেজ বা বাড়ি মালিকদের যোগসাজশেই ঘটেছে এসব চুরির ঘটনা। চুরির ঘটনা বাড়ি মালিকদের জানালে তারা তো কোনো প্রতিকার করেনই না, উল্টো হুমকি ধমকি দেন শিক্ষার্থীদের। কটেজ মালিকদের অনেকে এসব ঘটনাকে পাশ কাটান হাস্যকর নানা কথা বলে। কেউ বলেন এগুলো বিড়ালের কাজ, কেউবা বলেন শত্রুদের কাজ, আবার কেউ বলেন ছাত্রলীগের কাজ। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, প্রশাসন অনেক চাপাচাপি করে ৪০ শতাংশ ছাড় নিয়েছে। এখন দারোয়ান রেখে শিক্ষার্থীদের মালামাল পাহারা দেয়া সম্ভব না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে। আর শিক্ষার্থীরা যেন তাদের মালামাল নিয়ে যায়। তাদের বলা আছে কোথাও গেলে যেন মূল্যবান জিনিস কটেজে না রাখে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া বলেন, ‘এ ঘটনাগুলো যেহেতু কটেজে ঘটছে সেহেতু এর দায় কটেজ মালিকদের। শিক্ষার্থীরা কটেজে থাকুক বা না থাকুক, শিক্ষার্থীদের মালামাল নিরাপদে রাখার দায়িত্ব তাদের।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম