গবি ছাত্রীর সঙ্গে রেজিস্ট্রারের অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস 

গবি ছাত্রীর সঙ্গে রেজিস্ট্রারের অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস 

গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২১ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রীর অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এ সংক্রান্ত ২৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ডিং ডেইলি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত আছে।

মঙ্গলবার গোপনসূত্রে এ রেকর্ডিংয়ের ব্যাপারে জানা যায়। এতে রেজিস্ট্রার ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল কথাবার্তা বলেন এবং অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। 

অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জানা যায়, রেকর্ডিংটি করোনার আগের। অডিও ক্লিপ ফাঁস হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

প্রাপ্ত রেকর্ডিংয়ে রেজিস্ট্রার ওই ছাত্রীকে বলেন, হালকা কিস দেয়া, বুকে নেয়া, তেমন কিছু নাহ্! তেমন কিছু কী? আমি কত আগ্রহ নিয়ে আসছি। একাডেমিক ভবনে মিটিং রেখে তাড়াতাড়ি চলে আসছি। তোমার বোঝা উচিত ছিল লোকটা তাড়াহুড়ো করে আসছে। একটু আদর দিয়ে দেই। নদীর পাড়ে বসবো, শেখাবো। এরপর রুমে রেস্ট নিবো। কিছু ঘটবে। দুটো মানুষ একসঙ্গে রেস্ট নিলে তো কিছু ঘটবার সম্ভাবনা থাকে! নাহ!'

রেকর্ডিংয়ে রেজিস্ট্রার যৌন সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে ওই ছাত্রীর উদ্দেশে বলেন, একটা যুবক-যুবতী যদি এক সঙ্গে থাকে, তখন কি হয় তুমি বুঝো না?  ভালোবাসা গভীর হয়। একটা আত্মা আরেকটা আত্মার সঙ্গে মিশে যায়। সে সুখ স্বর্গীয় সুখ, যেটা কিনতে বা খেতে পাওয়া যায় না। 

ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে তিনি আরো বলেন, কবে যাবা? আগামী অক্টোবর ৬/৭ তারিখের দিকে। আমরা সকালে যাবো বিকেলে ফিরে আসবো। আমার গাড়ি আছে সমস্যা হবে না। এছাড়া রেজিস্ট্রার যৌন সম্পর্কের বিষয়ে ওই ছাত্রীকে এমন কিছু কথাবার্তা বলেন, যা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়।

এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো.  নজরুল ইসলাম রলিফ বলেন, আমরা কল রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবো। তাদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানবো। যদি সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীবান্ধব না হয়, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।

ঘটনার বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে ফোন কলের কারণ দেখিয়ে খুদেবার্তা পাঠালেও তার কোনো উত্তর দেননি। 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লায়লা পারভীন বানুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কোনো বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। 

এ প্রসঙ্গে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে জানতে চাইলে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা কি করবো, সেটা আপনারা বলে দিবেন নাকি? যা প্রয়োজনীয় করছি। আপনারা যা ভালো মনে হয়, করেন। এটা নিয়ে বেশি নাক গলানো ঠিক না। আমাদেরকে প্রশাসন চালাতে দেন। এসব আজগুবি কাহিনী ছাপিয়ে নিজেদের ঝামেলা বাড়াবেন না।

ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তার বিরুদ্ধে ডকুমেন্ট আছে। তিনি থাকছেন না, এটা নিশ্চিত। আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে সব তথ্য একত্র করে ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত নেব।

২০১৭ সালেও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ ইউজিসিতে দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তখন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানায় ইউজিসি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নারী শিক্ষককে রেজিস্ট্রার নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ