ভাসমান ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে রিটেইল অ্যাকাউন্টে লেনদেনের সুযোগ

ভাসমান ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে রিটেইল অ্যাকাউন্টে লেনদেনের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৮ ১৭ নভেম্বর ২০২০  

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

ভাসমান ব্যবসায়ী ব্যক্তিকেও অ্যাকাউন্ট খুলে ছোট আঙ্গিকের ব্যবসায়িক লেনদেনের সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে নির্দিষ্ট স্থান, দোকান বা ট্রেড লাইসেন্সও নেই- এমন ব্যবসায়ীদের রিটেইল অ্যাকাউন্ট খুলে সেবা দিতে ব্যাংক, এমএফএস ও ই-ওয়ালেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালা দেয়া হয়েছে। 

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, শ্রম নির্ভর অতিক্ষুদ্র বা ভাসমান, প্রান্তিক পর্যায়ের বিক্রেতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজস্ব তৈরি পণ্য বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারীর নামে ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে এবং সেটির মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন করা যাবে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবসায়িক লেনদেনের সুযোগ নেই। কেননা ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক লেনদেনের নির্দিষ্ট একটি সীমা ও সংখ্যা উল্লেখ থাকে।

কীভাবে লেনদেন হবে সে বিষয়ে নীতিমালায় বিস্তারিত উল্লেখ করে বলা হয়, ব্যাংক ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তির বিদ্যমান চলতি অ্যাকাউন্ট থেকেও রিটেইল ব্যাংকিং সুবিধা দেয়া যাবে। যাদের চলতি অ্যাকাউন্ট নেই তারাও নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে এ ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। চলতি এ অ্যাকাউন্টের জন্য কোনো লেনদেন সীমা প্রযোজ্য হবে না। 

তবে ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে খোলা অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে মাসিক ১০ লাখ টাকা লেনদেন করা যাবে। অন্যদিকে অ্যাকাউন্টে এককালীন সর্বোচ্চ স্থিতি ১০ লাখ টাকা অতিক্রম করতে পারবে না।

দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা-সেবা প্রদানকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে বিদ্যমান ব্যাংকিং কাঠামোতে ব্যবসায়িক লেনদেন করার ক্ষেত্রে তাদের জন্য ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্ট খোলা কষ্টসাধ্য। এ ধরনের ব্যবসায়ী ও সেবা প্রদানকারীরাও যাতে তাদের লেনদেনের অর্থ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারেন, সেজন্য এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপভিত্তিক লেনদেনের ব্যবহার, দেশব্যাপী প্রসারিত মোবাইল ও ইন্টারনেট অবকাঠামো, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাখাতে প্রযুক্তিগত উন্নতি, সর্বজনীন কিউ-আর ও ই-কেওয়াইসি প্রচলনের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে এমন সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে রিটেইল অ্যাকাউন্টের সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে গ্রাহকের পেশা ও এ ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলার যোগ্যতা বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। গ্রাহকের ঝুঁকি অনুসারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা পেশাজীবী সমিতি প্রদত্ত গ্রাহকের পেশার সত্যায়ন নিতে হবে। সব ক্ষেত্রে এজেন্টের মাধ্যমে নিজস্ব কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে অথবা নিয়োগ করা প্রতিনিধির মাধ্যমে এ অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

নীতিমালায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার (এমএফএস) থেকে ব্যক্তির রিটেইল অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে সাধারণ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি একই এনআইডির বিপরীতে নতুন এমন অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে।

এ ক্ষেত্রে কেওয়াইসি পরিপালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। তবে এ ধরনের অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ-ইন, ফান্ড ট্রান্সফার, অ্যাড মানি করা যাবে না। এক্ষেত্রে ব্যক্তি থেকে দিনে ৩০ হাজার এবং মাসে পাঁচ লাখ টাকা নেয়া যাবে। 

অন্যদিকে রিটেইল থেকে রিটেইল ও মার্চেন্ট থেকে রিটেইলের ক্ষেত্রে দিনে ৩০ হাজার ও মাসে তিন লাখ টাকা লেনদেন করা যাবে। রিটেইল থেকে রিটেইল বা মার্চেন্ট পরিশোধ করার ক্ষেত্রে দিনে ২০ বারে ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে ২০০ বারে সাড়ে চার লাখ টাকা দেয়া যাবে। সেন্ড মানির ক্ষেত্রে রিটেইল থেকে ব্যক্তিকে দিনে পাঁচবারে ১০ হাজার এবং মাসে ৩০ বারে এক লাখ টাকা পাঠানো যাবে। ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে দিনে পাঁচবারে ২০ হাজার এবং মাসে ৩০ বারে তিন লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে।

ই-ওয়ালেট সেবাদাতা বা পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের ক্ষেত্রেও গ্রাহকের পেশা, এ-ধরনের হিসাব খোলার যোগ্যতা এবং গ্রাহকের রেজিস্ট্রিকৃত মোবাইল নম্বরের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ